মেইন ম্যেনু

দিনাজপুরে ম্যাজিষ্ট্রেটের সিল ও স্বাক্ষর জাল : এসআই জেল-হাজতে

শাহ্ আলম শাহী, দিনাজপুর থেকেঃ দিনাজপুর অতিরিক্ত চীফ জুটিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের সিল ও স্বাক্ষর জাল করে বীরগঞ্জে চোরাই মোটর সাইকেল বিক্রির ঘটনায় রাজশাহী গোদাগাড়ী থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনকে জেল-হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।
আজ বুধবার দুপুরে দিনাজপুর জেলার অতিরিক্ত চীফ জুটিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আহশানুল হক এ আদেশ দিয়েছেন। নিলামে মোটর সাইকেল ক্রয় করা ক্রেতা গফ্ফার আলী এবং অতিরিক্ত চীফ জুটিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের নাজির মোঃ মামুন হোসেন দায়ের করা পৃথক দু’টি দায়ের করা মামলায় তাকে জেলে নেয়া হয়েছে।মামলায় উল্লেখ রয়েছে, গত মে/১৪ইং থেকে চলতি ৩০মার্চ/১৬ইং দিনাজপুর বীরগঞ্জ থানায় কর্মরত বর্তমানে বদলী হয়ে রাজশাহী রেঞ্জের গোদাগারী থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন জেলার অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এফএম আহশানুল হক ও সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখার এক কর্মকর্তার স্বাক্ষর জাল করে ২৩টি চোরাই মোটর সাইকেল বিক্রি করে। ওই ঘটনায় অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট এফএম আহশানুল হক থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন বীরগঞ্জ ও এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন গোদাগারী থানায় শোকজ নোটিশ প্রেরন করে। অভিযোগের ব্যাখ্যা সহ সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নিদের্শ দেন। জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট কার্যালয়ের নাজির মোঃ মামুন হোসেন জানান, ম্যাজিষ্ট্রেট ২৩আগস্ট/১৫ইং কর্মস্থলে যোগদান করেন। ওই বছরে ২৫ ডিসেম্বর বীরগঞ্জ থানার ৫টি মোটর সাইকেল নিলামের জন্য তাকে নিযুক্ত করা হয়। এরপর আর কোন মোটর সাইকেল নিলামের নিদের্শ দেওয়া হয়নি। বীরগঞ্জ থানার ওসি মোঃ জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, উপজেলার গান্ডাড়া গ্রামের পূজার অনুষ্ঠান থেকে গত ২৬ মার্চ চৌকিশ্বর গ্রামের পরিমল চন্দ্র রায়ের কালো রঙের বাজাজ ডিসকোভার মোটর সাইকেল চুরি হয়। গত ১৪ এপ্রিল বীরগঞ্জ পৌরসভার সাগর নামের এক মেকারের কাছে দেখতে পান পরিমল। মোটর সাইকেলেটির খোঁজ নিতে গেলে দেবীপুর গামের বদিউল বলেন, তিনি মোটর সাইকেলটি থানার এসআই জাহাঙ্গীরের কাছে ক্রয় করেছেন এবং নিলামের কাগজ দেখান। মালিকানা নিয়ে দুইজনের মধ্যে হাতাহাতি হয়। পরে থানায় নিলামের কাগজটি মিলিয়ে দেখলে জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। চোরাই মোটর সাইকেল তদন্ত কমিটি গঠন পুলিশ জানায়, ঘটনাটি জানাজানি হলে এসআই মোঃ জাহাঙ্গীরের কাছ থেকে মোটর সাইকেল কেনা আরো ২২জন থানায় নিলামের কাগজ যাচাই করারর জন্য গত ২৩ এপ্রিল প্রথমে থানায় পরে অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট গিয়ে জানতে পারেন ২৫ ডিসেম্বর ৫টি মোটর সাইকেল ছাড়া আর নিলামের আদেশ দেওয়া হয়নি। নিলামের কাগজে অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেটের স্বাক্ষর ও আদালতের সিল ব্যবহার করা হয়েছে তা জাল। যে স্মারক ব্যবহার করা হয়েছে সেটি ভূয়া স্মারক। এ ছাড়ারও দিনাজপুর সোনালী ব্যাংক করপোরেট শাখায় মোটর সাইকেল নিলামের টাকা জমা দেওয়ার রশিদটি ব্যবহার করা হয়েছে সেটিও ভূয়া। ওই রশিদে যে কর্মকর্তার স্বাক্ষর ব্যবহার করা হয়েছে তিনি এক বছর আগে বদলী হয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। বিধি মোতাবেক বিড লিস্টে নিলামের মালামালের বিষয়ে থানার জিডি বা মামলা নং- ছিলনা। মোটর সাইকেল ক্রেতাদের নিলামের কাগজ থেকে জানা গেছে, ৩১ ডিসেম্বর-১৭টি, ২৫ ডিসেম্বর-২টি, ২৮, ২৯ ও ৩০ ডিসেম্বর ১টি করে মোটর সাইকেল নিলামে বিক্রি দেখানো হয়েছে।
এ ঘটনায় আদালতে পৃথক ৩টি মামলা হয়েছে। আজ পৃথক দু’টি মামলায় রাজশাহী গোদাগাড়ী থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেনকে জেল-হাজতে প্রেরণ করেছে আদালত।