মেইন ম্যেনু

দাঁড়কাক সম্পর্কে ১০টি তথ্য, আপনার বিশ্বাস করতে কষ্ট হবে

এক সময়ে দাঁড়কাকের আওয়াজেই ট্রেনের ঘুমন্ত বাঙালি টের পেতেন বাংলাদেশ পেরিয়ে রেলগাড়ি ‘পশ্চিমে’ প্রবেশ করেছে। আর সাহেবদের জগতে দাঁড়কাক নিয়ে এত বেশি আদিখ্যেতা রয়েছে যে, লিখে শেষ করা যাবে না। এডগার অ্যালান পো স্বয়ং তাঁর কবিতায় অমর করে রেখেছেন ‘র‌্যাভেন’ তথা দাঁড়কাককে। সত্যি বলতে, দাঁড়কাক এক আজব প্রাণী। তার কর্মকাণ্ড জানলে তাজ্জব হয়ে যেতে হয়। এখানে উল্লিখিত হল তারই কয়েকটি।

১. দাঁড়কাক বিশ্বের অন্যতম বুদ্ধিমান প্রাণী হিসেবে বিবেচিত। তাদের অসংখ্য কর্মকাণ্ডে এই তথ্য বার বার প্রমাণিত।

২. দাঁড়কাক মানুষের গলা নকল করতে পারে। অনেক সময়ে তা তোতাপাখির চাইতেও চমৎকার হয়।

৩. পিঁপড়ে দেখলে দাঁড়কাক আশ্চর্য আচরণ করে। পিঁপড়ের ঢিপিতে সে গড়াগড়ি খায়। পিঁপড়ে মেরে মরা পিঁপড়ে গায়ে মাখে। পক্ষীবিদরা একে ‘অ্যান্টিং’ বলেন। এর দ্বারা তারা নাকি গায়ের পোকা মারে।

৪. দাঁড়কাক তাদের ‘হাত’ দিয়ে বিশেষ কিছু ভঙ্গিমা করতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তারা কমিউনিকেট করতেই এমনটা করে। এখানে মানুষের সঙ্গে তাদের দারুণ মিল।

৫. দাঁড়কাক পোষ মানে। যে কোনও জায়গায় তারা থাকতে পারে। খাওয়ার ব্যাপারেও তারা বিরাট উদার। খুব কম জিনিসই রয়েছে, যা তারা খায় না। তারা দীর্ঘ দিন বাঁচেও। পোষা দাঁড়কাক ৪০ বছর বেঁচেছে এমন উদাহরণ ভুরি ভুরি রয়েছে।

৬. বন্ধু আর শত্রুকে দাঁড়কাক ভালই চেনে। কোনও পাখির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব হলে সে তাকে অনেক সময়েই প্রোটেকশন দেয়। তিন বছর দেখা হয়নি, এমন বন্দু পাখিকেও দাঁড়কাক পরে চিনতে পারে।

৭. দাঁড়কাক খেলতে ভালবেসে। তারা খেলার জন্য নিজেরাই খেলনা তৈরি করে নেয়। কাঠি, গলফ বল, পাথরের টুকরো ইত্যাদি সংগ্রহ করে রেখে তারা খেলনা হিসেবে ব্যবহার করে।

৮. দাঁড়কাকের বাচ্চা বয়ঃসন্ধিতে পৌঁছলে তারা দল বেঁধে ঘোরে। টিন এজ মানবক যেমন গ্যাংগ তৈরি করে, দাঁড়কাকও তেমনই টিন এজ গ্যাংগে বিশ্বাসী।

৯. দাঁড়কাক জুটি বাঁধে। তারা দিব্যি দাম্পত্যজীবন যাপন করে।

১০. মানুষের সঙ্গে দাঁড়কাকের সম্পর্ক দীর্ঘকালের। ইউরোপের অনেক জায়গাতেই তাকে শয়তানের দোসর বলে মনে করা হয়। মনে করা হয়, তারা দুষ্ট পাদ্রি বা নান। অপকর্মের ফলে দাঁড়কাকের অভিশপ্ত জীবন কাটাচ্ছে। আবার এমন ধারণাও রয়েছে, তারা ঠিকঠাক কবর না হওয়া লোকেদের আত্মা। -এবেলা