মেইন ম্যেনু

দালাল থেকে বাচঁতে ‘পাসপোর্ট এজেন্ট’ দেবে অধিদপ্তর

ঢাকার আগারগাঁওয়ের পাসপোর্ট কার্যালয়ে দালালদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে ‘পাসপোর্ট এজেন্ট’ নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এই এজেন্ট আবেদনকারীর ফরম নির্ভুলভাবে পূরণ ও জমা দেওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থা করে দেবেন।

এজেন্ট নিয়োগের জন্য ‘পাসপোর্ট এজেন্ট’ (লাইসেন্সিং) বিধিমালা করা হয়েছে, যার খসড়া অনুমোদনের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তর। অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক যোগদানের পর নতুন এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মাসুদ রেজওয়ান গতকাল বলেন, পাসপোর্ট করতে এসে যাতে গ্রাহকদের ভোগান্তি না হয়, সে জন্য এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দেখা যায়, একজন গ্রাহক ফরম পূরণ করতে পারেন না, সত্যায়িত করতে অসুবিধায় পড়েন, ব্যাংকে টাকা দেওয়ার নিয়ম জানেন না। এই সবকিছু যাতে গ্রাহকেরা নির্বিঘ্নে করতে পারেন, সে জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ফলে পাসপোর্ট কার্যালয়ে ভিড়, দীর্ঘসূত্রতা ও গ্রাহক হয়রানি কমবে। এ ছাড়া সময়ও কম লাগবে।

অধিদপ্তর সূত্র জানায়, এজেন্টদের বাছাই করার জন্য অধিদপ্তরের একজন অতিরিক্ত মহাপরিচালককে প্রধান করে একটি বাছাই কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি এজেন্ট নিয়োগ-সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি জারি করবে। পাসপোর্ট এজেন্ট প্রতি সপ্তাহে প্রক্রিয়া করা আবেদনপত্রের সংখ্যা বহিরাগমন ও পাসপোর্ট অধিদপ্তরে দেবেন। পাসপোর্ট এজেন্ট পাসপোর্ট আবেদনকারীর কাছ থেকে সরকারের নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত দাবি করতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, এজেন্ট হিসেবে যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের বয়স ন্যূনতম ২৫ বছর হতে হবে। পাসপোর্টের নিয়ম ও আবেদনপত্র-প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানা থাকতে হবে। প্রয়োজনীয় জনবল, অফিস সরঞ্জামাদিসহ কমপক্ষে দুই কক্ষবিশিষ্ট একটি অফিস থাকতে হবে, অনলাইনে পাসপোর্ট ফি গ্রহণের জন্য নির্ধারিত শাখার সামনে এজেন্ট অফিস স্থাপন করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের কমপক্ষে পাঁচ বছরের তথ্য ও প্রযুক্তি-সংক্রান্ত কাজের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। আবেদনকারী ও তাঁর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে পুলিশের কাছ থেকে প্রতিবেদন চাওয়া হবে। ওই এজেন্টকে লাইসেন্স দেওয়ার আগে কমিটি আবেদনকারীর কার্যালয় পরিদর্শন করবে। লাইসেন্সের মেয়াদ হবে তিন বছর, কর্মদক্ষতার ওপর ভিত্তি করে পরে তিন বছরের নবায়নযোগ্য হবে। কোনো এজেন্ট এই বিধান লঙ্ঘন করলে তাঁর লাইসেন্স বাতিল, স্থগিত ও জামানতের টাকা বাজেয়াপ্ত করা হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, পাসপোর্ট-প্রক্রিয়ার শুরুতেই সোনালী ব্যাংকের আগারগাঁও শাখায় টাকা জমা দেওয়ার সময় দালাল চক্রের সদস্যরা আবেদনকারীকে নানাভাবে প্ররোচিত করছেন। কোনো ঝামেলা ছাড়াই খুব অল্প সময়ে যাবতীয় কাজ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তাঁরা। অনেকে এ জন্য দালালদের হাতে টাকাপয়সাও তুলে দিচ্ছেন।

সোনালী ব্যাংক আগারগাঁও শাখা বলতে গেলে দালালদেরই আখড়া। এখানেও ব্যাংক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দালালদের যোগসাজশ আছে বলে অভিযোগ আছে। গতকাল ব্যাংকটির এই শাখায় গিয়ে দেখা যায়, সাধারণ মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে টাকা জমা দিচ্ছেন আর দালালেরা খুব সহজে কোনো লাইন ছাড়াই টাকা জমা দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক দালাল বলেন, ‘আমরা পাসপোর্টকারীদের টাকা জমা দিয়ে যে বকশিশ পাই, তা থেকে ৩০ পার্সেন্ট ব্যাংক কর্মকর্তাদের দিই।’