মেইন ম্যেনু

কলারোয়ায় ব্যাংক ডাকাতির সময় নিহত

দুই আনসার পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা আর্থিক সাহায়তা প্রদান

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় সোনালী ব্যাংকে ডাকাতির সময় নৃশংসভাবে খুন হওয়া কর্তব্যরত দুই আনসার সদস্যের পরিবারকে আর্থিক সাহায়তা প্রদান করা হয়েছে।

সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ব্যাংক ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শাখা ব্যবস্থাপক মনতোষ সরকারের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সোনালী ব্যাংক লিমিটেড’র জেনারেল ম্যানেজারস অফিস খুলনার জিএম নেপাল চন্দ্র সাহা। বিশেষ অতিথি হিসাবে ছিলেন ব্যাংকের প্রিন্সিপাল অফিস, সাতক্ষীরার ডিজিএম খান শহীদুল ইসলাম, কলারোয়া উপজেলা আ.লীগের সভাপতি উপজেলা চেয়ারম্যান ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন, ইউএনও অনুপ কুমার তালুকদার ও থানার অফিসার ইনচার্জ শেখ আবু সালেহ মাসুদ করিম।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন প্রথম আলোর স্টাফ রিপোর্টার কল্যাণ ব্যানার্জী, সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন, কলারোয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শিক্ষক দীপক শেঠ, সাধারণ সম্পাদক শেখ জুলফিকারুজ্জামান জিল্লু, সাবেক সাধারণ সম্পাদক প্রধান শিক্ষক রাশেদুল হাসান কামরুল, ভারপ্রাপ্ত পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম, আলহাজ্ব গোলাম রব্বানি, অধ্যাপক আবু বকর ছিদ্দিক, সাংবাদিক সংস্থার সভাপতি আনোয়ার হোসেন, সাংবাদিক সহকারী অধ্যাপক কেএম আনিছুর রহমান, এমএ সাজেদ, জুলফিকার আলী, ক্যামেরা পারসন আশা, ব্যাংক কর্মকর্তা সদর আলী, রফিক মল্লিক প্রমুখ।

সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালন করেন ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার প্রিন্সিপাল অফিস, সাতক্ষীরার জেসমিন আক্তার। ডাকাতির প্রচেষ্টাকালে গত ১৪ জুলাই পবিত্র শবে কদরের রাতে কলারোয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন সোনালী ব্যাংকের দ্বিতীয় তলায় কর্তব্যরত অবস্থায় ব্যাংকের দুই গার্ড আনসার সদস্য উপজেলার ঝাপাঘাট গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের পুত্র জাহাঙ্গীর হোসেন ও সাতক্ষীরা সদর উপজেলার হরিশপুর গ্রামের আনারুল ইসলামের পুত্র আসাদুজ্জামানকে নৃশংসভাবে জবাই ও কুপিয়ে হত্যা করে ডাকাতদল। ওই দুই গার্ড খুন হওয়ার প্রেক্ষিতে তাদের পরিবারকে সোনালী ব্যাংকের উদ্যোগে ৫ লাখ টাকা করে নগদ ১০ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে যেয়ে আবেগতাড়িত হয়ে কান্নারত অবস্থায় নিহত জাহাঙ্গীর হোসেন এর পিতা আব্দুল কাউয়ুম বলেন, আমাকে যদি অঢেল অর্থ সম্পদ দিয়ে বলা হয় তুমি সন্তান নেবে না অর্থ নেবে আমি একবাক্যে বলতাম আমার বুকের মানিক জাহাঙ্গীরকে চাই। তাঁর বক্তব্যে পুরো ব্যাংক ভবনে উপস্থিত অতিথিবৃন্দসহ সকলে যেন পিনপতন নিরবতায় বাকরুদ্ধ হয়ে ওই নরপশুদের ধিক্কার জানাচ্ছিলো। সন্তানহারা ওই দুই পরিবারের সদস্যদের সকলের কাছে জোরালো দাবি ছিলো তাদের পরিবারের যোগ্য সদস্যদের যেন ব্যাংকে কোন না কোন পদে চাকুরীর সুযোগ দেওয়া হয়। আর প্রকৃত খুনিদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়।

আলোচনা শেষে নিহত জাহাঙ্গীরের পিতা মসজিদের ইমাম আব্দুল কাইয়ুমকে ২ লাখ টাকা ও স্ত্রী সুমাইয়া খাতুনকে ৩ লাখ টাকা এবং নিহত আসাদুজ্জামানের পিতা আনারুল ইসলামকে ২ লাখ টাকা ও স্ত্রী রিমা পারভীনকে ৩ লাখ টাকা নগদ তুলে দেওয়া হয়। এ সময় নিহতের স্বজনরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।