মেইন ম্যেনু

দাফনের একদিন পর কবরে কেঁদে উঠলো কিশোরী!

দাফনের একদিন পর কংক্রিটের তৈরি কবরের অভ্যন্তরে স্থাপিত কফিনের ভেতর থেকে কেঁদে উঠল এক কিশোরী। সাহায্যের জন্য আর্তনাদও করেছিল। কিন্তু আত্মীয়দের প্রণান্তকর চেষ্টা সত্ত্বেও শেষ রক্ষা আর হয়নি। ফের মরেই গেল নেইসি পিরেজ নামে হণ্ডুরাসের ১৬ বছর বয়সী কিশোরীটি।

কিশোরীর আর্তনাদের আত্মীয়রা কংক্রিটের তৈরি কবরটি ভাঙ্গতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। কিন্তু কফিনটি বের করে আনার আগেই এবার স্থায়ীভাবে তার প্রাণপাখিটি উড়ে গেল।

কফিনটি বের করে আনার পর আত্মীয়রা দেখতে পান যে এর উপরের স্বচ্ছ কাঁচটি ভাঙ্গা। আর কিশোরীর হাতের আঙ্গুলের ডগাগুলো থেতলানো। সম্ভবত বাঁচার জন্য শ্বাস-প্রশ্বাস নিতেই মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে হাত দিয়েই কাঁচটি ভেঙ্গে ফেলেছিল ওই কিশোরী।

কফিন থেকে বের করে এনে ডাক্তাররা অনেক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পরও তার মধ্যে প্রাণের আর কোনো চিহ্ন দেখতে পাননি। ফলে পূনরায় তাকে একই কবরে দাফন করা হয়।

মিস পেরেজ নামে ওই কিশোরী মৃত্যুর সময় তিন মাসের অন্তঃস্বত্তা ছিলেন। পশ্চিম হণ্ডরাসের লা এন্ত্রাদাতে নিজবাড়িতে অবস্থানকালে গতপরশু গভীর রাতে প্রকৃতির ডাকে ঘরের বাইরে বের হন টয়লেটে যাওয়ার জন্য। ধারণা করা হচ্ছে গুলি-বোমার বিস্ফোরণের আওয়াজে আতঙ্কিত হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন তিনি।

কিন্তু জ্ঞান হারানোর পর তার নাক-মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে দেখে তার ধর্মীয় কুসংস্কারাচ্ছন্ন বাবা-মা ভাবেন যে তাকে হয়তো জ্বীন-ভুতে পেয়েছে বা কোনো শয়তানি আত্মা তার দেহে ভর করেছে। যেই ভাবা সেই কাজ। তারা মেয়েকে ডাক্তারের কাছে না নিয়ে স্থানীয় খ্রিস্টান ধর্মগুরু বা পাদ্রিকে ডেকে আনেন।

পাদ্রি এসে দীর্ঘ তিন ঘণ্টা ধরে বিভিন্ন মন্ত্র প্রয়োগ ও তুক-তাক করেও কোনো কুল কিনারা করতে পারেন নি। অবেশেষে কিশোরীর দেহটি নিস্তেজ হয়ে আসলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দাফনের সময় কিশোরীটিকে তার বিয়ের পোশাকেই কবর দেওয়া হয়েছিল। কিশোরী স্ত্রীকে অকালে হারানোর শোকে কাতর স্বামী রুডি গঞ্জালেস দাফনের একদিন পরই পিরেজের কবর পরিদর্শনে যান। আর তখনই তিনি কবরের ভেতর থেকে স্ত্রীর আর্তনাদ শুনতে পান।

সঙ্গে সঙ্গে গঞ্জালেস আত্মীয়দের ডেকে পাঠান। সবাই মিলে প্রণান্তকর চেষ্টা চালান পিরেজকে জীবিত উদ্ধারের। স্লেজ হ্যামার দিয়ে ইট-পাথরের তৈরি কবরটি মুহূর্তেই ভেঙ্গে ফেলা হয়।

গঞ্জালেস স্থানীয় টিভি চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘অকালে স্ত্রীকে হারিয়ে আমি শোকে কাতর হয়ে পড়েছিলাম। ফলে পরদিন আমি তার কবরের পাশে গিয়ে বসেছিলাম। এসময় কবরে হাত দিয়ে ছুয়ে দেখছিলাম। আর ঠিক সেসময়ই আমি ভেতরে আর্তনাদ শুনতে পাই। আমি তাকে সাহায্যের জন্য আর্তনাদ করতে শুনতে পাই। কিন্তু প্রথমে আমি নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিলাম না। পরে কয়েকবার খেয়াল করে শোনার পর আমার মনে আশার আলো জেগে ওঠে।

গোরস্থানের নিরাপত্তা প্রহরী জেসাস ভিলেনোভা আমাকে বলেন যে তিনিও রাতে আর্তনাদ শুনতে পেয়েছেন। কিন্তু জেসাস কল্পনাও করতে পারেননি যে গোরস্থানের কোনো কবরের ভেতর থেকে কেউ আর্তনাদ করছিল।

জেসাস সাংবাদিকদের বলেন, দুপুর বেলাতেই পিরেজের স্বামী পাগলের মতো তার পরিবারের লোকজনদের নিয়ে গোরস্থানে ছুটে আসে। এরপর কবর ভেঙ্গে তার লাশ উদ্ধার করে সান পেদ্রোর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু ডাক্তাররা হাজার চেষ্টা করেও আর তার প্রাণ ফেরাতে পারেননি।

ডাক্তাররা বলেন, ‘মিস পিরেজ সেদিন রাতে আতঙ্কে জ্ঞান হারানোর ফলে হয়তো তার হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। আর এতেই হয়তো ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেছিল। অথবা এমনও হতে পারে তার হৃদক্রিয়া বন্ধ হয়নি। কিন্তু আতঙ্কের ফলে পুরো দেহের মাংসপেশি অবশ হয়ে গিয়েছিল। যার ফলে হয়তো তার পূর্ণ জ্ঞান থাকা সত্ত্বেও মাংসপেশি অবশ হয়ে পড়ায় ডাক্তাররা তার হৃদস্পন্দন ধরতে পারেননি। এমনকি এমনও হতে পারে তার পূর্ণ জ্ঞান থাকা অবস্থায়ই তাকে দাফন-কাফন করা হয়েছিল। কিন্তু সব কিছু বোঝার পরও হয়তো সে কিছুই বলতে পারছিল না। কারণ চোখের পাতাটিও নাড়ানোর ক্ষমতা ছিল না তার।

দাফনের একদিন পর কবরের ভেতরে জ্ঞান পুরোপুরি ফিরে আসার পর অক্সিজেনের অভাবেই তার মৃত্যু হয়। ওই কিশোরীর চাচাত বোন ক্যারোলিন পিরেজ বলেন, ‘তাকে উদ্ধারের পর আমি তার দেহে হাত দিয়ে দেখেছি। তখনও তার শরীর গরম ছিল। এমনকি তার হৃদপিণ্ডের ধুকপুকানিও শুনেছি আমি। তার কপালটি ছিল ক্ষতবিক্ষত। হাতের আঙ্গুলগুলোও থেতলানো ছিল। এ থেকেই প্রমাণিত হয় সে বাঁচার জন্য কতটা মরিয়া চেষ্টা করেছিল। কফিনের কাঁচ ভাঙ্গতে গিয়েই সে এভাবে জখম হয়।’

ক্যারোলিন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, ‘আশার আলোতে আমাদের মন জ্বলে উঠেছিল। আমরা ভাবছিলাম আমরা হয়তো তাকে ফিরে পেতে যাচ্ছি। কিন্তু কী কষ্টটাই না পেয়ে সে মারা গেল। ফলে আগের চেয়ে অনেক বেশি বেদনাহত হয়েছি আমরা।’

মৃত কিশোরী নেইসি পিরেজের মা অভিযোগ করেন, প্রথমবার ডাক্তারার অতিবেশি তাড়াহুড়ো করে তাকে মৃত ঘোষণা করেছিল।