মেইন ম্যেনু

‘দুটি ম্যাচ হারলে তো সব শেষ হয়ে যায় না’

বিশ্বকাপের পর পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে জয়ের ধারায় ছিল বাংলাদেশ। কিন্তু দক্ষিন আফ্রিকার বিপক্ষে পরপর দুটো টি২০ ম্যাচে হেরে বসেছে স্বাগতিকরা। তবুও প্রোটিয়াদের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে এর কোনে বাজে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন তামিম ইকবাল। মিরপুরে আজ সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বাংলাদেশ দলের এ ওপেনার বলেন, ‘টি২০ ম্যাচগুলোতে জিততে পারলে হয়তো আত্মবিশ্বাস আরও বেশি থাকতো। কিন্তু আমাদের শক্তি তো ওয়ানডেতেই বেশি। আর দুটি টি২০ হারলে তো সব শেষ হয়ে যায় না। ওয়ানডেতে নিশ্চয়ই আমরা ঘুরে দাঁড়াতে পারবো।’

টি২০ ফরম্যাটে বাংলাদেশ দল খুব বেশি খেলার সুযোগ পায় না। তাই এ ফরম্যাটে টাইগারদেরও খুব একটা সফল্য নেই বললে চলে। তবে ওয়ানডে ফরম্যাটে দুর্দান্ত এক দলে পরিণত হয়েছে টাইগাররা। বুধবার বিকালে স্বাগতিক দলের অনুশীলন শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবাল বলেন, ‘গত এক বছর ধরেই আমরা ওয়ানডেতে ভালো খেলছি। শক্তির জায়গাগুলোও আমরা জানি। টি২০ জিতলে আমাদের আত্মবিশ্বাস হয়তো আরও উপরে থাকতো। তারপরও ওয়ানডেতে আমরা ঘুরে দাড়াবো।’

টি২০ সিরিজ হারের কারণে দলের ওপর বাড়তি কোনো চাপ তৈরী হতে পারে। কিন্তু এ বিষয়টা মানতে নারাজ তামিম ইকবাল। বাংলাদেশ দলের বাম হাতি এ ওপেনারের বিশ্বাস, তারা পুরনো ছন্দ আবারও ফিরে পাবেন।

এ বিষয়ে তামিম বলেন, ‘যে কোনও সিরিজ হার দিয়ে শুরু হলে এটা তো ভালো জিনিস নয়। কেউ তো চায় না হার দিয়ে শুরু করতে। এমন পরাজয়ের পর কারও ভালো লাগার কথা না। তারপরও ওই দুটো ম্যাচ আমরা যেভাবে খেলেছি তারচেয়েও ভালো খেলতে পারতাম। সামনে ওয়ানডে, আর এ সংস্করেই আমাদের শক্তিটা তুলনামূলক বেশি। এ সিরিজের জন্য আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত।’

ওয়ানডে সিরিজ নিয়ে তামিম আরও বলেন, ‘ওয়ানডেতে সর্বশেষ এক বছর ধরে আমরা যেভাবে পারফরম্যান্স করছি। যেভাবে খেলোয়াড়রা নিজেদেরকে তৈরী করে নিয়েছে, সেটা টেস্ট এবং টি২০র চেয়ে অনেকে ভালো। সাকসেস রেটটাও ওয়ানডেতে অনেক বেশি। আমরা অবশ্যই আত্মবিশ্বাসী থাকব। দুটা হারের কারণেই যদি সবকিছু শেষ হয়ে যায় তাহলে তো হবে না। আমরা ওয়ানডের জন্য প্রস্তুত।’

তামিম মনে করেন, ভিন্ন কোন কৌশল নয়; ভারত-পাকিস্তানের বিপক্ষে যেভাবে খেলেছে বাংলাদেশ, সেভাবে খেলতে পারলেই সাফল্য আসবে। তিনি বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তান উপমহাদেশের কন্ডিশনে খুবই শক্তিশালী দল। দক্ষিণ আফ্রিকাও খুব শক্তিশালী দল। এ কারণেই তারা র‌্যাংকিংয়ে প্রথম দিকে আছে। ওদের বোলিং আক্রমণ ভালো। ব্যাটিংও ভালো। ভারত-পাকিস্তানকে হারাতে যতটা কষ্ট করতে হয়েছে, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও তাই করতে হবে। অতিরিক্ত কিছু করতে হবে, তা নয়।’

বিশ্বকাপের আগে থেকেই টানা খেলে আসছে বাংলাদেশ দল। সুতরাং, ক্লান্তি ভর করেছে কি না ক্রিকেটারদেরকে, এ নিয়েও কথা হচ্ছে এখন। তবে তামিমের মত ভিন্ন। তিনি বলেন, ‘ক্লান্তি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হওয়া উচিত নয়। আমরা একটি পেশাদার দল। সবাই দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন। সবাই চেষ্টা করে নতুন একটা ম্যাচের আগে যতটা সম্ভব সজীব থাকতে। আসলে হারলে এ ধরনের কথা ওঠে। এ নিয়ে কথা বলতে চাই না। জয় পাওয়া ম্যাচগুলোয় যেভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, এখনো সেভাবেই নিচ্ছি। যারা দেশের হয়ে খেলছে, শতভাগ দিয়েই খেলছে।’