মেইন ম্যেনু

দীর্ঘ ২৪ বছর পর উদ্বোধন হলো রাবির টিএসসিসি

দীর্ঘ ২৪ বছর পর উদ্বোধন হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র (টিএসসিসি)। আজ বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ‘শহীদ সুখরঞ্জন সমাদ্দার ছাত্র-শিক্ষক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র’ নামের এই ভবনের উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকেই টিএসসিসি প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন করে আসছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক কর্মী, প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের কর্মী ও সংস্কৃতিমনা শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিনের এই আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টেডিয়াম সংলগ্ন পানির ট্যাংকের পাশে ১৯৯১ সালের ১৩ জানুয়ারি ভবনটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। কিন্তু একপর্যায়ে অর্থাভাবে ভবনের একটি অংশ নির্মাণের পর তা বন্ধ হয়ে যায়।

তবে ভবনের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি। এ বিষয়ে টিএসসিসির পরিচালক টিএমএম নূরুল মোদ্দাসের চৌধুরী বলেন, ভবনটির অবকাঠামোগত নির্মাণকাজ প্রায় শেষ। এখন ভেতরে সাজসজ্জা, সাউন্ড, লাইট ইত্যাদির কাজ করতে হবে। এখানে নাটকের মহড়া, নাটক মঞ্চায়ন, সেমিনার, চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, চিত্র প্রদর্শনী ইত্যাদির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক মুহম্মদ মিজানউদ্দিন বলেন, বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব নেওয়ার পর ভবনটি পূর্ণাঙ্গ রূপ দিতে কাজ করে গেছে। ভবনের বাকি কাজ একমাসের মধ্যেই শেষ হবে। এটি চালু হওয়ার মধ্যে দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে গতিশীলতা আসবে।

তবে নির্মিত টিএসসিসি পরিধি ও অবকাঠামো নিয়ে সংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে। সাংস্কৃতিক কর্মীদের অনেকে পুরনো নকশাটি বাদ দিয়ে নতুন নকশায় আরো বড় পরিধির টিএসসিসি নির্মাণের দাবি করে আসছিলেন। এই টিএসসিসি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থীর চাহিদা পূরণ করতে পারবে না বলে মনে করেন তারা।

এদিকে টিএসসিসি ভবনে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর জন্য মহড়া কক্ষ বরাদ্দ করার দাবি জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র ফেডারেশন। বুধবার বিকেলে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তমাশ্রী দাস ¯^াক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এখনো অনেক সাংস্কৃতিক সংগঠন খোলা আকাশের নিচে কার্যক্রম চালায়। তাদের অচিরেই কক্ষ বরাদ্দ দেয়া হোক। এছাড়া ভবনের অবকাঠামো আরো উন্নত করা দাবি জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, টিএসসিসি-এর ভবন নির্মাণ বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ২০০৪ সালে এটি সরকারিভাবে সোয়া কোটি টাকা বরাদ্দ পায়। পরে ২০০৫ সালের জুলাই মাসে আবারও পূর্ণাঙ্গ ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়। নির্মাণকাজ পরিদর্শনের জন্য একটি পরিদর্শক দল গঠন করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। দলটি একাধিকবার সরেজমিনে পরিদর্শন করে ভবনটির নকশাগত ত্রæটির কারণে একে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বলে রিপোর্টে উল্লেখ করে। এরপর ২০০৫ সালের ১৩ ডিসেম্বর থেকে আবার নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।
বেশ কয়েক মাস ধরে কাজ বন্ধ রাখার পর ২০০৬ সালের জুন মাসে নির্মাণকাজ পুনরায় শুরু করলে নি¤œমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের কারণে ওই বছরের ৮ অক্টোবর দুপুরে টিএসসিসি ভবনের ছাদের কাঠামো ভেঙে পড়ে। ফলে এটি পরিত্যক্ত একটি ভবনে পরিণত হয়।

২০০৯ সালের পরে আবারও নির্মাণকাজ শুরু করে প্রশাসন। কিন্তু অর্থসংকটের কারণে ধীরগতিতে এগোতে থাকে এর নির্মাণকাজ। অবশেষে ২০১৫ সালে এসে ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হচ্ছে।#