মেইন ম্যেনু

দুই শিশু হত্যা: জিজ্ঞাসাবাদে অঝোরে কাঁদলেন স্বামী-স্ত্রী

রামপুরার বনশ্রীতে দুই সন্তানকে হত্যায় মা বেগম মাহফুজা মালেক এবং বাবা আমানউল্লাহকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। স্বামী-স্ত্রী এ সময় একে অপরকে জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদতে থাকেন। তখন হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। আর এ কারণে তেমন কোনো তথ্য আদায় করা সম্ভব হয়নি বলে জিজ্ঞাসাবাদকারী একটি সূত্র জানায়।

সূত্রটি আরো জানায়, দুপুরের পর আমানউল্লাহ রামপুরা থানায় আসেন। তিনি প্রথমে ওসির কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপরই স্ত্রী মহাফুজাকে আনা হয়। এ সময় দুইজনকে দুই সন্তান হত্যার নেপথ্যে বের করতে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক থেকে নানা প্রশ্ন করা হলে মাহফুজা কেঁদে ফেলেন। কোনো কথা না বলে তিনি কাঁদতে থাকেন। আর স্ত্রীর এ অবস্থা দেখে আমানউল্লাহও এক সময় চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি। একে অপরকে ধরে কাঁদতে থাকেন এবং মাহফুজা তাকে মাপ করে দেওয়ার জন্য স্বামীকে অনুরোধ করেন। এ সময় আমানউল্লাহ বলেন, ‘কি করলে তুমি। আমাদের আর কিছুই রইল না। সব কিছু চুরমার হয়ে গেল।’ স্ত্রী কিছু খাবে কিনা তা জানতে চান আমানউল্লাহ। প্রায় আধাঘণ্টা দুইজনের সাংসারিক, ছেলে-মেয়েদের মৃত্যু এবং নিজেদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে দুইজনেই কাঁদতে থাকেন। এ সময় তাদের আদরের দুই সন্তানের কথাও উভয় উভয়কে বলেন। মাহফুজা কাঁদতে থাকলেও তেমন কোনো কথা বলেননি। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে স্ত্রীর কিছু লাগবে কীনা জানতে চান আমানউল্লাহ। তবে মাহফুজা না বলেন। আর চলে যাওয়ার সময় মাহফুজা স্বামীকে অনুরোধ করেন, তার যেন খোঁজখবর নেন। তাদের কান্নাকাটি করার কারণে যে উদ্দেশ্যে এ জিজ্ঞাসাবাদ তা আর হয়নি।

সূত্রটি আরো জানায়, এরপরই জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় মাহফুজার শাশুড়ি হাসনা বেগমকে। তিনি এ সময় বলেন, ঘটনার সময় তিনি নামাজ পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এ সময় বৌমা (মাহফুজা) এসে বলে আপনার নাতিরা ওই ঘরে কেমন যেন করছে। আপনি একটু আসেন তো। পরে গিয়ে দেখি লাশ দুটি পড়ে রয়েছে। তবে এ সময় বাসার ভেতর কাউকে দেখা যায়নি। এ থেকে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা আবার নিশ্চিত হয়েছেন হত্যাকাণ্ড মা একাই সংঘটিত করেছেন।

মঙ্গলবার রাতে রামপুরা থানার অপরাশেন অফিসার ও তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান স্বামী-স্ত্রীকে মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদের কথা স্বীকার করে বলেন, মাহফুজা নিজেই দুই সন্তানকে হত্যা করেছেন বললেও এর পেছনে অন্য কোনো কারণ থাকতে পারে। এ কারণেই দুনজনকেই মুখোমুখি করা হয়। কিন্তু তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। মানবিক, সামাজিক, পারিপার্শ্বিক অবস্থা, লোভ এবং ভয় দেখিয়েও তার কাছ থেকে কোনো তথ্য বের করা যাচ্ছে না। তবে তাকে অবশ্যই মুখ খুলতে হবে। এ জন্য পুনরায় রিমান্ডে নেওয়া হতে পারে।

অবশ্য মাহফুজাকে গ্রেফতারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব দাবি করে, অন্য কেউ নয় নিজের ব্যবহৃত গলার ওড়না পেঁচিয়ে শিশু দুটিকে তিনি নিজেই হত্যা করে পরে বাঁচার চেষ্টা করেন। ঘটনা ভিন্নখাতে নেওয়ারও পাঁয়তারা করেন। আর গ্রেফতার ভয়ে তিনি সন্তানদের লাশ না গ্রহণ করে পালিয়ে যান।

নিহত অরুণী ভিকারুননিসা নূন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ও আলভী হলিক্রিসেন্ট স্কুলের নার্সারির শিক্ষার্থী ছিল। ২৯ ফেব্রুয়ারি বাসায় তারা ঘুমিয়ে ছিল। সন্ধ্যার দিকে ঘুম থেকে না উঠলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে আনা হয়। এ সময় পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, চাইনিজ খাওয়াতে তারা মারা গেছে। এরপর ঘটনার তদন্তে পুলিশের সঙ্গে সরকারের একাধিক সংস্থা কাজ করে। র‌্যাব ঘটনার দুদিন পর তার মা মাহফুজাকে গ্রেফতার করে। এরপর ঘটনার কারণ জানতে তাকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।