মেইন ম্যেনু

দুই স্তরের মনিটরিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত বিএনপির

প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পৌর নির্বাচনে শঙ্কা কাটিয়ে উঠতে পারছে না বিএনপি। পৌর নির্বাচন উপলক্ষে দলটির পক্ষ থেকে দুই স্তরের মনিটরিং কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে বেগম খালেদা জিয়া সভাপতিত্ব করেন।

এক ঘণ্টার অধিক সময়ব্যাপী অনুষ্ঠিত এ বৈঠক সম্পর্কে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পৌর নির্বাচন উপলক্ষে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হবে। প্রত্যেক বিভাগেও এ কমিটি গঠন হবে। এই কমিটি থেকে জেলা-উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া পৌর নির্বাচনে বিধি প্রণয়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত নেয়া হয়নি।’

বিএনপির সর্বোচ্চ ফোরামের এই বৈঠকে পৌর নির্বাচন প্রক্রিয়ায় নানা অসঙ্গতি তুলে ধরা হয়। সার্বিক পরিবেশ নিয়ে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করা হয় বলে জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।

তিনি বলেন, ‘দলীয় প্রতীকে তড়িঘড়ি করে নির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে। আগে নির্বাচন কমিশন বিভিন্ন দলের সঙ্গে আলোচনা করলেও এবার করেনি।’

বিএনপি নেতাকর্মীদের হয়রানি করতে গণগ্রেপ্তার হচ্ছে অভিযোগ তুলে মির্জা আলমগীর বলেন, ‘পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর গত ১ মাসে ৫ হাজার নেতাকর্মী আটক করা হয়েছে। নেতাকর্মীদেরকে মুক্তি না দিলে নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি হবে না।’ সভায় এসবের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবা জানানো হয়।

নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কার কথা জানান বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। তিনি বলেন, ‘বিধিনিষেধ থাকার পরও মন্ত্রী এমপিরা নির্বাচনী প্রচার করছেন। এজন্য কয়েকজনকে শোকজ করা হয়েছে। তবে শোকজ যথেষ্ট নয়।’

নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ করার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, ‘বিএনপি প্রার্থীদের মনেনয়ন প্রত্যাহারের চাপ দেয়া হচ্ছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে, নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়ার সম্ভাবনা নেই। তারপরও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের স্বার্থে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।’

বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সাংগঠনিকভাবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। পৌর নির্বাচন নিয়েই মূলত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।’

বৈঠকে অন্যদের মধ্যে স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ, লে. জে. (অব.) মাহবুবুর রহমান, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, ব্রিগেডিয়ার জে. অব. আ স ম হান্নান শাহ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সারওয়ারি রহমান, ড. আবদুল মঈন খান উপস্থিত ছিলেন।