মেইন ম্যেনু

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া খনি এলাকার জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে

দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি এলাকায় যত্রতত্র ডাস্টের স্তুপ বানিয়ে বানিজ্যিক ভাবে ব্যবসা করার ফলে এলাকার স্বাভাবিক পরিবেশ দুষিত হচ্ছে। বায়ু দুষনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে খনি এলাকার জনস্বাস্থ্য ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বড়পুকুরিয়া খনি এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক ডাস্ট ব্যবাসয়ী। ৫০ গজ দুরেই রাস্থার ধারে যত্রতত্রভাবে কয়লার ডাস্টের স্তুপ দিয়ে পুরো এলাকা ভরে গেছে। এই ডাস্টের স্তুপগুলো থেকে ঐ এলাকার কতিপয় শতাধিক ব্যক্তি বিক্রি করছে কয়লার ডাস্ট।

জানা গেছে, কয়লা খনির ভূ-গর্ব থেকে উত্তোলিত পানিতে ঐ ডাস্টগুলো ভেসে আসে। এ পানি ড্রেন দিয়ে বাহিরে বের করে দেয়ার সময় কতকগুলো দিন মজুর ও এলাকার মহিলারা জাল কিংবা স্বচ্ছ কাপড় দ্বারা ডাস্ট আহরণ করে। পাশেই রেলওয়ের জায়গা দখল করে খাল খনন করে কিংবা নিজের জমিতে খাল করে কেউ কেউ কয়লা খনি থেকে বের হওয়া পানি নিজের জমিতে রেখে দিয়ে কয়লার ডাস্ট আহরণ করছেন। ঐ ডাস্ট রাস্থার ধারে কিংবা কোন মিল চাতালে রেখে শুকিয়ে তা আবার কয়লা গ্রাহকের কাছে বিক্রি করছে।

অনেকে জমি থেকে মাটিসহ কয়লার ডাস্ট তুলে এনে ডাস্টের সাথে মিশিয়ে ব্যবসা করছে। এই ডাস্টের মূল্য তুলনামূলক কম হওয়ায় কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির কয়লা ও ডাস্টের সাথে মিশ্রন করে গ্রাহকের কাছে বুঝিয়ে দিচ্ছে। ডাস্ট আহরণকারী ঐ দিন মজুরেরা দিনে ১৫০ হতে ২০০ টাকা মজুরি পেলেও আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যাচ্ছে এর সাথে জড়িত কয়লা ব্যবসায়ীরা। ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে যারা সরল বিশ্বাস নিয়ে দুরদুরান্ত থেকে এসে ঐ ব্যবসায়ীদের নিকট কয়লা ক্রয় করছে।

এদিকে গ্রাম এলাকায় ও চলাচলরত রাস্থার ধারে যত্রতত্রভাবে ডাস্টগুলো স্থুপ করে রাখায় তা বাতাশে ভেসে মানব দেহে প্রবেশ করছে। এতে করে ঐ রাস্থা দিয়ে চলাচলরত পথচারী ও ঐ এলাকার বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যহানী ঘটছে।
ফুলবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পার্বতীপুর হলদীবাড়ী স্বাস্থ্যকেন্দ্র সূত্রে জানা গেছে, খনি এলাকার অধিকাংশ মানুষ শ্বাস কষ্টে ভুগছেন। তারা প্রায় সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ভিড় জমাচ্ছেন । যা গত কয়েক সপ্তাহ থেকে শীতের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় ঐ এলাকায় শ্বাস কষ্টে শিশুসহ বৃদ্ধা ব্যক্তিরা আক্রান্ত হচ্ছে।

তথ্য নিয়ে জানা গেছে, ঐ এলাকার কিছু অসাধু ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট তৈরি করে কয়লা খনির সিবিএ শ্রমিক সংগঠনের কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সঙ্গে মাসোহারা গোপন চুক্তির বিনিময়ে তারাই কয়লা খনি থেকে সেচকৃত পানি তাদের নিজেদের আয়ত্বে ব্যবহার করে এই ডাস্ট উত্তোলন করছেন। কেউ কেউ ডাস্টের ব্যবসায় করে এখন কোটিপতি হয়েছে। অথচ তাদের ব্যবসার কারণে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে ঐ এলাকার বাসিন্দাসহ পথচারীরা।

পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্তা ব্যক্তিরা খনি এলাকায় কোন পরিদর্শনে না আসায় অসাধু ব্যবসায়ীরা বীরদর্পে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের ব্যবসা। এখনই যত্রযত্র ভাবে রাখা ডাস্টের স্তুপ গুলো জন বসতি এলাকা ও চলাচলরত রাস্তার ধার থেকে স্থানান্তর না করা হলে ঐ এলাকায় জনস্বাস্থ্যের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এ জন্য ফুলবাড়ী পার্বতীপুর মহাসড়কে চলাচলরত ও খনির এলাকার স্থায়ী বাসিন্দারা যত্রতত্র কয়লার ডাস্টের স্তুপ সারানোর জন্য পরিবেশ অধিদপ্তর ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে ডাস্টের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা সাব জানিয়ে দেন, আমরা উপর মহলকে ম্যানেজ করেই এই ব্যবসা করে আসছি। আর যেখানে ডাস্ট রেখেছি সেই জায়গাগুলো আমাদের নিজস্ব এবং ভাড়াকৃত।