মেইন ম্যেনু

দুই বছরে শক্ত অবস্থানে আ.লীগ

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ের পর ১২ জানুয়ারি টানা দ্বিতীয়বারের মত সরকার গঠন করে আ.লীগের নেতৃত্বে ১৪ দলীয় জোট। আজ তাঁর দুইবছর পূর্ণ হল। আ.লীগের নেতারা বলছেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর দেশের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রয়েছে। অন্যদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকারের উন্নয়নের কথা বলে বিরোধী দলকে চাপে রাখছে। দুই বছরের মাথায় সরকার আপত শক্তিশালী অবস্থানে আছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতা গ্রহণের দুই বছরে ৫ জানুয়ারির নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি, দেশের ভেতরের উদ্বেগ, পশ্চিমা দুনিয়ার সমালোচনা, নির্বাচনের প্রথম বর্ষপূর্তিকে ঘিরে বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের টানা তিন মাসের অবরোধ-হরতাল চলাকালে দেশব্যাপী পেট্রল বোমার সন্ত্রাস, মাঝে-মধ্যে বিচ্ছিন্নভাবে উগ্রপন্থীদের উৎপাত, একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারকাজ এগিয়ে নেয়া এবং বিচার শেষে কয়েকজন শীর্ষ যুদ্ধাপরাধীর ফাঁসির রায় কার্যকর করাকে ঘিরে স্থানীয়ভাবে উদ্ভূত শঙ্কা ও একাধিক বিদেশি রাষ্ট্রের চাপ সামাল দিয়ে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে আওয়ামী লীগ সরকার।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশ্নবিদ্ধ ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের বিষয়টি মানুষের আলোচনায়ও স্থান পায় না। নির্বাচনের শুরু দিকে দলের নেতারা মধ্যবর্তী নির্বাচনের কথা বললেও দিন যত গড়াচ্ছে ততোই সেই মধ্যবর্তী নির্বাচনের আলোচনা ধার হারাতে বসেছে। সে সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে শুরুতে আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতাদের অনেকেই দ্রুত আরেকটি নির্বাচনের কথা বললেও সেই রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতিও এখন আর আলোচনাতেই নেই।

সরকারের মন্ত্রী ও সরকারদলীয় নেতারা এখন বলছেন ২০১৯ সালের কথা, যখন এই সরকারের মেয়াদ শেষ হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, আন্দোলনের নামে অপরিকল্পিত হরতাল-অবরোধ করে দ্রুত নির্বাচনের দাবিকে ভিন্নখাতে প্রবাহে সহযোগিতা করেছে বিএনপিও।

তবে পর্যবেক্ষকদের মতে, বর্তমান সংসদের ‘প্রধান বিরোধী দল’ হিসেবে সাংবিধানিক পরিচয়বাহী জাতীয় পার্টির (জাপা) আত্মপরিচয় সংকট গত দুই বছরে আরো তীব্র হয়েছে। যার কারণে সরকারের দুই বছর মেয়াদ পূর্তির সময়ে এসে খোদ দলটির প্রধান এইচএম এরশাদও বলেছেন ‘মানুষ জাপাকে বিরোধী দল মনে করে না।’

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার দেশে উন্নয়নের কথা বলে বিরোধী মতকে চাপে রাখছে। তাদের মতে উন্নয়ন ও গণতন্ত্র পাশাপাশি থাকতে। উন্নয়ন ও গণতন্ত্র একটি আরেকটির পরিপূরক হবে না কখনও।

জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক গোবিন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, প্রকৃত অর্থে এটা গণতান্ত্রিক সরকার না। সাংবিধানিক ধারবাহিকতার রক্ষার সরকার। এই সরকারের বৈধতা নিয়ে সংকট আছে।

তিনি বলেন, উন্নয়নের কথা বলে সরকার বিরোধী দলকে চাপিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। যা দেশের গণতন্ত্রের জন্য মঙ্গল নয়। গণতন্ত্র ও উন্নয়ন একসাথে থাকতে হবে। গণতন্ত্র ছাড়া উন্নয়ন কখনোই ফলপ্রসূ হয় না।

রাষ্ট্রবিজ্ঞানের এ শিক্ষক বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরই দেখা যাচ্ছে সরকারি দলের পক্ষে থেকে সমাজের যারা জ্ঞানচর্চা করছে তাদেরকে খাটো করে কথা বলা হচ্ছে। যা সকলের কাছে দৃষ্টিকটু।

৫ জানুয়ারির নির্বাচনের পর ভেঙ্গে পড়া দলের সাংগঠনিক কাঠামো এখনও মেরামত করতে পারেনি বিএনপি। ২০-দলীয় জোটের শরিকদের ধরে রাখতে পারাও নতুন চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা দিয়েছে বিএনপির সামনে। ইতোমধ্যে জোটের শরিক ন্যাশনাল পিপল্স পার্টি (এনপিপি) ও ইসলামী ঐক্যজোটের একাংশ বিএনপির সঙ্গ ছেড়ে চলে গেছে। সরকারি দলের নেতারা বলছেন, শুধু জোট নয়, বিএনপির সিনিয়র নেতাদের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে বিএনপিও ভাঙ্গবে।

রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনে না যাওয়ার ভুল সিদ্ধান্ত শুধু বিএনপিকেই বিপাকে ফেলেনি, সামগ্রিক রাজনীতির বর্তমান ভারসাম্যহীনতার জন্যও ওই সিদ্ধান্ত অনেকাংশে দায়ী। সেই ভুল সিদ্ধান্তের কারণেই সরকারের দুই বছরের মাথায় এসে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গত ৫ জানুয়ারি ঢাকায় নয়াপল্টনের সমাবেশে সরকারের উদ্দেশে বলেছেন, ‘কারো বিরুদ্ধে আমাদের রাগ নেই, দুঃখ নেই। যা ভুল করেছেন সেসব ভুলে যান, আমরাও ভুলে যাব। জ্বালাও-পোড়াও, ভাঙচুর চাই না। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করুন।’

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যে এই ইঙ্গিতই মেলে যে, তিনি এবং তার দল ধরে নিয়েছেন, নির্বাচন ছাড়া সরকার পতনের আর কোনো পথ নেই। তা ছাড়া এতদিন আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পতনের কথা বলে আসা বিএনপি নেতাদের বক্তৃতা-বিবৃতির ধরনেও পরিবর্তন এসেছে। সবাই এখন সমঝোতার কথা বলছেন।

আ.লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচন ও পরবর্তী বছরের সহিংসতা মোকাবেলায় মাঠে থেকেছি। প্রত্যাশা পূরণ না হলেও পৌরসভা নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সাফল্য অর্জন করেছি। দল অনেক বেশি সংগঠিত ও সুশৃঙ্খল হয়েছে। ২ বছরে বাংলাদেশে এগিয়ে গেছে। পদ্মাসেতুসহ অনেক ক্ষেত্রেই উন্নয়ন হয়েছে। আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গণেও অনেকগুলো পুরস্কার পেয়েছি।

সভাপতিম-লীর সদস্য নূহ-উল-আলম লেনিন বলেন, সরকার পরিচালনায় আওয়ামী লীগ সফল। দুই বছরে নানান ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে, খালেদা জিয়ার জ্বালাও-পোড়াও অগ্নিসন্ত্রাস মোকাবেলা করে এই সরকার দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে কাক্সিক্ষত সফলতা অর্জন করেছে।