মেইন ম্যেনু

দাফন সম্পন্ন: মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জালড়ে হার মানলেন স্বাক্ষর আসামী গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ

সরকার দুলাল মাহবুব, রাজশাহী থেকে : রাজশাহী অগ্রনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের মেধাবী ছাত্র ফারহান খন্দকার সাক্ষর চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ রামেক হাসপাতালে মারা গেছে। নিহত স্বাক্ষর রাজশাহী মহানগরীর কাটাখালী এলাকার মোস্তফা কামাল বাবলুর ছেলে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টা ২৫ মিনিটে রামেক হাসপাতালে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। শুক্রবার বেলা সাড়ে ১২ টার দিকে রামেক হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুপুরে রাজশাহী চিনিকল মাঠে স্বাক্ষরের যানাজা শেষে দাফন সম্পন্ন হয়েছে। যানাজায় শরীক হন রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনের সংসদ সদস্য আয়েন উদ্দিন, কাটাখালি পৌর মেয়র আব্বাস আলী, চিনিকলের জিএম ইঞ্জিনিয়ার জিয়াউল হক, অগ্রণী স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ, কাটাখালি পৌর ছাত্রলীগ সভাপতি ফরিদুল ইসলাম রাজু, সাধারণ সম্পাদক মুসফিকুর রহমান রাতুল, জেলা ছাত্রলীগ সাবেক সহ-সভাপতি জনি ইসলাম, জেলা যুবলীগ সাবেক সহ-সভাপতি ওমর ফারুক, ছাত্রলীগ নেতা আসিক রহমান, খায়রুল ইসলাম পৌর যুবলীগ যুগ্ম আহবায়ক আসাদুজ্জামান খোকনসহ আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার আপামর জনসাধারণ।

গত ২৮ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে একদল দুর্বৃত্ত সাক্ষরকে বেধড়ক পিটিয়ে গুরুতর আহত করে। এ ঘটনায় আহত হন তার সহপাঠি একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী তারিক জামিল।

পরে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে গেলে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে রামেকে হাসপাতালে ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হলে তার অবস্থার অবনতি হলে ঐই দিনই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) তে নেয়া হয়। কলেজছাত্র স্বাক্ষর একটানা আট দিন হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছিলেন। অবশেষে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে তার মৃত্যু হয়। হামলার ঘটনায় স্বাক্ষরের বাবা মোস্তফা কামাল বাবলু বাদি হয়ে মতিহার থানায় একটি মামলা দায়ের করেছিলেন বলে জানা গেছে।

পুলিশ এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। কাটাখালি পৌর সচেতন ছাত্র সমাজের উদ্যোগে বুধবার পুলিশের নীবর ভুমিকা ও হামলাকারিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে র‌্যালি, মাবনবন্ধন ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। র‌্যালি ও মানববন্ধন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পৌর মেয়র আব্বাস আলী বলেন, গরীব অসহায় ছেলে বলে স্বাক্ষরকে হামলাকারিদের গ্রেপ্তার করছে না পুলিশ। শুক্রবারের মধ্যে স্বাক্ষরকে হামলাকারিদের গ্রেপ্তারের আল্টিমেটাম দেন তিনি। বেধে সময় শেষের আগেই না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বাক্ষর।