মেইন ম্যেনু

দুজনই ভালোবাসে, কাকে গ্রহন করবেন আপনি

অদ্রিতা খান। ১৯ বছর বয়স। সবেমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ে পা দিল। দেখতে যেমন সুন্দর, চটপটেও বেশ। বন্ধুমহলে খুবই দাপট তাঁর। বলতে গেলে সবাই তাঁকে পছন্দ করে। সবই ঠিক আছে, কিন্তু সমস্যাটা অন্য জায়গায়। আরাফ ও সাদমান দুজনই অদ্রিতার ভালো বন্ধু। আবার দুজনই অদ্রিতাকে ভীষণ ভালোবাসে। অদ্রিতাও জানে বিষয়টি। আর এ কারণে ইদানীং সে খুবই দ্বিধার মধ্যে আছে। কাকে হ্যাঁ বলবে আর কাকেই বা না বলবে!

অদ্রিতার মতো এমন অনেকেই আছেন, যারা বন্ধুত্বের জন্য ভালোবাসার মানুষকে বেছে নিতে সমস্যায় পড়ে যান। কারণ, দুজনের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়াটা খুবই কষ্টসাধ্য একটা বিষয়। এর ফলে পুরো সম্পর্কটাই এলোমেলো হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত বন্ধুত্বটাও টেকে না, আর ভালোবাসার মানুষটিকেও পাওয়া হয় না।

দুজনের মধ্যে কাকে বেছে নেবেন এমন দ্বন্দ্বে যদি থাকেন, তাহলে বোল্ডস্কাইয়ের পরামর্শগুলো একবার দেখে নিতে পারেনঃ

খেয়াল করুন, কোন সঙ্গী আপনাকে কীভাবে খুশি করার চেষ্টা করেঃ
ভালোবাসার মানুষকে খুশি করতে কে না চায় বলুন? তবে একেকজনের খুশি করার ধরন একেক রকম। খেয়াল করে দেখুন তো, দুজনের মধ্যে কার আচরণে বা কথায় আপনি দুর্বলতা অনুভব করেন? কার কথা শুনতে বেশি ভালো লাগে? কে আপনার খুশির জন্য সবকিছু করতে আগ্রহী থাকে? তবে শুধু এই আচরণ দেখে ভুলেও সিদ্ধান্ত নেবেন না। কারণ, আপনাকে পাওয়ার জন্য এখন হয়তো সে সবকিছুই করছে, কিন্তু পাওয়া হয়ে গেলে এমন আচরণ নাও থাকতে পারে। তাই বিবেচনা না করে হুট করেই সিদ্ধান্ত নেবেন না।

দুজনের মধ্যে মিল ও অমিল হিসাব করুনঃ
দুজনের সব আচরণই যে আপনার ভালো লাগবে, বিষয়টি কিন্তু এমন নয়। তাঁদের অনেক আচরণই আপনার পছন্দ নাও হতে পারে। তাই দেরি না করে কাগজ-কলম নিয়ে বসে যান। দুজনের মধ্যে আপনার কোন বিষয়টি পছন্দ, কোনটি অপছন্দ সব লিখে একটি তালিকা তৈরি করে ফেলুন। এবার হিসাব মিলিয়ে দেখুন তো, কাকে বেছে নিলে আপনার ভবিষ্যতের সম্পর্কটা দীর্ঘস্থায়ী হবে। অবশ্যই এই তালিকানুযায়ী একজনের পাল্লা বেশি ভারী হবে।

ভালোবাসার মানুষকে বেছে নিতে বন্ধুদের পরামর্শ নিনঃ
বন্ধুরাই সব সময় সত্যিকারের পরামর্শ দিয়ে থাকে। তারাই বলে দিতে পারবে, কাকে নিয়ে আপনি সুখী হবেন। তাদের পুরো বিষয়টি খুলে বলুন। কাকে বাছাই করবেন, জানতে চান। তারা সবকিছু বিবেচনা করেই আপনাকে সঠিক পরামর্শটা দেবে। আপনার সিদ্ধান্তে বন্ধুদের পরামর্শ খুবই কাজে লাগবে।

দুজনেরই অনুভূতি বোঝার চেষ্টা করুনঃ
যদি আপনি এখনো দ্বিধার মধ্যে থাকেন যে কাকে বাছাই করবেন, তাহলে দুজনেরই মনের অবস্থা বোঝার চেষ্টা করুন। হয়তো আপনি কারো মনেই কষ্ট দিতে চাইছেন না। কিন্তু দিন শেষে আপনাকে একজনকেই তো বেছে নিতে হবে। তাই সত্যিকারের অনুভূতিকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন।

দুজনেরই নেতিবাচক দিকগুলো লক্ষ করুনঃ
যখন আপনি কোন দীর্ঘ সম্পর্কে জড়াতে যাবেন, তখন প্রতিটি ছোট ছোট বিষয় খেয়াল রাখতে হবে। শুধু ভালো দিকগুলো দেখেই কাউকে বাছাই করা ঠিক না। মুদ্রার অপর পিঠে কী আছে, এটাও খেয়াল করা জরুরি। আপনাকে কথায় কথায় মিথ্যা বলছে কি না খেয়াল করুন, সেটা আপনাকে খুশি করার জন্য করলেও বিষয়টি এড়িয়ে যাবেন না। আপনার সঙ্গে সবার সামনে কেমন আচরণ করছে, লক্ষ করুন। এসব বিষয়ই একটা সময়ে বড় ঝামেলা তৈরি করে। তাই নেতিবাচক দিকগুলো ভালো করে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিন