মেইন ম্যেনু

দুই বন্ধুর অসহায়ত্ব ভাগাভাগি

২০১৫ সালের এপ্রিলে ঘটে যাওয়া ভূমিকম্পটির কথা আশা করি মানুষের স্মৃতি থেকে এখনও বিস্তৃত হয়ে যায়নি। অতর্কিত সন্ত্রাসের মতো নেপালের পোখারাকে কেন্দ্র করে গর্জে উঠেছিল পুরো নেপাল-ভারত-বাংলাদেশ। কেঁপে উঠেছিল বিস্তীর্ণ এই অঞ্চলের মানুষের অন্তরাত্মা। ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয় ঐতিহাসিকভাবে বিখ্যাত স্থান নেপাল। দেশটির ঠিক কি পরিমান ক্ষতি হয়েছে তা এখনও পুরোপুরি নিরুপন করা যায়নি। ব্যাপক প্রাণহানির পাশাপাশি দৃষ্টিনন্দন অধিকাংশ স্থানই মাটির সঙ্গে মিশে গেছে।

সেই ভয়ঙ্কর তাণ্ডব শেষ হলেও ক্ষত এখেনো রয়ে গেছে নেপাল অধিবাসীদের অন্তরে। এদের মধ্যে কেউ কেউ ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন আবার এমনও অনেকে আছে যারা সেদিনের ভয়াবহতা শরীরে বয়ে বেড়াচ্ছে। আর সারাটা জীবন সেদিনের ভয়ঙ্কর প্রলয়ের কথা স্মরণ করিয়ে দেবে তাদের। এমনি দুজন বন্ধুর গল্প সম্পর্কে জানবো আজ যারা সেদিনের সেই প্রলয়ঙ্কারি ভূমিকম্প থেকে প্রাণে বেঁচে এসেছেন কিন্তু হারিয়েছেন নিজের পায়ে দাঁড়ানোর সক্ষমতা।

2016_05_29_13_08_50_KS4Od45BthcMSSViC1nMuF6DJOWICm_original

নেপালের বীর হাসপাতালে শিশু ওয়ার্ডের সামনে কান্নার চিৎকার শোনা যাচ্ছে। তীব্র যন্ত্রনায় একটি শিশু চিৎকার করছে। নাম তার নির্মলা। কাছে গিয়ে দেখা গেল তার একটি পায়ের ক্ষত সাড়ানোর চেষ্টা করছেন চিকিৎসকরা। নির্মলার পাশে তার পরিবারের সদস্যরা অসহায়ের মতো সাহস দিচ্ছিলো তাকে। চিকিৎসার এক পর্যায়ে চিকিৎসক জানালেন তার যে একটি পা গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে তা কেটে ফেলা ছাড়া বিকল্প আর কোন পথ খোলা নেই। শোনমাত্রই কান্নায় ভেঙ্গে পড়লো আহত শিশুটির পরিবারের সদস্যরা। এমনকি আহত শিশুটির মুখটিতেও নেমে এলো কালো মেঘ। কিন্তু মুহূর্তের মধ্যেই সবাইকে বিস্ময় করে দিয়ে হেসে উঠলো সে। তখন তার মুখ দেখে বোঝা যাচ্ছিল সে যে বেঁচে আছে এটাই তার কাছে বিরাট ব্যাপার।

এরপর চলে গেল বেশ কিছু মাস। এই সময়ে সে নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে আসতো নির্মলা। সেদিনটিও চিকিৎসকের কাছে নকল পা লাগাতে এসে দেখলেন তার মতোই আট বছরের আর একটি শিশু নাম খেন্দো তামাং। একইভাবে নির্মলার মতো হাসপাতালের শুভ্র বিছানায় শুয়ে ব্যথার যন্ত্রনায় কাতরাচ্ছে সে। সান্তনা দেয়ার জন্য তার পাশে দাঁড়ালো নির্মলা। সে যেন নিজেকেই দেখতে পাচ্ছিল তার মধ্যে। ক্ষণিকের এই দৃশ্য দেখে দু পরিবারের সদস্যরা তাদের একসঙ্গে রাখার সিদ্ধান্ত নিল। তারা মনে করেন এতে করে তাদের দুজনের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব হবে। তারা এক অপরকে দেখে তাদের কষ্ট ভোলার চেষ্টা করবে এবং তাদের যে পা নেই এ নিয়েও তাদের দুঃখ অনেকটা লাঘব হবে।

2016_05_29_13_08_54_MvZqVGw6nDqBo0k694cAseWT3LcYap_original

নেপালের ভূমিকম্পের পর একদিন একদিন করে অতিক্রান্ত হয়েছে পুরো একটি বছর। ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের অনেকেই ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা করেছেন। সেই সঙ্গে নির্মলা ও তামাং তাদের জীবনের ভয়াবহতা ভুলে সামনে এগিয়ে এসেছেন। আত্মীয় বা রক্তের সম্পর্ক না হয়েও তারা একে অপরকে বন্ধু হিসেবে পেয়ে অনেক খুশি। আর তাদের জন্য মিলিত হয়েছে অজানা দুটি পরিবার। বর্তমানে তারা নেপালের একটি স্কুলে পড়ালেখা করছে। শুধু তাই নয় হাসি খেলায় আনন্দে বেড়ে উঠছেন তারা। তাদের জন্য জামা-কাপড় সব ভিন্ন আনলেও পায়ে জুতো একজোড়াই আনে। সেই এক জোড়া জুতোই তারা আনন্দের সঙ্গে ভাগ করে পরে।