মেইন ম্যেনু

দিনাজপুরে এই প্রথম ৯ বছরের শিশুর ওপেন হার্ট সার্জারী

দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল এন্ড রিসার্চ ইন্সটিটিউটে ৯ বছর বয়সের এক শিশুর ওপেন হার্ট সার্জারী মাধ্যমে (এএসডি ক্লোজার) মাইটাল ভালভ্ মেরামত করার সাফল্য বয়ে আনে।

হাসপাতাল সুত্রে জানা যায়, পার্বতীপুর উপজেলার রায়পুর গ্রামের নাবিউল ইসলাম এর শিশু কন্যা নাদিয়া আফরোজ আনিসা (৯)। জন্মগতভাবে এই হৃদরোগের সমস্যা ভুগছিল। জন্মগত এ রোগটি সহজে ধরা পড়ে না। আনিসার ক্ষেত্রে ভালভে একটি ছিদ্র থাকায় রোগটি দ্রুত নির্ণয় করা সম্ভব হয়। এ রোগ হলে ছোট বেলা থেকেই প্রায় সময় ঠান্ডা লাগা, ঠান্ডাজনিত রোগ যেমন কাশি, সর্দি, জ্বর, নিউমোনিয়া প্রতিনিয়ত লেগে থাকে।

এছাড়াও সুষ্ঠুভাবে চলাফেরা করা যায় না কারণ সামান্য পরিমাণ হাঁটা বা খেলাধুলা করতে গেলে হাঁপিয়ে উঠে। রোগীটি অনেক দিন ধরে এ রোগে ভুগছিল। বিভিন্ন জায়গায় পরীক্ষা নিরীক্ষা করে পারমাণবিক হাসপাতালের পরিচালক ডা. বিকে বোস রোগীটিকে জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশনের চীফ কার্ডিয়াক সার্জন ডা. ফয়েজুল ইসলামের কাছে প্রেরণ করেন।

প্রতিষ্ঠানের চীফ কার্ডিয়াক সার্জন ডা. ফয়েজুল ইসলাম জানান, এই রোগটি জন্ম থেকে শুরু করে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত যে কোন সময় ধরা পড়তে পারে এবং ধীরগতিতে এর সুঠু চিকিৎসা করাও সম্ভব। কিন্তু আনিসা শিশুটির জন্মগত এই রোগটির পাশাপাশি হার্টের একটি বড় ধরণের ছিদ্র রয়েছে যার কারণে তার বয়স বৃদ্ধি ও উচ্চতার ক্রমান্বয়ে যে ওজন হওয়ার প্রয়োজন সেই ওজন হয়নি, শারীরিক গঠন খারাপ থাকায় রোগটি দ্রুত ধরা পড়ে। ডাক্তার এ রোগ সম্পর্কে ধারণা দিয়ে বলেন, মানুষের হৃদপিন্ডে এক দিকে বিশুদ্ধ রক্ত ও অন্যদিকে দূষিত রক্ত প্রবাহিত হয়।

হার্টের ছিদ্র থাকার কারণে দূষিত রক্ত যে স্থান থাকে সেই স্থানের রক্তচাপ বেড়ে গেলে দূষিত রক্ত উল্টো দিকে প্রবাহিত হয়ে বিশুদ্ধ রক্তের দিকে ধাবিত হয়। ফলে রোগীকে বাঁচানো অসম্ভব হয়ে পড়ে। সেক্ষেত্রে এ রোগের সুঠু চিকিৎসা করতে অনেক জটিলতার সম্মুখিন হতে হয়। এই ধরণের রোগের অপারেশন আমাদের দেশে ঢাকার বাইরে এই প্রথম দিনাজপুরে করা সম্ভব হয়েছে।