মেইন ম্যেনু

দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ধান নিয়ে বিপাকে কৃষক

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ৩২,৫৫৫ জন কৃষকের মধ্যে ২৮,৭৬৪ জন কৃষকেই সরকারের কাছে বিক্রি করতে পারছেন না তাদের উৎপাদিত বোরো ধান। আর তাই ধান নিয়ে বিপাকে পড়েছেন প্রান্তিক চাষিরা। অন্যান্য এলাকার ন্যায় দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে এখন বোরো ধান বিক্রি নিয়ে বিপাকে পড়েছে কৃষক। বাজারে ক্রেতা না থাকায় তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। প্রান্তিক চাষীরা পানির দামে বোরো ধান বিক্রি করে মিটাচ্ছে মজুরের খরচ। বর্ষা মৌসুমের এই ধান বিক্রি করতে না পেরে ধান রক্ষণাবেক্ষন নিয়েও বিপাকে পড়েছে ধানচাষীরা।

এদিকে চাউল উৎপাদনকারী মিল মালিকেরা বলছেন,তাদের উৎপাদিত আমন মৌসুমের চাল এখন পর্যন্ত বিক্রি করতে না পারায় ব্যাংকের ঋনও পরিশোধ হয়নি। তাই তারা নতুন করে ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ধান কিনতে পারছেন না। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা এটি এম হামিম আশরাফ বলেন, ফুলবাড়ী উপজেলায় ৩২হাজার ৫৫৫টি সরকার রেজিষ্টার ভুক্ত কৃষক পরিবার এবং রেজিষ্ট্রেশন ছাড়াও প্রায় ১০হাজারের অধিক কৃষক রয়েছেন। এই মৌসুমে বোরো ধান উৎপাদন হয়েছে ৮৫হাজার ৪৯১ মে.টন বা ২১লাখ ৩৭ হাজার ২৭৫ মন, সেখানে সরকার সরাসরি কৃষকের নিকট ধান ক্রয় করছে ১হাজার ৯৭৫ মে.টন।

কৃষি অফিসের হিসাব অনুযায়ী একজন কৃষক ৪০ কেজি থেকে ১০০কেজি পর্যন্ত ধান সরকারের নিকট বিক্রি করতে পারবে। এতে ৩২হাজার ৫৫৫ জন কৃষকের মধ্যে সরকারের নিকট ধান বিক্রি করতে পারবে মাত্র ৩হাজার ৭শত ৯১জন কৃষক। সরকারীভাবে ধান ক্রয়ের হিসেব অনুযায়ী বাকী ২৮,৭৬৪ জন নিবন্ধিত কৃষককে ধান বিক্রি করতে হবে খোলা বাজারে।

কৃষি অফিস সূত্রে জানায়, উৎপাদিত বোরো ধানের মধ্যে এই উপজেলায় খাদ্য চাহিদা রয়েছে ২৩হাজার ২২টন। সরকার ক্রয় করছে ১হাজার ৯শত ৭৫ মে.টন। তবে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা বলেন, গত বোরো মৌসুমে মিলারদের মাধ্যমে ৭হাজার ৫শত ৩০মে.টন চাল ক্রয় করা হয়েছে। সেই হিসাব অনুযায়ী উপজেলার চাহিদা পূরন হওয়ার পরেও উদ্বৃদ্ধ থাকবে ৬০হাজার মে.টন ধান ।যা বিক্রি করার জায়গা নেই। একারণে ধান বিক্রি করতে পারছেন না উপজেলার প্রান্তিক ধানচাষীরা। ধান চাষী এজাজুল হক মুন্সি বলেন, বাজারে বোরো ধানের দাম না থাকায় প্রতি একর জমিতে কৃষকদের লোকসান গুনতে হচ্ছে ৭থেকে ৯হাজার টাকা পর্যন্ত। এতে প্রান্তিক চাষীরা ঋনের দায়ে জর্জরিত হয়ে যাচ্ছে। একই কথা বলেন,উপজেলার বারোকোনা গ্রামের ধানচাষি সৈয়দ সামিউল ইসলাম সোহেল, মহসিন আলী সরকার ও স্বজনপুকুর গ্রামের পল্লী চিকিৎসক মিজানুর রহমান মানিক।

উপজেলা চাউল কল মালিক সমিতির সভাপতি সামিউল আলম বলেন, মিল মালিকেরা তাদের উৎপাদিত চাল বাজারে বিক্রি করতে পারছে না। তিনি বলেন,পার্শ্ববর্তি রাষ্ট্র ভারত থেকে আমদানি করা নিম্নমানের চাউল নিম্নদরে বাজারে সয়লাব হওয়ায় দেশীয় চাউলের বাজারে ধ্বস নেমেছে।তিনি আরো বলেন,অনেক মিল মালিকরাই এখন পর্যন্ত তাদের ব্যাংক ঋনের বিপরীতে মজুদ করা চাউল বাজারে বিক্রি করতে পারেনি। যার ফলে ব্যবসায়ীরা বোরো ধান কিনতে পারছে না বলেই বোরো ধানের বাজারে ধ্বস নেমেছে।