মেইন ম্যেনু

দাড়ি নিয়ে পৃথিবীর সেরা ১০ তথ্য যা হয়তো আপনারও অজানা

বেশ মনে আছে লাইনটা এখনও। আমার বাবা দাড়ি রাখতেন খুব। যখন আমার দাড়ি ওঠেনি, বাবাকে বলতাম খুব, ‘উফঃ, দাড়িটা কাটো না কেন’? বাবা মাঝেমাঝে খানিকটা হাত ঝেড়ে ফেলার মতো করে বলত, তোর কী হচ্ছে? দাড়ি তো আমার গালে। তোর তো আর অসুবিধা হচ্ছে না। তাই একদিন বলেছিলাম, আমার মুখে ফুটছে না। কিন্তু চোখে ফুটছে। হেসে উঠেছিল বাবা। বলেছিল, ছেলে আমার বড় হচ্ছে। হুম। বড় হয়ে গেলাম। দাড়ি উঠেছে অনেক আগে। আর সত্যি বলতে কী আমি এখন আমার মুখটা দাড়ি ছাড়া ভাবতেই পারি না গত বেশ কয়েক বছর ধরে। সত্যি। বলতে শিখেছি, খারাপ মানুষের মুখোশ হয়। আর ভালো মানুষের দাড়ি! আজ আমার মতো দাড়িপ্রেমীদের কয়েকটা দাড়ি নিয়ে তথ্য দিই। যা, ভালো লাগবে। এগুলো পড়ার পর আপনি, আপনার দাড়ি না হয় কেটেই ফেলুন। তাতে কী, আমাদের এই আড্ডাটায় আজ কোনও ‘দাঁড়ি’ পড়বে না। কী বলেন? তাহলে দাড়ি নিয়ে কটা দুর্দান্ত তথ্য দিই, যেগুলো আপনাকে ভাবাবে। আর ভাবতে গেলে, দাড়িতে হাত না বোলালে কী আর উপায় আসে?

১) বিশ্বজুড়ে সমীক্ষা চালিয়ে দেখা গিয়েছে, দাড়িওয়ালা লোকেরা হিংসুটে কম হয়। এঁদের ব্যক্তিত্ব নিয়ে চর্চা করা যায়। এরা কখনওই আপনার সঙ্গে তথাকথিত ‘ছ্যাবলামো’ করবে না। আর এরা শুরুতে মানুষের সঙ্গে মিশতে ইতস্তত বোধ করেন। কিন্তু একবার আপনার সঙ্গে মিশে গেলে, আপনি এই মেলামেশাটা উপভোগ করবেন। দাড়িটা এক্ষেত্রে ওই মানুষদের ব্যক্তিত্বকে চাদরে ঢেকে রাখার মতো একটা কাজ করে।

২) বিজ্ঞানীরা অনেক পরীক্ষা করে মানুষের মনস্তত্ব দেখে বুঝেছেন, পুরুষ নিজে দাড়ি রাখতেই আগ্রহী। কিন্তু সে যখন তাঁর দাড়ি কেটে ফেলে, তখন বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যাখ্যাটা থাকে কোনও মহিলাকে ‘ইমপ্রেস’ করা। কারণ, বেশিরভাগ মহিলারাই ছেলেদের মুখে দাড়ি না থাকাটাই পছন্দ করেন।

৩) যদি আপনি মুখে এক গাল দাড়ি রেখে ভেবে নেন, আপনি জীবনে খুব বড়লোক হবেন, তাহলে আপনার জন্য খুবই খারাপ খবর। ফোর্বসের বিচারে বিশ্বের সবথেকে ধনী মানুষের যে তালিকা প্রকাশ হয় বছর-বছর, সেই তালিকায় ১০০ জনের মধ্যে গড়ে ৯৮ জনেরই মুখ একেবারে কামানো! আর দাড়ি রাখবেন? ভালো করে ভেবে দেখুন। কারণ, এটা পয়সার ব্যাপার বলে কথা!

৪) যদি আগের পয়েন্টটা পড়ে আপনার মন খুব খারাপ হয়ে যায়, তাহলে এই পয়েন্টটা অবশ্যই পড়ুন। এটা আপনার মন ভালো করে দেবে। ২০০৮ সালের পর থেকে সারা বিশ্বে মুখে দাড়ির ‘ট্রান্সপ্লান্ট’ ৬০০ শতাংশ হারে বেড়ে গিয়েছে! এর কারণ, ২০০৮ সালের পর থেকে সারা বিশ্বেই দাড়ি রাখার চল বেড়ে গিয়েছে!

