মেইন ম্যেনু

দানবাকৃতির আর্মাডিলো

দেখতে অদ্ভূত ধরনের একটি প্রাণি আর্মাডিলো। প্রাণিটি খুব সহজেই নিজেকে গুটিয়ে নিতে পারে তার শক্ত খোলসের ভেতর। আর তার খোলসটি এতটাই শক্ত- গত বছর যুক্তরাজ্যের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে এক ব্যক্তি একটি আর্মাডিলোকে গুলি করার পর গুলিটি ফিরে এসে ওই ব্যক্তির গায়েই বিদ্ধ হয়।

তবে এবার আরো অদ্ভূত তথ্য মিলেছে এই প্রাণিটি সম্পর্কে। ১২ হাজার বছরের পুরনো ডিএনএ পরীক্ষা করে দেখা গেছে, আর্মাডিলোরা এক সময় দানবীয় আকৃতির প্রাণি ছিল। ধারণা করা হচ্ছে, এসব প্রাণি কয়েক লাখ বছর আগে থেকে শুরু করে শেষ বরফযুগ পর্যন্ত লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে ঘুরে বেড়াতো।

বিজ্ঞানীদের মতে, সে সময়ের প্রাণিগুলো ঠিক আর্মাডলোর মতো না হলেও এই একই বংশভুক্ত। তাদের ভাষায়, আজকের আর্মাডিলোদের ‘খালাতো ভাই’। তাদের দৈহিক আকৃতি অনুধাবন করে অন্তত তাই মনে হয়। প্রাচীন আর্মাডিলোগুলোরও ছিল বর্তমানগুলোর মতো অভেদ্য খোলস।

এতদিন বিজ্ঞানীদের ধারণা ছিল, এগুলো দেখকে একই রকম হলেও তারা একই বংশভুক্ত নয়। তবে এখন বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, প্রাচীনকালের বৃহদাকার আর্মাডিলোগুলো ও বর্তমান আর্মাডিলোগু একই পরিবারভুক্ত। বিজ্ঞানীদের ভাষায়, বর্তমান আর্মাডিলোগুলোকে বলা হয় ‘গ্লিপটোডন্টস’।

প্রাণিটি নিয়ে গবেষণা করে আসছেন ফ্রান্সের মন্টপেলিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ফ্রেডেরিক দেলসাক। তিনি বলেন, ‘গ্লিপটোডন্টসকে প্রাচীন বৃহদাকার আর্মাডিলোর একই পরিবারভুক্ত হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।’ বর্তমান আর্মাডিলোগুলোর পূর্বসূরিদের সাথে ডিএনএ’র ধরন মেলাতে ‘কম্পিউটার প্রেডিকশনস’ পদ্ধতি ব্যবহার করেছেন তিনি।

এ পদ্ধতি ব্যবহারের ফলে প্রাচীন আর্মাডিলোর প্রকৃত ডিএনএ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। ডিএনএ‘র পরীক্ষা থেকে বোঝা যায়, এটা পৃথিবীর বৃহদাকার প্রাণিগুলোর পরিবারের মধ্যে অন্যতম। এর একেকটির দৈর্ঘ্য ছিল চার মিটারের মতো এবং ওজন ছিল প্রায় দেড় টন।

এগুলো দেখতে ভয়ঙ্কর হলেও আসলে ছিল নিমামিষভোজী। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ১০ হাজার বছর আগে বরফযুগের শেষ পর্যন্ত এদের অস্তিত্ব ছিল। সে সময় পর্যন্ত এরা দৈহিকভাবে বড় হচ্ছিল। ওই সময়ে লাতিন আমেরিকাতে বড় বড় আরো বিভিন্ন ধরনের প্রাণির অস্তিত্ব ছিল। আর আর্মাডিলোর এই দানবীয় আকৃতির কারণেই তারা তখন অন্য বৃহৎ প্রাণিগুলোর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করতে পেরেছিল বলে জানান বিজ্ঞানীরা।