মেইন ম্যেনু

দিতিহীন দিতির জন্মদিন

গত বছরের কথা। আর ঠিক, আজকের দিনই। কত আনন্দেরই না ছিল দিনটি। পরিবারের কিছু ঘনিষ্ট লোকদের নিয়েই জন্মদিন পালন করেছিলেন। কত স্মৃতিই না জমা হয়েছিলে দিনটিকে ঘীরে। কিন্তু আজ তিনি নেই। বছর ঘুরে আবার এসেছে এ দিন।

আজ দিতির জন্মদিন। বাংলা সিনেমার গুণী এ অীভনেত্রী ১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও জন্মগ্রহণ করেছিলেন। আর মাত্র পঞ্চাশ বছর বয়সে চলতি বছরের ২০ মার্চ সবাইকে কাঁদিয়ে পাড়ি জমান না ফেরার দেশে।

১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশিয় চলচ্চিত্রে দিতির সম্পৃক্ততা ঘটে। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু ছবিটি শেষ পর্যন্ত আর মুক্তি পায় নি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘আমিই ওস্তাদ’।

ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আজমল হুদা মিঠু। এরপর দিতি প্রায় দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘স্বামী স্ত্রী’ ছবিতে দিতি আলমগীরের স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেন। এই ছবিতেই অভিনয় করে দিতি প্রথম বারের মতো জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন দুই সন্তানের জননী। তাঁর মেয়ে লামিয়া আর ছেলের নাম দীপ্ত। চলচ্চিত্র নায়ক সোহেল চৌধুরীকে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন। তিনি মারা যাওয়ার পর চলচ্চিত্র নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চনকে বিয়ে করেন। যদিও সে সংসার টেকেনি।

এদিকে মস্তিষ্কে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ায় ২০১৫ সালের ২৫ জুলাই থেকে ভারতের চেন্নাইয়ের মাদ্রাজ ইনস্টিটিউট অব অর্থোপেডিকস অ্যান্ড ট্রমাটোলজি (এমআইওটি) হাসপাতালে নেয়া হয়। মাঝে কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে আসেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে সেই বছরের নভেম্বরে আবারও একই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় তাঁকে।

বেশ কিছুদিন চিকিৎসাধীন থাকার পরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ৮ জানুয়ারি তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফেরার পরপরই তাঁকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত এ হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি টিভি নাটকেও জনপ্রিয় মুখ ছিলেন দিতি। বেশকয়েকটি টিভি সিরিয়ালেও অভিনয় করেছেন। রান্না বিষয়ক অনুষ্ঠানও উপস্থাপনা করেছেন।দিতি অভিনীত সিনেমাগুলোর মধ্যে ‘দুই জীবন’, ‘উছিলা’, ‘লেডি ইন্সপেক্টর’, ‘খুনের বদলা’, ‘আজকের হাঙ্গামা’, ‘স্নেহের প্রতিদান’, ‘শেষ উপহার’, ‘অপরাধী’, ‘কালিয়া’, ‘কাল সকালে’ ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য। তার শেষ মুক্তি পাওয়া সিনেমা ‘সুইটহার্ট’।