৫) মধ্যযুগে কোনও মানুষের দাড়িতে হাত দেওয়া ছিল মারাত্মক অপরাধ। মনে করা হত, যে ব্যক্তির দাড়িতে হাত দেওয়া হয়েছে, তাঁকে আসলে চূড়ান্ত অপমান করা হয়েছে। সমাজে দাড়িওয়ালা মানুষের মূল্য ছিল এতটাই। এই জন্য কঠোর শাস্তিও দেওয়া হতো!

৬) সারা পৃথিবীর পুরুষ এবং মহিলাদের সঙ্গে কথা বলে সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, মানুষের বয়স বাড়লে তাঁর দাড়ি রাখাকে সমর্থন করেন ৮০ শতাংশের বেশি পুরুষ এবং মহিলা! কিন্তু যখন পুরুষের বয়স তুলনায় কম, তখন কিন্তু নারীরা বেশি করে দাড়ি রাখাটা অপছন্দই করেন।

৭) একজন মানুষ যিনি পৃথিবীতে ৬০ বছর বেঁচে থাকেন, হিসেব করে দেখা গিয়েছে, সেই মানুষটা জীবনের প্রায় ৩৫০০ ঘণ্টা সময় নষ্ট করেছেন তাঁর দাড়ি কাটতেই! মানে গোটা জীবনের প্রায় ৬ মাস চলে গেল দাড়ি কাটতেই! পরেরবার দাড়িটা কাটার আগে ভেবে নেবেন কিন্তু প্লিজ।

৮) আমেরিকার প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিঙ্কন জীবনের শুরুর দিকে দাড়ি রাখতে পছন্দ করতেন না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট থাকাকালীন তাঁকে একটি ছোট মেয়ে একদিন চিঠি লেখেন, ‘আপনি যদি দাড়ি রাখেন, আপনাকে দেখতে সুন্দর লাগবে।’ ব্যস, লিঙ্কন শুরু করেন দাড়ি রাখা। ভাবুন তো একবার। আব্রাহাম লিঙ্কনকে আপনি দাড়ি ছাড়া কল্পনা করতে পারেন?

৯) অনেকের ত্বকের অ্যালার্জি থাকে। সেক্ষেত্রে ওষুধের থেকেও তাঁর কাছে মূল্যবান হতে পারে দাড়ি। এমনটা বলেন ডাক্তাররাই। দাড়ি রাখা মানুষদের গালের ত্বক তুলনায় কোমল হয়।

১০) প্রাচীন মিশরে দাড়ির জনপ্রিয়তা এতটাই বেশি ছিল যে মেয়েরাও দাড়ি রাখতেন। আসলে ধাতুর দাড়ির প্রচলন ছিল তখন মিশরে। মহিলারা সেই ধাতুর দাড়ি নিজেদের মুখে পড়তেন! মেয়েরা শুধু ছেলেদের পোশাক পরতেই আগ্রহী ছিল না। বরং, পুরুষের দাড়িও পছন্দ করতেন!

এইবার ভাবুন, আপনি কোনটা করবেন। সবশেষে আপনাকে একটা পরামর্শ দিতে চাই। আপনি দাড়ি রাখবেন না রাখবেন না, সেটা এই লেখাটা পড়ার পর ঠিক করবেন কেন? দুটো তো জিনিস। একটু দেখে নেবেন, দাড়ি রাখলে আপনাকে সুন্দর দেখায় নাকি দাড়ি কাটলে? আপনি সেটাই করবেন। আর সবকিছু কিন্তু সৌন্দর্যের জন্য নয়। ‘কমফোর্ট’ বলেও তো একটা কথা আছে। আপনার কাছে যেটা আরামদায়ক, আপনি সেটাই করুন। আর সবশেষে বলার, আপনি যদি একা মানুষ হন, তাহলে দাড়ি আপনাকে আর একজন সঙ্গীর মতো করে সঙ্গ দেবে। হ্যাঁ, দাড়ি রাখা মানুষগুলোকে জিজ্ঞেস করলেই বুঝতে পারবেন এটা। দাড়ি রাখুন আর না-ই বা রাখুন, প্রার্থনা করি, আপনি সুন্দর এবং সবল থাকুন।