মেইন ম্যেনু

দুই মাসেই মেরামত হবে ঢাকার ভাঙা সড়ক

রাজধানীর ভাঙা-চোড়া সড়কগুলো মেরামত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে দুই মাসের সময় বেঁধে দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র আনিসুল হক। একই সঙ্গে তিনি নগরবাসীর নিরাপত্তার জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে কমপক্ষে ১০টি সিসি টিভি স্থাপন ও ১০ জন্য কমিউনিটি পুলিশ নিয়োগের আশ্বাস দেন। এছাড়া আগামী বছরের মধ্যে প্রতিটি বাড়ি নিয়ন্ত্রণের জন্য ডিএনসিসিতে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনেরও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী গুলশানস্থ লেকশোর হোটেলে আইনশৃঙ্খলা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ডিএনসিসি আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে নগরীর বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের দু’টি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এতে রাজধানীর যানজটের জন্য ভাঙা সড়ককেই বেশি দায়ী করা হয়েছে। এছাড়াও রাস্তার তুলনায় বেশি গাড়ি, সড়ক স্বল্পতা, রাস্তায় ময়লার স্তুপ, ফুটপাতে অবৈধ দখল, ইচ্ছা মতো ইউলোপ, রোড ডিভাইড়ার ও আন্ডারপাস স্বল্পতা, যত্রতন্ত্র নির্মাণ সামগ্রী ফেলে রাখা ও অতিরিক্ত রিকশাকে দায়ী করা হয়েছে।

এছাড়া রাজধানীর সাতরাস্তা থেকে মহাখালী, রামপুরা ব্রিজ থেকে কুড়িল বিশ্বরোড ও ওয়ারলেস গেট থেকে গুলশান-১ পর্যন্ত তিনটি সড়কের রিকশা উঠিয়ে দেয়ার পরামর্শ দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ।

অনুষ্ঠানে পুলিশের পক্ষ থেকে রাজধানীর ভাঙা সড়কগুলোর একটি চিত্র দেখানো হলে মেয়র আনিসুল হক আগামী দুই মাসের মধ্যে তা মেরামতের জন্য সংস্থার প্রধান প্রকোশলীসহ সংস্থার সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। মেয়র বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে এসব ছোটখাট রাস্তাগুলো মেরামত করতে হবে। বড় বড় ভাঙাগুলো আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ হবে।’

অনুষ্ঠানে রাস্তা ও ফুটপাত দখল হওয়ার পেছনে পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের হাত রয়েছে বলে হাউজিং সোসাইটিগুলো থেকে অভিযোগ করা হয়। এ বিষয়ে মেয়র বলেন, ‘পুলিশের পাশাপাশি নগরবাসীর নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব সিটি করপোরেশনেরও রয়েছে। তাই আমরা ডিএনসিসিতে একটি কনট্রোল রুম স্থাপন করবো। ঢাকার শহরের প্রতিটি বাড়ি এখান থেকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আগামী বছর থেকে এটা চালু করা হবে।’

সভায় ডিএমপি কমিশনারের পক্ষ থেকে অপরাধ বিষয়ে আরো একটি প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়। এতে অপরাধ বৃদ্ধির জন্য মাদক, যানজট, জলাবদ্ধতা, যত্রতত্র রাস্তা খোঁড়াখোঁড়ি, ফুটপাত দখল, হকার, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজীকে চিহ্নিত করা হয়। এজন্য পুরো ঢাকাকে সিসি টিভির আওতায় এবং বস্তিবাসীর জন্য পুনর্বাসন ব্যবস্থা করে উচ্ছেদের পরামর্শ দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে গুলশান বনানী ও বারিধারাসহ অভিজাত এলাকাকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে ৭ কোটি টাকা চাওয়া হয়েছে। মেয়রও এজন্য টাকা দেয়ার আশ্বাস দেন।

মেয়র বলেন, ‘আগামী দুই বছরের মধ্যে অভিজাত এলাকার রাস্তা ও ড্রেনেজ সমস্যাগুলো শেষ হয়ে যাবে। মিরপুরসহ অন্যান্য এলাকার সমস্যা শেষ হবে ৩ বছরের মধ্যে। এজন্য আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। বিলবোর্ড উচ্ছেদ শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে ৬০ ভাগ বিলবোর্ড অপসারণ হয়েছে।’

মেয়র আনিসুল বলেন, ‘আমাদের ব্যয় এক হাজার ছয়শ কোটি কিন্তু আয় তিনশ কোটি। এরপরও আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’ গুলশান, বনানী, বারিধারা ও নিকেতন এলাকায় সিসি টিভি স্থাপন করার জন্য ডিএনসিসি থেকে ৭ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয়ার ঘোষণা দেন মেয়র। একইসঙ্গে প্রতিটি ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে ওয়ার্ডে ১০ জন কমিউনিটি পুলিশ ও ১০টি সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য অনুরোধ করেন।

অনুষ্ঠানে পুলিশ কমিশনার আছাদুজ্জামান বলেন, ‘নগরবাসীর সর্বাত্মক নিরাপত্তা দেয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি। জনস্বার্থে সিটি করপোরেশন যেকোনো সিদ্ধান্ত নিলে পুলিশ সহযোগিতা করবে। যদি পুলিশের কোনো সদস্য অন্যায় অপরাধ করে থাকে তাহলে তার বিরুদ্ধে জিরো ট্রলারেন্স, কোনো ক্ষমা নয়। কিন্তু একটি ঘটনা দিয়ে পুরো পুলিশকে দোষারোপ করা ঠিক হবে না।’

সম্প্রতিক বিদেশি নাগরিক খুনের বিষয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘বাংলাদেশকে চাপের মধ্যে পেলার জন্য ষড়যন্ত্র হচ্ছে। একের পর এক বিদেশি হত্যা একই সূত্রে গাথা। এজন্য সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।’