মেইন ম্যেনু

দীর্ঘ বন্দিত্বের অবসাদ কাঁটাতে ওষুধ খাচ্ছে চিড়িয়াখানার প্রাণীরা

শীতের এই ভরা মৌসুমেও ভারতের আলিপুর চিড়িয়াখানার বাসিন্দাদের নিয়ে ভাবনায় পড়ে গেছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘদিন ধরে খাঁচায় বন্দি থাকার ফলে অবসাদ গ্রাস করছে এখানকার বন্যপ্রাণীদের। তার উপরে রয়েছে সারা বছর ধরে দর্শকদের ভিড় এবং উৎপাত। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, দর্শকদের সামনে বাঘ-ভালুক-সিংহদের স্বাভাবিক রাখতে তাদের শরীরে ওষুধ প্রয়োগ করতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

জানা গেছে, গত এক সপ্তাহে একদিনে গড়ে ৫০ হাজার করে দর্শক এসেছেন চিড়িয়াখানায়। ২৫ ডিসেম্বরে তা পৌঁছায় ৯২ হাজারে। চিড়িয়াখানার অধিকর্তা আশিসকুমার সামন্তের জানালেন ‘‘এত ভীড়ে সমস্যা তো হয়ই। পশুর সংখ্যার তুলনায় চিড়িয়াখানর পরিধি অনেকটাই কম। এর প্রভাব পশুদের উপর পড়ে। ’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘পশুদের নিরাপত্তার জন্য শীতের সময় বেশি সংখ্যক নিরাপত্তারক্ষী মোতায়েন করা হয়। পশুদের অবসাদ কমানোর জন্য ওষুধও দেওয়া হচ্ছে। ’’

যদিও পশুদের উপর ওষুধ প্রয়োগের বিরোধিতা করেছেন পশু বিশেষজ্ঞরা। দার্জিলিং চিড়িয়াখানার সাবেক ‘সায়েন্টিফিক ডিরেক্টর’ সুনীতা প্রধান বলেছেন, ‘‘দীর্ঘদিনের বন্দিদশায় চিড়িয়াখানার পশুদের প্রায়ই স্নায়ুর রোগে ভুগতে দেখা যায়। তবে সেজন্য অবসাদ কমানোর ওষুধ ব্যবহার করা কখনওই উচিত নয়। পশুদের দেখভাল এবং বসবাসের ভাল ব্যবস্থা করাটাই জরুরি। ’’

বন্যপ্রানী বিশেষজ্ঞ তথা ‘ইন্ডিয়ান জু ইনকোয়ারি’ বইয়ের লেখক শুভব্রত ঘোষ বলেছেন, ‘‘বিভিন্ন চিড়িয়াখানায় কাজের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ভিড়ের প্রভাব বন্দি পশুদের উপর সাংঘাতিক। এতে পশুরা কমবেশি প্রত্যেকেই একঘেয়েমির শিকার হয়ে পড়ে। আলিপুর চিড়িয়াখানাও তার ব্যতিক্রম নয়। আমরা একে বলি ‘জুকোসিস’। ’’

প্রাণী বিশেষজ্ঞদের দাবি, চিড়িয়াখানার পশুপাখিদের সুস্থ ও চনমনে রাখতে হলে সর্বাগ্রে চাই সচেনতা। কিন্তু জায়গার সমস্যা এবং দর্শকদের উৎপাত— এ দু’টির কোনও ক্ষেত্রেই কি আদৌ বদল হবে? জানা নেই চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষেরও।