মেইন ম্যেনু

দিনে ৪৯ খুন!

আফ্রিকার অবিসংবাদিত নেতা নেলসন ম্যান্ডেলার দেশ দক্ষিণ আফ্রিকা। বর্ণবাদ বিরোধী আন্দোলনের সফল এক উদাহরণ এই দেশটি। যদিও চলতি বছরেও বর্ণবাদ সম্পর্কিত কিছু সহিংস ঘটনা দাক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ সমস্যার ইতি প্রশ্নে সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। বেশ কয়েকটি স্বাধীন বেসরকারী গবেষণা সংস্থার দেয়া তথ্য ও বিশ্লেষণ মোতাবেক, দক্ষিণ আফ্রিকা এখনও বর্ণবাদের থাবা থেকে বের হতে পারেনি। শুধু তাই নয়, প্রতিদিনই দেশটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ বিভিন্ন কারণে হত্যাকাণ্ডের শিকার হচ্ছে। সম্প্রতি দেশটির সরকারের দেয়া এক পরিসংখ্যান অনুসারে, গত বছরের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকার খুনের হার ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। অর্থাৎ, নতুন হিসেব অনুযায়ী, প্রতিদিন দেশটিতে ৪৯জন মানুষ খুন হচ্ছে।

গত বছরের এপ্রিল থেকে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত মোট ১৭ হাজার ৮০৫ জন মানুষ হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়। দেশটির মোট জনসংখ্যা ৫৪ মিলিয়ন এবং গত বছর থেকে একদিকে যেমন জন্মহার কমেছে তেমনি হত্যাকাণ্ডের সংখ্যাও বেড়েছে। সরকার দাবি করছে যে, তারা সমস্যা নিরসনে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে কিন্তু গত দশ বছরের অপরাধের মাত্রা রাতারাতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। বিরোধী দলগুলো এবং বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সরকারের অপরাধ নিয়ন্ত্রন কৌশলের সমালোচনা করে বলছেন যে, সরকার অপরাধ নিয়ন্ত্রনে সঠিক কৌশল গ্রহন করতে পারছে না। আর কৌশল গ্রহন করতে না পারার প্রধান অন্তরায় হলো স্বজনপ্রীতি ও পারিবারিক রাজনীতির নগ্নতা।

দেশটির প্রধান বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্সের নেতা কোহলার বার্নার্ড এবিষয়ে বলেন, ‘মৃতের সংখ্যা ১৭ হাজার ৮০৫ জন দেখে মনে হতে পারে দেশটি যুদ্ধের ভেতর আছে।’ বিরোধী দলীয় নেতার বক্তব্য পড়ে সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে, শুধু রাষ্ট্রীয় হত্যাকাণ্ডই নয় অপরাধীদের আভ্যন্তরীন কোন্দলেও প্রচুর মানুষ মারা যাচ্ছে। সশস্ত্র ডাকাতি, গাড়ি ছিনতাইয়ের ঘটনা খুব সাধারণ ঘটনায় পরিনত হয়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার ইন্সিটিটিউট ফর সিকিউরিটি স্টাডিজ বিভাগের চিন্তাবিদ গ্রেথ নিউহ্যামের মতে, এই ভয়াবহ অবস্থা নিরসনে সরকারের পক্ষ থেকে যে পরিকল্পনা গ্রহন করা হচ্ছে তা অপরাধ কমানোর চেয়ে বাড়িয়ে তুলছে।

খুন২অবশ্য সরকারের পক্ষ থেকে অপরাধ নিয়ন্ত্রনে পুলিশের ব্যর্থতার কারণ হিসেবে বাহিনীর হাতে অপ্রতুল সরঞ্জাম থাকাকে দেখানো হয়েছিল। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা দেখিয়েছেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকায় পুলিশ সদস্যের সংখ্যা প্রায় দুই লাখ এবং তাদের কাছে যে অস্ত্র রয়েছে তা অন্যান্য অনেক কম অপরাধ প্রবণ রাষ্ট্রের তুলনায় পর্যাপ্ত। স্থানীয় পর্যায়ে সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রন না থাকাকেই হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন দেশটির রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

গত বছর দক্ষিণ আফ্রিকার বিভিন্ন পুলিশ স্টেশনে পঞ্চাশ হাজারেরও বেশি যৌণ হয়রানির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বাস্তবে দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদিন যে পরিমান অপরাধ সংঘঠিত হচ্ছে, তার সামান্য অংশই কার্যত থানায় রেকর্ডভুক্ত হচ্ছে। আর সম্প্রদায়গুলোর মধ্যে আইনী বিচার না পাওয়ার কারণে নিজেদের হাতে আইন তুলে নেয়ার ঘটনা বাড়ছে। কারণ প্রত্যেক সম্প্রদায়ই তার নিজ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাধ্য।