মেইন ম্যেনু

কার্যক্রম সম্প্রসারণের যাত্রা শুরু

দাউদকান্দিতে পরীক্ষামূলক সময়কাল সফলভাবে শেষ করে ‘বিপদে আমরা’

পরীক্ষামূলক ৬ মাস সময়কাল সফলভাবে শেষ করে ‘বিপদে আমরা’ কার্যক্রম সম্প্রসারণের যাত্রা শুরু হলো। এ উপলক্ষে দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে ১৪ জুন রোববার বিকালে “ট্রমালিংক ‘বিপদে আমরা’ পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অর্জন ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা” শীর্ষক এক বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনায় বিপদে আমরা কার্যক্রমের বিগত ছয় মাসের অর্জন, কার্যক্রম উন্নতকরণের নানা দিক ও ভবিষ্যত পরিকল্পনাসমূহ বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়।

এটা ভাবতেই অবাক লাগে যে মাত্র ছয় মাস আগে আমরা আমাদের ট্রমালিংকের কার্যক্রম শুরু করেছিলাম এবং আমরা যা ভেবেছিলাম, এর চেয়ে বেশি সফলতা অর্জন করেছি উল্লেখ করে ট্রমালিংকের প্রেসিডেন্ট ড. জন মুসালেহ ্বলেন, ‘উন্নয়নশীল দেশেও স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতে জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদানের ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি’। স্বেচ্ছাসেবকদের তিনি নায়ক হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, ‘দাউদকান্দির জনগণ আমাদেরকে দেখিয়ে দিয়েছে যে, সমাজের বিভিন্ন পটভূমি থেকে আগত জনগণ একত্রে মিলিত হয়ে কি ভাবে কাজ করতে পারে’। এছাড়া তিনি আরও বলেন, ‘যখন আমরা সমগ্র বাংলাদেশ জুড়ে জরুরি চিকিৎসা সেবা কার্যক্রম চালু করার স্বপ্ন অর্জন করতে পারব, তখন পুরু জাতি এই কর্মসূচির অগ্রদূত হিসেবে দাউদকান্দিবাসীর কাছে কতৃজ্ঞ থাকবে’।

ট্রমালিংকের মাস্টার ট্রেইনার ড. আব্দুল বাকী বলেন, ‘দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে আশেপাশে থেকে অনেক মানুষই সহযোগিতা করতে এগিয়ে আসেন, কিন্তু উপযুক্ত প্রশিক্ষণ ও প্রয়োজনীয় প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রি হাতের কাছে না থাকার কারণে উপকারও অনেক সময় ক্ষতির কারণে পরিণত হয়। এ অবস্থা বিবেচনা করে আমরা আমাদের কার্যক্রমে উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান করে রাস্তার পাশে স্বেচ্ছাসেবকদের হাতের কাছেই প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা সামগ্রি রাখার ব্যবস্থা করেই কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছি’।

‘বিপদে আমরা’ এখন আর এটি শুধু উদ্যোগ নয়, এটি এখন একটি অনন্য মডেল-যা অন্যান্য এলাকায় এমনকি সারাদেশে এবং উন্নয়নশীল অন্যান্য দেশেও বাস্তবায়ন করা সম্ভব উল্লেখ করে ট্রমালিংকের ভাইস প্রসেডিন্টে লখেক ও গবষেক বধিান চন্দ্রপাল বলেন, ‘আজ এ¦ই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে দাউদদান্দি টোল প্লাজা থেকে তীর চর রাস্তার মাথা পর্যন্ত প্রায় ৫ কিলোমিটার এলাকা নতুন করে ‘বিপদে আমরা’ কার্যক্রমের আওতাভুক্ত করা হলো’।
একটি জরুরি নম্বর বিপদে মানুষের জীবন রক্ষা করতে পারে এটা শুরুতে শুধুই আমাদের ধারণা ছিল এখন এটা কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়েছে, এটা সারা দেশব্যাপি আমরা সম্প্রসারিত করতে পারব এ বিশ্বাস আমাদের আছে বলে উল্লেখ করেন ট্রমালিংকের প্রোগ্রাম ম্যানেজার অরূপ চন্দ্র সাহা।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রায়পুর ক.েসি উচ্চ বদ্যিালয়রে প্রধান শক্ষিক মোঃ হুমায়ুন কবীর। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন দাউদকান্দি উপজেলা ভূমি অফিসার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান মোল্লা, উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি অধ্যাপক নুরুল গণি, রোটারী ক্লাব অব দাউদকান্দির সাধারণ সম্পাদক কবি-কলামিস্ট মো. আলী আশরাফ খান, কৃষবিদি ও পরবিশে সংগঠক অধ্যাপক মতনি সকৈত, দাউদকান্দি পৌরসভার কাউন্সলির একএেম সরোয়ার জাহান, হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব জোবায়েদুর রহমান, দাউদকান্দি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবু ছালাম মিঞা প্রমুখ।

বর্তমানে একটি নম্বর (০৯৬৭৮৭৭৫৫৭৭) যেটি পরীক্ষামূলক কার্যক্রমে সফলভাবে ব্যবহৃত হয়েছে তা যদি একটি সংক্ষিপ্ত নম্বর হতো তাহলে তা মানুষের জন্য মনে রাখা অনেক সহজ হতো, কার্যক্রম সম্প্রসারণ বর্তমানে যে নম্বরটি আছে সেটি দিয়েও সম্ভব, তবে একটি সংক্ষিপ্ত জরুরি নম্বর পেলে আরও ভালো হয় বলে উল্লেখ করেন এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এক্ষেত্রে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সহযোগিতার প্রতিও তারা দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

অনুষ্ঠানে নতুন ৫ কিলোমিটার এলাকার জন্য নির্বাচিত প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবকদের হাতে প্রাথমিক চিকিৎসা সামগ্রির বাক্স, বিশেষ পোশাক, পরিচয়পত্র এবং সার্টিফিকেট তুলে দেয়া হয়। এর ফলে এখন থেকে দাউদকান্দি থেকে তীর চর রাস্তার মাথা পর্যন্ত মোট ২০ কিলোমিটার এলাকায় যে কোন দুর্ঘটনার ক্ষেত্রে ট্রমালিংক ‘বিপদে আমরা’ স্বেচ্ছাসেবকরা ভূমিকা পালন করবে। অচিরেই এ কার্যক্রমটি ঢাকা-চট্টগ্রাম হাইওয়ের পুরো এলাকাজুড়ে কাজ করবে এবং অন্যান্য হাইওয়েতেও কাজ শুরুর জন্য নানামুখি প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছে বলে আয়োজকরা জানান। এক্ষেত্রে সহায়তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহকে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান উদ্যোক্তারা।