মেইন ম্যেনু

দুই বছরে আইএসের হাতে নিহত ১৩শ

গত পাঁচ বছরে ইসলামিক স্টেট জঙ্গি সংগঠন বিশ্বের এক নম্বর সন্ত্রাসী সংগঠনের জায়গাটি দখল করে নিয়েছে শুধু হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে। একেরপর পর এক হামলায় ত্রাস সৃষ্টি করেছে ইউরোপ আমেরিকায়। গত ২ বছরে আইএসের হাতে খুন হয়েছেন ১৩০০ মানুষ। দায় স্বীকার করেছে বীরত্বের সাথে।

২০১৪ থেকে আইএসের হত্যাযজ্ঞের ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যাবে, তাদের আত্মঘাতী হামলার শিকার হয়েছেন মূলত পশ্চিমা দেশগুলোর নাগরিকরা। তারা হয়তো খুন হয়েছেন নিজেদের দেশ কিংবা প্রাণ হারিয়েছেন এশিয়া বা আফ্রিকার কোন দেশে।

বিদেশিদের ওপর আইএসের আক্রমণ শুরু হয়েছিল আলজেরিয়ায়। ২০১৪ সালের অক্টোবরের ঐ হামলায় আইএস জঙ্গিরা এক ফরাসি নাগরিকের মাথা কেটেছিল। এরপর নভেম্বর ও ডিসেম্বরে তারা আরও দুটি হামলার ঘটনা ঘটায় কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায়।

কানাডায় এলোপাথারি গুলি বর্ষণের পর তারা গাড়ি চাপা দিয়ে মেরেছিল উদ্ভ্রান্ত মানুষকে। ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে এপ্রিলের মধ্যে পশ্চিমা দেশগুলোতে আরও ৫টি ঘটনা ঘটিয়েছিল আইএস জঙ্গিরা। তার মধ্যে সবচেয়ে বড় দু’টি ঘটনা ঘটেছিল ডেনমার্ক আর তিউনিসিয়ায়।

তিউনিসিয়ার একটি মিউজিয়ামে আইএস জঙ্গিদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছিলেন বিদেশি পর্যটকরা। এরপর ২০১৫ সালের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর, এই ৯ মাসে ইউরোপের দেশ বা বিদেশি নাগরিকদের ওপর আইএস জঙ্গিদের হামলার ঘটনা ঘটেছে কম করে ৯টি।

এর মধ্যে সবচেয়ে বড় দু’টি ঘটনা ঘটেছে মিশরে ও প্যারিসে। মিশরে মারা গিয়েছিল ২২৪ জন আর প্যারিসে ১৩০ জন। মিশরের সিনাই পর্বতে একটি রুশ যাত্রীবাহী বিমানকে গুলি করে মাটিতে নামিয়েছিল ইসলামিক স্টেটের জঙ্গিরা।

২০১৬ সালের প্রথম ৬ মাসে বিদেশি নাগরিকদের ওপর আইএসের হানাদারির ঘটনা ঘটেছে মোট ২১টি। তার মধ্যে অন্যতম ব্রাসেলস, অরল্যান্ডো ও বাংলাদেশ।

গত শুক্রবার (১ জুলাই) রাতে গুলশান ২ নম্বরের হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলা চালায় একদল অস্ত্রধারী জঙ্গি। এরপর তারা জিম্মি করে দেশি-বিদেশি অন্তত ৩৩ জনকে। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর কমান্ডো অভিযান চালিয়ে ওই রেস্তোরাঁর নিয়ন্ত্রণ নেয় সশস্ত্রবাহিনী। ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত উদ্ধার করা হলেও ২০ জনের লাশ পাওয়া যায় জবাই করা অবস্থায়।

আইএস হামলার পরিসংখ্যান থেকে এটা স্পষ্ট যে, ইউরোপীয় ইউনিয়নে থাকা ইউরোপের দেশগুলো গত দু’বছরে ঘুরে ফিরে শিকার হয়েছে আইএস জঙ্গিদের। কিন্তু অবাক ব্যাপার হলেও সত্যি, ব্রিটেনকে তারা লক্ষ্য করেনি!

‘ব্রেক্সিট’-এর পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে ব্রিটেনের বেরিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা পরিস্কার হওয়ার পর রীতিমতো উল্লসিত হতে দেখা গিয়েছে আইএস-কে। এ ব্যাপারে তারা প্রকাশ্যে বিবৃতিও দিয়েছে।

কিন্তু ব্রিটেনকে আইএস গত দু’বছরে কেন টার্গেট করেনি এর জবাব পাওয়া দুষ্কর। তবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সম্প্রতি একটি আকস্মিক মন্তব্য করেছেন। হাসিনা বলেছেন, ‘জামাতের মতো বিভিন্ন মৌলবাদী জঙ্গি সংগঠনের বহু সদস্যই গা ঢাকা দিয়ে রয়েছেন পূর্ব লন্ডনে। যেটা খুবই উদ্বেগজনক।’

তথ্যসূত্র : আনন্দবাজার পত্রিকা