মেইন ম্যেনু

দুই শিশুর ‘হত্যাকারী মা মানসিক রোগী’!

রাজধানীর উত্তর বাসাবোতে দুই শিশু হত্যার ঘটনায় তাদের মা তানজীন রহমানকে ৫ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। ঢাকা মহানগর হাকিম গোলাম নবী শনিবার এ আদেশ দেন। নিহত শিশুদের স্বজনেরা দাবি করেছেন, তানজীন রহমান মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন।

রাজধানীর উত্তর বাসাবোর ‘ষড়ঋতু’ নামের একটি ছয়তলা ভবনের চিলেকোঠা থেকে শুক্রবার রাতে হুমায়রা বিনতে মাহবুব তাকিয়া (৬) ও মাশরাফি ইবনে মাহবুব আবরার (৭) নামে দুই শিশুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার ভোরে উত্তর বাসাবোর আরেকটি বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয় তানজীনকে।

শনিবার ভোরেই দুই শিশুকে হত্যার ঘটনায় বাদী হয়ে সবুজবাগ থানায় মামলা করেন শিশুদের বাবা মাহবুব রহমান। তানজীনকে ওই মামলায় আসামি করা হয়।

মাহবুব রহমান জানান, শুক্রবার রাতে তিনি এশার নামাজ পড়তে গিয়েছিলেন। বাসায় ফিরে দেখেন, দরজা বাইরে থেকে বন্ধ। পরে দরজা খুলে ভেতরে ঢুকে বিছানার ওপর এক সন্তানের ও পাশের কক্ষে অন্য সন্তানের লাশ দেখতে পান। ওই সময় স্ত্রী তানজীন রহমান ঘরে ছিলেন না।

নিহত শিশুদের ফুফু লাইলা নূর বলেন, ২০০৮ সালে মাহবুব ও তানজীনের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পরপরই আমরা তানজীনের মানসিক সমস্যা বুঝতে পারি। এরপর ফার্মগেটের গ্রিন রোডের ডক্টরস চেম্বারে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনকে দেখায়।

তিনি আরো বলেন, তানজীন সবসময় নামাজ-রোজা করতেন, কোরআন তেলওয়াত করতেন। তিনি সাধারণত চুপচাপ থাকতেন, কারো সঙ্গে কোনো কথা বলতেন না। সন্তান বা স্বামীর প্রতি কোনো খেয়াল রাখতেন না। তবে যখন ওষুধ দেওয়া হত তখন তিনি ভাল থাকতেন। যখন ভাল থাকতেন তখন সমস্যা জানতে চাইলে বলতেন, তিনি (শিশুদের মা) স্বপ্নে তার দুই সন্তানকে মেরে ফেলতে দেখেছেন। অথবা তিনি তার স্বামীকে মেরে ফেলেছেন এ রকম স্বপ্নের কথা জানাতেন। এসব স্বপ্ন দেখে তানজীন দুশ্চিন্তা করতেন।

শিশুদের চাচা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমি খবর পেয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে এখানে ছুটে আসি। এসে বাচ্চাদের লাশ দেখতে পাই।

তিনি আরো বলেন, ভাবি মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন ছিলেন। কিন্তু নিজের সন্তানদের কেন হত্যা করেছেন তা বুঝতে পারছি না।

মোস্তাফিজুর জানান, শিশু আবরার এক বছর ধরে বাসাবোর একটি মাদ্রাসায় পড়াশোনা করত। মেয়েটাও কিছুদিন আগে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়।

জানা যায়, বাসাবোর ‘ষড়ঋতু’ নামের বাড়িটার চিলেকোঠায় আটমাস ধরে মাহবুব রহমান-তানজিনা রহমান দম্পতি ভাড়ায় রয়েছেন।

পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম জানান, তানজীনের আচরণে তিনি কখনও উগ্রতা দেখতে পাননি। কখনও ঝগড়াঝাটি হতেও দেখেননি। তবে তানজীন প্রতিদিন ঘুমের ওষুধ সেবন করে ঘুমাতেন বলে শুনেছেন তিনি।

সবুজবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল কুদ্দুস ফকির বলেন, মাহবুব রহমান ওয়াসার কম্পিউটার অপারেটর পদে চাকরি করেন। শুক্রবার সন্ধ্যার পর বাড়ির বাইরে যান তিনি। পরে রাতে ফিরে এসে দুই সন্তানকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। আমরা খবর পেয়ে সাথে সাথে লাশ উদ্ধার করি।

তিনি আরও বলেন, বাসা থেকে একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে একাধিক লোক জড়িত থাকতে পারে। তবে শিশুদের মা যে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন তিনি। তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের পর জানা যাবে কেন এ হত্যাকাণ্ড?

শিশুদের মা মানসিক ভারসাম্যহীন কিনা?- এমন এক প্রশ্নের জবাবে ওসি বলেন, আমরা এখনো এ ব্যাপারে নিশ্চিত নই। তার স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হলে বিষয়টি জানা যাবে।