মেইন ম্যেনু

দুঃশ্চিন্তাই যখন আপনার ব্যাধি, কী করবেন আপনি?

দুঃশ্চিন্তা মানব জীবনের অতি সাধারণ একটি বিষয়। এটি এমন এক মানবীয় আবেগ যা জীবনের কোন না কোন ক্ষেত্রে প্রতিটা মানুষকেই প্রত্যক্ষ করতে হয়। পরীক্ষার হলে, ভাইভা বোর্ডে বা কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের সময়ে আমাদের সবাইকেই অল্পবিস্তর দুঃশ্চিন্তার কবলে পড়তে হয়। তবে এই অতিসাধারণ বিষয়টি একসময় ব্যাধিতে রূপান্তরিত হতে পারে। ইংরেজিতে এই রোগকে বলে Anxiety Disorders। বাংলায় বলতে পারি দুঃশ্চিন্তা ব্যাধি। আপনার কি সারাদিন কারণে-অকারণে দুশ্চিন্তা হয়? অল্পতেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আপনি। সব কিছু নিয়েই টেনশন হয়? তাহলে এই ফিচারটি আপনার জন্যই!

এই রোগটি কখনও কখনও মারাত্মক আকার নিতে পারে। anxiety disorder প্রধানত চার ধরনের হয়ে থাকে।

১. প্যানিক ডিসঅর্ডার

প্যানিক ডিসঅর্ডার এমন একটি বিষয় যে রোগে কোন বিশেষ কারণ ছাড়াই মানুষের মনে ভীতির সঞ্চার হয়। এ রোগের আরও কিছু লক্ষণ হচ্ছে-
• বুকে ব্যাথা অনুভূত হওয়া।
• হঠাৎ হার্টবিট বেড়ে যাওয়া।
• প্রচণ্ড ঘাম হওয়া।
• সর্বোপরি রোগীর মনে হয় তার হার্ট এট্যাক হতে চলেছে কিংবা সে পাগল হয়ে যাচ্ছে।

২. সামাজিক দুঃশ্চিন্তা ব্যাধি

একে সোশ্যাল ডিসঅর্ডারও বলা হয়ে থাকে। এক্ষেত্রে রোগী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে খুব দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভোগে। রোগী সবসময় দুঃশ্চিন্তার মধ্যে থাকে এবং তার আত্নবিশ্বাস শূন্যের কোঠায় নেমে আসে। মানুষ তাকে কীভাবে গ্রহণ করবে, তার কাজের মধ্যে ভুল আছে কি না এসব চিন্তায় সে সর্বদা ব্যতিব্যস্ত থাকে, ফলে তার সামাজিক জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে।

৩. বিশেষ কিছু বিষয়ে ভয়

অনেক মানুষ বিশেষ কিছু বিষয়ে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে থাকেন। যেমন কেউ হয়ত সাপ ভয় পান, কারো বা উঁচু বিল্ডিং ছাদ থেকে নিচে তাকালে মাথা ঘোরে, কারো পানি নিয়ে ভয় রয়েছে, কেউ মাকড়সা দেখলে ঘর থেকে পালিয়ে যান। এই বিশেষ ধরনের ভয়গুলো যখন আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে বাঁধাগ্রস্থ করে তখন তাকে রোগ না বলে উপায় থাকে না।

৪. সাধারণ দুঃশ্চিন্তা ব্যাধি

সাধারণ দুশ্চিন্তা ব্যাধি হচ্ছে যখন মানুষ কোন কারণ ছাড়া বা ছোট কোন বিষয়ে দিনরাত উদ্বিগ্ন থাকেন। তার কাছে মনে হতে থাকে তার জীবনে খুব খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে। কিন্তু কেন বা কীভাবে খারাপ কিছু ঘটতে চলেছে এর সুস্পস্ট ব্যাখ্যা তার কাছে থাকে না।

Anxiety Disorder এর কিছু সাধারণ লক্ষণগুলো হচ্ছে-

• কোন সাধারণ বিষয়ে প্রচণ্ড ভয় বা আতংকিত হওয়া।

• ঠিকমত ঘুম না হওয়া।

• নিঃশ্বাসে কষ্ট হওয়া।

• হাত ঠাণ্ডা হয়ে যাওয়া বা ঘাম হওয়া।

• মুখের মধ্যে শুকনো হয়ে যাওয়া।

• হার্টবিট বেড়ে যাওয়া।

• নিজেকে কোন অবস্থাতেই শান্ত রাখতে না পারা।

• হাত এবং পায়ে জড়তা আসা। ইত্যাদি।

চিকিৎসা

১। মেডিটেশন।

২। সাইকোথেরাপি।

৩। কগনেটিভ বেহেভিরাল থেরাপি।

৪। জীবনযাত্রার পদ্ধতি।

৫। রিলাক্সসেশন থেরাপি।

প্রতিরোধ

১। ক্যাফেইনযুক্ত খাবার ত্যাগ করা বা কম পরিমাণে গ্রহণ করা। ক্যাফেইনযুক্ত খাবার বলতে চা, কফি, কোলা, এনার্জি ড্রিঙ্ক, চকলেট এগুলোকে বোঝায়।

২। যে কোন ওষুধ গ্রহণের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া। কারণ অনেক ওষুধই উদ্বিগ্নতা বা দুশ্চিন্তাকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেয়।

৩। কোন সমস্যা মনে হলে শুরুতেই কাউন্সিলিং নেওয়া।

৪। ছোট ছোট বিভিন্ন কাজে সফল হয়ে ধীরে ধীরে নিজের ওপর আত্নবিশ্বাস বাড়ানোর চেষ্টা করা।

রেফারেন:
webmd.com- anxiety-panic guide mental-health-anxiety-disorders\