মেইন ম্যেনু

দা-ছুরিসহ ‘ছাত্রলীগের’ পাঁচ কর্মী আটক

নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে চট্টগ্রাম পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট ছাত্রলীগের একটি পক্ষ চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কে ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুর করেছে। এঘটনায় পর পালিয়ে যাওয়ার সময় পাঁচলাইশ থানার ষোলশহর থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ চারজনকে এবং পলিটেকনিক্যাল এলাকা থেকে আরেকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

শনিবার বিকেলের দিকে নগরীর পলিটেকনিক্যাল মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আটকরা হলেন- আদনান রহমান (২০), দিনার হোসেন (২০), নুরুল হক মনি (২৪), ফকরুল ইসলাম (২২) ও জনি (২২)। এদের মধ্যে প্রথম চারজনকে ষোলশহর থেকে আর জনিকে টেকনিক্যাল মোড় থেকে আটক করে পুলিশ।

খুলশী থানার ওসি নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘মেহেদী নিহত হওয়ার পর থেকে পলিটেকনিক্যালে নিজের অস্তিত্ব জানান দিতে ছাত্রলীগ নামধারী বেশ কিছু ছেলে তৎপর। মনির ও আশফাক নামে দু’জনের দুটি গ্রুপের মধ্যে বেশ কয়েকবার উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। শনিবার দুপুরের পর থেকে মনিরের লোকজন ক্যাম্পাসে বেশ কয়েকবার শোডাউন দেয়। এরপর তারা টেকনিক্যাল মোড়ে গিয়ে ব্যাপকভাবে গাড়ি ভাঙচুর করে। এসময় আতঙ্কে চট্টগ্রাম-হাটহাজারী সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে জনি নামে এক ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে। এঘটনায় গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

এদিকে হামলা করে পালিয়ে যাওয়ার সময় ষোলশহর বনগবেষাগার এলাকা থেকে চার ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এসময় তাদের কাছ থেকে বেশ কিছু রাম দা, ছুরি, চাপাতি, রড উদ্ধার করা হয়েছে।

পাঁচলাইশ থানার ওসি মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘পলিটেকনিক্যাল মোড়ে গাড়ি ভাঙচুর করে পালানোর সময় ষোলশহর বনগবেষণাগার এলাকা থেকে দেশীয় অস্ত্রসহ চার ছাত্রলীগ কর্মীকে আটক করা হয়েছে। এঘটনায় তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, চলতি বছরের ৩০ জুন পলিটেকনিক্যাল এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সন্ত্রাসী মেহেদী হাসান বাদল খুন হয় দুর্বৃত্তদের হাতে। পরে এঘটনায় সরকার দলীয় লোকজনের বিরুদ্ধেই তার স্ত্রী বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছিলেন। এঘটনায় দুইজন গ্রেপ্তার হলেও হত্যা রহস্য এখনো উন্মেচিত করতে পারেনি পুলিশ। এরপর থেকে তার স্থান পূরণে মরিয়া হয়ে উঠেছে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নামধারী বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী।

তবে নগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নুরুল আজিম রনি বলেছেন, ‘পলিটেকনিক্যালে ছাত্রলীগের কোনো কমিটি নেই। এখানে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে কেউ কোনো অপকর্ম করলে তার দায় নগর ছাত্রলীগ নেবেনা। কেউ যদি কোনো অপরাধ করে থাকে, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করছি।’বাংলামেইল