মেইন ম্যেনু

দীপন খুনে ‘অপারেশন প্লান’ তৈরি করেন ‘জঙ্গি’ সবুর

জাগৃতি প্রকাশনীর প্রকাশক ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা, শুদ্ধেশ^র প্রকাশনীর প্রকাশক আহমেদুর রশীদ টুটুল হত্যা চেষ্টায় জড়িত আনসারুল্লাহ বাংলাটিম (এবিটি) সদস্যদের অস্ত্র ও সামরিক প্রশিক্ষণ দেওয়া থেকে শুরু করে ঘটনাস্থল রেকি এবং অপারেশন প্লান তৈরির সার্বিক দায়িত্বে (মাসুল) ছিলেন গ্রেপ্তার ‘জঙ্গি’ আবদুস সবুর।

রবিবার সংবাদ সম্মেলনে একথা জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের বিশেষ শাখা কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের অতিরিক্ত কমিশনার মো. মনিরুল ইসলাম। শনিবার সকালে সবুরকে টঙ্গী থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে মনিরুল সাংবাদিকদের বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আবদুস সবুর মোহাম্মদপুরে নবোদয় হাউজিংয়ে আনসারুল্লাহ বাংলাটিম (এবিটি) সদস্যদের বোমা তৈরির প্রশিক্ষণ দিতেন । এছাড়া বাড্ডার সাতারকুলে এবিটির নতুন মারকাযের (আস্তানা) প্রশিক্ষকও ছিলেন এই জঙ্গি।

গোয়েন্দা পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো বলেন, চলতি বছরের ১৫ জুন বিমান বন্দর এলাকা থেকে প্রকাশক টুটুল হত্যা চেষ্টায় সরাসরি অংশগ্রহণকারি আসামি মো. সুমন হোসেন ওরফে শাকিব ওরফে শিহাব ওরফে সাইফুল। এছাড়া গত ২৩ আগস্ট টঙ্গীর চেরাগ আলী থেকে জাগৃতির প্রকাশক দীপন হত্যায় জড়িত আসামি মইনুল হাসান শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে আবদুস সবুরকে গ্রেপ্তার করা হলো।

‘জঙ্গি’ আবদুস সবুরকে গ্রেপ্তারে ঢাকা মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে দুই লাখ টাকা পুরষ্কার ঘোষণা করা হয়েছিল। সবুর আনসার আল ইসলামের (এবিটি) সামরিক শাখার শীর্ষ ০৪ জন মাসুলের (দায়িত্বশীল ব্যাক্তি) একজন।

গত ২০১৫ সালের ৩১ অক্টোবর রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে ও লালমাটিয়ায় যথাক্রমে জাগৃতি প্রকাশনীর মালিক ও প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনকে হত্যা এবং শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর মালিক প্রকাশক আহমেদ রশিদ টুটুলের উপর নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার আল ইসলামের (এবিটি) সদস্যরা হামলা চালায়।

হামলায় আজিজ সুপার মার্কেটে প্রকাশক ফয়সাল আরেফিন দীপনের “জাগৃতি” প্রকাশনা অফিসে এবিটির হামলায় দীপন নিহত হন এবং একই সময়ে লালমাটিয়ায় প্রকাশক টুটুলের “শুদ্ধস্বর” প্রকাশনা অফিসে ওই হামলায় টুটুলসহ তিন জন মারাত্মক আহত হন। এসব ঘটনায় শাহবাগ ও মোহাম্মদপুর থানায় পৃথক দুইটি মামলা করা হয়।