মেইন ম্যেনু

দুর্ভাগ্যকেই দায়ী করছেন মাশরাফি

ব্যাখ্যা খুঁজতে গিয়ে আর কিছু খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। নইলে মুশফিকুর রহিম কীভাবে ওই ভুল করেন! পরের বলেই মাহমুদউল্লাহ! ৩ বলে ২ রান দরকার, চার-ছয়ের কথা কেন ভাবতে যাবেন ব্যাটসম্যান! দুইটা সিঙ্গেল নিলেই যেখানে ম্যাচ শেষ!

ম্যাচ যখন শেষ ওভারে ৬ রানের মোহনায় এসে দাঁড়াল, মুশফিকুর রহিমের ফর্ম হারিয়ে ফেলাটাকে মনে হচ্ছিল আশীর্বাদ। এ কারণেই তো তিনি আট নম্বরে। অভিজ্ঞতা চাই? ঠান্ডা মাথা? শীতল পেশাদারি? বাংলাদেশ দলে যাঁর সঙ্গে এই কথাগুলো সবচেয়ে ভালো যায়, তাঁর নামও তো মুশফিকুর রহিম।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশ শেষ ওভারের নাটক অনেক দেখেছে। টি-টোয়েন্টিতে এই প্রথম। এটাই কি নির্ধারক হয়ে গেল শেষে! মুশফিকের ‘ঠান্ডা’ মাথাও এলোমেলো। ওই শব্দটা যাঁর সঙ্গে সম্ভবত আরও বেশি যায়, সেই মাহমুদউল্লাহও একই পথের পথিক!

চাপ এমনই সর্বনাশা হয়ে ক্রিকেটীয় যুক্তি-বুদ্ধি সব গুলিয়ে দেয়। নইলে আমি-আপনি যা বুঝতে পারি, মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ কি আর তা বোঝেন না!

সংবাদ সম্মেলনে মাশরাফি বিন মুর্তজাকে সরাসরিই প্রশ্ন করলেন এক সাংবাদিক, ‘এই পরাজয়ের জন্য মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহই দায়ী কি না?’ উত্তর প্রশ্নকর্তারও জানা। কিন্তু অধিনায়ক কীভাবে তা বলেন! দুঃখের আঁকিবুঁকি আঁকা মুখে মাশরাফি তাই বলেন, ‘আমি কাউকে দায়ী করছি না।’

বড় পরাজয় থেকেও ইতিবাচক কিছু খুঁজে নেওয়ার একটা চল আছে। কিন্তু এ এমন এক বুক ভেঙে দেওয়া পরাজয়, ইতিবাচক কিছু খোঁজার চেষ্টাটাই নিরর্থক মনে হলো মাশরাফির, ‘এমনভাবে হারলে তা থেকে ইতিবাচক কিছু নেওয়া খুব কঠিন।’ অধিনায়ক মাশরাফির মুকুটে অনেক পালক। সেখানে কি এই ম্যাচই সবচেয়ে বড় দুঃখ হয়ে লিখবে তাঁর নাম? মাশরাফি বিষণ্ন মুখে জবাব দেন, ‘শুধু আমি কেন, ড্রেসিংরুমে সবার জন্যই এটা মেনে নেওয়া খুব কঠিন। শেষ তিন বলে তিন উইকেট পড়েছে, এটা কীভাবে হয়!’

এরপর দুঃখটা জড়িয়ে দেয় তাঁর কণ্ঠ, ‘উইকেটে দুজন সেট ব্যাটসম্যান। দুজনই অভিজ্ঞ। এই ম্যাচটা তো আমরা সহজেই জিততে পারতাম। জানি না কী বলব, দুর্ভাগ্য ছাড়া আর কোনো কারণ তো খুঁজে পাচ্ছি না।’

খুঁজে পাওয়া কঠিনও। নইলে শুরু থেকে বাংলাদেশের জয়ের গান গাওয়া এই ম্যাচের শেষ তিনটি বল কেন অমন দুঃস্বপ্নের প্রতিশব্দ হয়ে যাবে! সাত ম্যাচ পর মাশরাফি টস জিতলেন। দারুণ বোলিং করলেন বোলাররা। ফিল্ডিংও দুর্দান্ত। যাতে আলাদা হয়ে থাকবে সৌম্যর নেওয়া হার্দিক পান্ডিয়ার ক্যাচটা। ইডেনে পাকিস্তানের বিপক্ষে তাঁর অবিশ্বাস্য ওই ক্যাচ প্রায় প্রতি ম্যাচেই দেখিয়ে যাচ্ছে স্টার স্পোর্টস। কাল স্কয়ার লেগে দৌড়ে গিয়ে সামনে ডাইভ দিয়ে এক হাতে যে ক্যাচটি নিলেন সৌম্য, সেটি বোধ হয় টুর্নামেন্টের সেরা ক্যাচ হিসেবে ইডেনেরটার প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে গেল।

সবকিছুই তো বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলছিল। ব্যাটিং ভুলে যাওয়া সৌম্যকে সাত নম্বরে নামিয়ে দেওয়াটাকে মনে হচ্ছিল ‘শাপে বর’। সৌম্যর ২১ বলে ২১ দোদুল্যমান ম্যাচকে ঝুঁকিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশের দিকে। যে-ই নামছেন, কিছু না কিছু করছেন। আর ভারতীয় ফিল্ডাররা ক্যাচের পর ক্যাচ ফেলে যাচ্ছেন। যে অশ্বিনের হাত থেকে কখনো ক্যাচ পড়েছে বলে কেউ মনে করতে পারেন না, সেই অশ্বিনও!

কে জানত, ক্রিকেট-বিধাতা বাংলাদেশের পক্ষে চিত্রনাট্য লিখতে লিখতে শেষটায় যে এমন একটা মোচড় দিয়ে রেখেছেন!