মেইন ম্যেনু

শহীদ সাংবাদিক স ম আলাউদ্দীনের ১৯ তম শাহাদাত বার্ষিকী পালিত

দীর্ঘ ১৯ বছরেও পত্রদূত সম্পাদক আলাউদ্দিন হত্যা মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় উদ্বেগ

দীর্ঘ ১৯ বছরেও দৈনিক পত্রদূত সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ স ম আলাউদ্দিন হত্যা মামলার বিচার শেষ না হওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাতক্ষীরার সাংবাদিক সমাজ।

শুক্রবার সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে শহীদ স ম আলাউদ্দিনের ১৯তম শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনায় সভায় সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান উজ্জলের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় শহীদ স ম আলাউদ্দিনের ঘাতকদের ফাঁসির দাবি জানিয়ে বক্তব্য রাখেন- সিনিয়র সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, আনিসুর রহিম, আবুল কালাম আজাদ, মিজানুর রহমান, মমতাজ আহমেদ বাপী, এম কামরুজ্জামান, মোজাফফর হোসেন, আবুল কাসেম, সেলিম রেজা মুকুল, রবিউল ইসলাম, বদিউজ্জামান বাচ্চু, এম ইদুজ্জামান ইদ্রিস, সাখাওয়াত উল্ল্যাহ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক ও ১৯৭০’র সর্বকনিষ্ঠ প্রাদেশিক পরিষদ সদস্য (এমপিএ) স ম আলাউদ্দিন ছিলেন আধুনিক সাতক্ষীরার রূপকার। সাতক্ষীরার উন্নয়নে তিনি নিজ প্রচেষ্টায় ভোমরা বন্দর প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। প্রতিষ্ঠা করেছিলেন সাতক্ষীরা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি। মূলত সাতক্ষীরার উন্নয়ন থমকে দিতেই গডফাদাররা তাকে কর্মরত অবস্থায় পত্রদূত পত্রিকা অফিসেই গুলি করে হত্যা করে। সাতক্ষীরাবাসীর দুর্ভাগ্য যে দীর্ঘ ১৯ বছরেও স ম আলাউদ্দিন হত্যার বিচার পায়নি। বরং এই হত্যা মামলার বিচার যাতে না হয়, সেজন্য খুনিরা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
এ সময় বক্তারা শহীদ সাংবাদিক স ম আলাউদ্দিনের খুনিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

এর আগে প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু আহমেদের নেতৃত্বে সাংবাদিকরা শহীদ স ম আলাউদ্দিনের পাটকেলঘাটা থানার মিঠাবাড়ি গ্রামস্থ কবর জিয়ারত করে তার প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ করেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন দৈনিক পত্রদূত অফিসে কর্মরত অবস্থায় দুস্কৃতিকারীদের গুলিতে নিহত হন বীর মুক্তিযোদ্ধা, সাবেক প্রাদেশিক পরিষদের সদস্য স ম আলাউদ্দিন। এ ঘটনায় নিহতের ভাই স ম নাছির উদ্দিন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা খুনিদের বিরুদ্ধে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যাকান্ডের ৫দিন পর পুলিশ হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত কাটা রাইফেলসহ সুলতানপুরের অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্য আব্দুল ওহাবের ছেলে যুবলীগ কর্মী সাইফুল ইসলামকে গ্রেফতার করে। সে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকান্ডের কারণ এবং এরসঙ্গে জড়িত হিসেবে সাতক্ষীরার চিহ্নিত গডফাদারদের নাম প্রকাশ করে। কিন্তু গডফাদারদের ষড়যন্ত্রে আজও বিচার শেষ হয়নি এই মামলার।