মেইন ম্যেনু

দিনাজপুরে খাসির চামড়ার দাম ১০ টাকা

কুরবানির পশুর চামড়া কেনা নিয়ে বিপাকে পড়েছেন দিনাজপুরের চামড়া ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া কিনে লোকসানে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা বলছেন, এবার চামড়ার যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনতে হয়েছে। চামড়ার মোকামে গিয়ে খাসির চামড়া বিক্রি করেছেন ১০ টাকায়।

আর চামড়ার বড় ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত বছরের বকেয়া প্রায় ১৫ কোটি টাকা এখনও পরিশোধ করেননি ট্যানারি মালিকরা। ফলে পুঁজির অভাবে এ বছর তারা বেশি চামড়া কিনতে পারছেন না। এতে করে চামড়া শিল্প ক্ষতির মুখে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন তারা।

উত্তরবঙ্গের দ্বিতীয় বৃহত্তম চামড়ার বাজার দিনাজপুরের রামনগর। এখানে রামনগরের চামড়া বাজারে দিনাজপুর জেলাসহ ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারী জেলার চামড়া বেচা-কেনা হয়। দিনাজপুরে দুই শতাধিক ব্যবসায়ী রয়েছেন যারা চামড়া কেনার পর ট্যানারিতে সরবরাহ করেন।

প্রতি বছর এখানে প্রায় ৭০-৭৫ হাজার পিস গরু ও ৪০-৫০ হাজার পিস ছাগলের চামড়া বেচাকেনা হয় । এর মধ্যে শুধু কুরবানির সময়েই এই বাজারে প্রায় ৪৫ হাজার পিস গরুর চামড় ও ২৬ হাজার পিস ছাগলের চামড়া বেচাকেনা হয়।

তবে গত বছরের চেয়ে এবার বেচাকেনা হয়েছে অনেক কম। চামড়ার বাজারে গিয়ে দেখা যায়, অনেক ব্যবসায়ীই চামড়া কিনছেন না। গত বছর যে চামড়া ২ হাজার থেকে ২৫০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, ক্রেতারা এবার তার দাম ৭০০ থেকে ৯০০ টাকার বেশি বলছেন না। একইভাবে গত বছরে যে খাসির চামড়া ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, এবারে তা বিক্রি হয়েছে ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকায়।

চামড়া ব্যবসায়ীরা জানান, চলতি বছরে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়ার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন লবণযুক্ত গরুর চামড়া প্রতি বর্গফুট ঢাকায় ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকা এবং খাসির চামড়া প্রতি বর্গফুট ২০ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে।

তাদের অভিযোগ, এবার যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে তা লবণযুক্ত চামড়ার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কিন্তু লবণ ছাড়াই এই দামের চেয়ে বেশি দামে চামড়া কিনতে হচ্ছে। এছাড়া জেলার প্রায় ২০০ চামড়া ব্যবসায়ী ঢাকা ও নাটোরের আড়তদার ও ট্যানারি মালিকদের কাছে গত বছরের বকেয়া ১৫ কোটি টাকা পাবেন। এ টাকা না পাওয়ায় কুরবানির চামড়া কেনার ব্যাপারে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ফড়িয়াদের মাঝে চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম ও সেলিম জানান, যেভাবে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে তাতে করে গত বছরের তুলনায় প্রতিটি চামড়ার দাম প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। এরপরও বেশি দামে চামড়া কিনে লোকসানে পড়েছেন তারা। তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন এলাকার ব্যবসায়ীদের মতামত ও বিশ্ববাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করা উচিত।

ট্যানারিতে চামড়া সরবরাহকারী সাইফুল ইসলাম জানান, ট্যানারি মালিকদের কাছে এ এলাকার ব্যবসায়ীদের ১৫ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে। তিনি নিজেও পাবেন প্রায় ৪০ লাখ টাকা। ফলে এবার পুঁজির ঘাটতিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এ কারণে বাড়তি পুঁজি খাটিয়ে অনিশ্চয়তায় পড়তে চান না কেউই।

চামড়া ব্যবসায়ী তোসাদ্দেক হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আড়তদারদের এ ধরনের আচরণের জন্য চামড়া শিল্প ধ্বংসের মুখে পড়েছে। আবার মৌসুমি ব্যবসায়ীদের উৎপাতে সমস্যায় পড়েছেন তারা।

দিনাজপুর চামড়া ব্যবসায়ী মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আখতার আজিজ জানান, চলতি বছর চামড়ার যে মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে, তার চেয়ে চামড়ার মূল্য অনেক বেশি। তাছাড়া মৌসুমি ব্যবসায়ীরা চামড়ার মূল্য বাড়িয়ে দিয়েছেন।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘পাওনার ১৫ কোটি টাকার মধ্যে ট্যানারি মালিকরা মাত্র ১০ থেকে ২০ শতাংশ বকেয়া মূল্য পরিশোধ করেছেন। এভাবে চলতে থাকলে চামড়া শিল্পের ক্ষতি হতে পারে।

এদিকে, দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে ঈদুল আজহার পশু চামড়ার বাজারে ধস নেমেছে। প্রতিটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হয়েছে ১০ থেকে ১৫ টাকায়। গরুর চামড়া ৩০০ থেকে ৯ হাজার টাকায়।

চামড়ার খুচরা ব্যবসায়ী সাইলু আহম্মেদ, আব্দুর রউফ, কুরবান আলী বলেন, সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী গরুর চামড়া ৪০ টাকা বর্গফিট নির্ধারণ করা হয়েছে। একটি গরুর চামড়া কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩৬ বর্গফিট পর্যন্ত হয়। যা সরকারি মূল্য অনুযায়ী ১ হজার টাকা থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা এবং খাসির চামড়া প্রতি বর্গফিট ২০ টাকা ও সাধারণ ছাগলের চামড়া প্রতি বর্গফিট ১৫ টাকা।

এতে প্রতিটি চামড়ার মূল্য দাড়ায় ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এই হিসাব করেই তারা গ্রাম থেকে চামড়া সংগ্রহ করেছেন। কিন্তু চামড়ার মহাজনেরা সেই দাম তোয়াক্কা না করে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী কম মূল্যে চামড়া কেনায় তারা বড় রকমের লোকসানের মুখে পড়েছে।

এদিকে, চামড়ার ফুলবাড়ী মহাজন ইউনুছ আলী, কাবির হোসেন, সুধির চন্দ্র বলেন, প্রতি বর্গফিট ৪০ টাকা দরে চামড়া বিক্রি করা হবে ঢাকায়। কিন্তু চামড়াটি প্রক্রিয়াজাত করতে প্রতিটি চামড়ার পেছনে একটি মোটা অংকের প্রক্রিয়াজাত খরচ হয়। এ কারণেই নির্ধারিত মূল্যের একটু কমে চামড়া কিনতে হয়।