মেইন ম্যেনু

দীর্ঘদিন যাবত নিদ্রাহীনতার সমস্যায় ভুগছেন?

যারা সারাদিন কর্মব্যস্ত দিন কাটান তাদের বেশির ভাগেরই বিছানায় শোয়া মাত্রই ঘুম চলে আসে। কিন্তু কিছু মানুষ বিছানায় শুয়ে অনেকক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখার পরও ঘুম আসেনা তাদের চোখে। অন্ধকারে এপাশ ওপাশ করেও যখন ঘুম আসেনা তখন একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বিছানা থেকে উঠে যান তারা। তারপর ঘুমের ঔষধের দ্বারস্থ হন। কারণ আপনাকে কয়েক ঘন্টা ঘুমাতে হবে, নাহলে সারারাত জেগে থাকলে সকালে উঠে আবার কাজের জন্য ছুটবেন কীভাবে? আপনার সাথে মিলে যাচ্ছে এই লক্ষণটা? লক্ষ লক্ষ মানুষ এই সমস্যায় ভুগছে।

আনুমানিক ৩০% বয়স্ক মানুষ ইনসমনিয়ায় ভুগছে। আমেরিকার Centers for Disease Control and Prevention ঘুমের অপর্যাপ্ততাকে একটি জনস্বাস্থ্য মহামারী বলে আখ্যায়িত করেছে। কারণ অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে অন্যান্য শারীরিক সমস্যা যেমন- উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, বিষণ্ণতা এমনকি ক্যান্সার হওয়ার ও ঝুঁকি বাড়ে। অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে অন্য সমস্যা যেমন- কর্মক্ষেত্রে ভুল হাওয়া বিশেষ করে যারা মেডিক্যালে বা শিল্প ক্ষেত্রে কাজ করে, গাড়ী দুর্ঘটনারও কারণ হতে পারে ঘুমের সমস্যা। কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে যে, যাদের কম ঘুম হয় তাদের উৎপাদনশীলতা কমে যায় এবং তাদের জীবনের দৈর্ঘ্যও কমে যায়।

অপর্যাপ্ত ঘুমের কারণে মানুষের মেজাজ রুক্ষ হয়ে যায়, ফলে পরিবারের সদস্যদের সাথে, বন্ধু বান্ধবের সাথে এমনকি সহকর্মীর সাথেও দুরব্যবহার করতে শুরু করে। ঘুমের ঔষধের প্রতি একবার নির্ভরশীল হয়ে পড়লে ঔষধ ছাড়া আর ঘুম আসেনা। ঘুমের ঔষধ আপনার সহজাত ঘুম চক্রের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে এবং রাতের বেলায় অনেক বার ঘুম ভেঙ্গেও যেতে পারে।

অনেকেই নির্ঘুম রাত কাটানোর পরে সকালে কাজে ঝাঁপিয়ে পরার জন্য উদ্দীপক ঔষধ গ্রহণ করে থাকেন যার ফলে রাতের ঘুমের সমস্যা আরো বৃদ্ধি পায়। অনেকেই তখন অ্যালকোহলেও আসক্ত হয়ে পড়েন এবং এই দুষ্ট চক্রের মধ্যে আবদ্ধ হয়ে যান। রাতে ঘুম না আসা, ঘুম ভেঙ্গে যাওয়া ও সকালে ঘুম থেকে উঠতে সমস্যা হওয়া ইত্যাদি উপসর্গ গুলো দেখা দিলে অবহেলা না করে বা নিজে নিজেই কোন ঔষধ গ্রহণ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক বা মনোবিজ্ঞানীর সাথে কথা বলে নিরাময়ের ব্যবস্থা নিন।