মেইন ম্যেনু

দুই সপ্তাহে বন্যায় ৯১ জনের মৃত্যু

দেশের বন্যা উপদ্রুত ১৯ জেলায় পানিবন্দি লাখো বাসিন্দাদের মধ্যে পানিতে ডুবে ও সাপের দংশনে মৃত্যুর আতঙ্ক বিরাজ করছে। বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি ডুবে থাকায় হাজারো মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে পানির ওপর বাঁশের মাচা তৈরি করে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে গত দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে পানিতে ডুবে ৮৩ জন ও সাপের দংশনে ৮ জনসহ মোট ৯১ জনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পানিতে ডুবে চারজনের মৃত্যু হয়েছে। খবর জাগো নিউজের।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তার সোমবার এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পানিতে ডুবে মৃতদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই বেশি।

আক্রান্ত জেলাগুলোতে ডায়রিয়া, শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ, চোখের প্রদাহসহ পানিবাহিত নানা রোগও ছড়িয়ে পড়েছে। গত দুই সপ্তাহেরও কম সময়ের ব্যবধানে ৯ হাজারের বেশি নারী, পুরুষ ও শিশু এসব রোগে আক্রান্ত হয়েছে। বন্যা দুর্গত এলাকার মানুষকে চিকিৎসা সহায়তা প্রদান করতে ৯শ ৬৭টি মেডিকেল টিম কাজ করছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে বর্তমানে নীলফামারি, লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর, সুনামগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মানিকগঞ্জ, কুষ্টিয়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, শরীয়তপুর, মুন্সীগঞ্জ, মাদারীপুর ও চাঁদপুরে ১৯ জেলার ৫৯টি উপজেলা বন্যায় আক্রান্ত। দুর্গত এলাকায় ১শ ৫৯টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে।

গত দুই সপ্তাহের ব্যবধানে ৯ হাজারেও বেশি নারী-পুরুষ ও শিশু নানা রোগব্যাধীতে আক্রান্ত হয়েছে। এরমধ্যে ৩ হাজার ৪শ ৭৩ জন ডায়রিয়ায় ও ১ হাজার ২শ ৮৮ জন এআরআইয়ে (তীব্র শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা) আক্রান্ত।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের ইনচার্জ ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, বন্যা দুর্গত এলাকাগুলোতে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং, সুপারভিশনের পাশাপাশি চাহিদাপত্র নিয়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে।