মেইন ম্যেনু

দিনে ১২ ঘণ্টা কাজ করেন ৯২ বছরের বৃদ্ধ

যে কোনো ‍যুবকও তাকে দেখে লজ্জা পাবে। কারণ, জীবনের শেষ প্রান্তে পৌছেও কারো বোঝা হয়ে থাকেননি। এখনো নিজের দুই হাতে শক্ত করে ধরে রেখেছেন জীবনগাড়ির চাকাটি। বলছিলাম ভারতের বেঙ্গালোর শহরের বাসিন্দা এম পার্থসারথীর কথা। বয়স ৯২ বছর। হলে কি হবে, এখনো প্রতিদিন ১২ ঘণ্টা কাজ করেন। সারাদিন অটো চালান। সন্ধ্যায় বসেন নিজের দোকানে।

শহরের সবাই তাকে এক নামে চেনে। পরনে পাট ভাঙা পরিচ্ছন্ন সাদা ধুতি আর ফতুয়া। গলায় ঝুলছে সোনার চেন। এই বেশেই গাড়ি চালান। রোজ শহরের এ মাথা থেকে ও মাথা চষে বেড়ায় তার অটো। ৯২ বছরের এই বৃদ্ধ সপ্তাহে সাতদিনই কাজ করেন। ছুটির দিনগুলোতেও এ নিয়মের হেরফের হয় না। থাকেন ব্যাঙ্গালোরের গোকুলাম এলাকায়। সকাল ১০টায় বের হন অটো নিয়ে। ফেরেন বিকেল পাঁচটায়। যাত্রীরা যেখানে বলবেন সেখানে যেতেই প্রস্তুত পার্থসারথী। এ নিয়ে তার কোনো বায়নাক্কা নেই। তার কাজে সন্তুষ্ট যাত্রীরা। এজন্য অনেকের কাছেই তার ফোন নাম্বার আছে। প্রয়োজনে কল করেন।

সারাদিন অটো চালানা শেষে বিকেলে গিয়ে বসেন তার ছোট্ট দোকান ইন্দিরা সুইটসে। এক বন্ধুর সঙ্গে মিলে এই মিষ্টির ব্যবসা শুরু করেছিলেন গত ৩৪ বছর আগে। সুস্বাদু খাবারের জন্য দোকানটি বেশ সুনাম করেছে। শুধু কি খাবারের মান? অবশ্যই না, অমায়িক ব্যবহারে কারণেই এই মিষ্টির ব্যবসাতেও সফল হয়েছেন পার্থসারথী। এখান থেকে ঘরে ফিরে বিছানায় যেতে যেতে রাত ১২টা। বিছানা ছাড়েন ভোর ৬টায়। এই ব্রাক্ষণের দিন শুরু হয় পূঁজা অর্চনা দিয়ে। নিয়মিত মন্দিরে যান। সেখান থেকে ফিরে হালাকা নাস্তা সেরেই বেরিয়ে পড়েন অটো নিয়ে। বিকেলে বাড়ি ফিরলেই ছুটে আসেন ৮৩ বছরে সহধর্মিনী রুখমিনাম্মা। স্বামীকে খাবার সাজিয়ে দেন। তিনি অপাদমস্তক নিরামিষভোজি। সব্জি দিয়েই সারেন লাঞ্চ। এরপর একটু বিশ্রাম নিয়ে ছুটে যান ইন্দিরা সুইটসে মানে দোকানে। সেখানে থাকেন গভীর রাত অব্দি।

চার ছেলে, তিন মেয়ে আর আট নাতি নাতনি নিয়ে সুখের সংসার পার্থসারথীর। ছেলেমেয়েদের শিক্ষিত করেছেন। তারাও নিজ নিজ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত। তিন ছেলে আর নাতি নাতনিদের নিয়ে এক বিশাল একান্নবর্তী পরিবারের অধিপতি তিনি। সততা, পরিশ্রম আর আপনজনদের ভালোবাসার কারণেই ৯২ বছর বয়সেও সুস্থ সবল রয়েছেন এই অটোচালক। আপনজনেরা তাকে অটো চালানো ছেড়ে দিতে বলেন। কিন্তু এটি তার পক্ষে সম্ভব নয়। যতদিন বেঁচে আছেন ততদিন এই ছোট্ট গাড়িটি চালিয়ে যাওয়ার বাসনা। এর চাকার সঙ্গেই যে বেঁধে ফেলেছেন নিজের জীবনকে।