মেইন ম্যেনু

দূর্গোৎসব উপলক্ষে ব্যস্ত কক্সবাজারের মৃৎ শিল্পীরা

আগামী ১৯শে অক্টোবর মহাষষ্ঠির মধ্যদিয়ে শুরু হচ্ছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে পরম যতে মুর্তিগুলোতে অবয়ব দিতে ব্যস্ত— সময় পার করছেন কক্সবাজারের মৃৎ শিল্পীরা। এবারের পূজাকে আরো রঙিন করে তুলতে অপরূপ সুন্দর সব প্রতিমা তৈরি করছেন তারা।

বাঁশ ও খড় দিয়ে প্রতিমার অবকাঠামো তৈরীর পর দক্ষ হাতে মাটির প্রলেপ দিচ্ছেন কারিগররা। কিন্তু কঠোর পরিশ্রম করেও সঠিক পারিশ্রমিক না পাওয়ায় মানবেতর জীবন যাপন করেন তারা। তাই ইতোমধ্যে অনেকই বাপ-দাদার এ পেশা বদলে অন্য পেশায় চলে যেতে বাধ্য হচ্ছেন।

কক্সবাজারের মৃত শিল্পী মিল্টন ভট্টচার্য্য জানান, খাওয়া নেই, নাওয়া নাই, ঘুম নাই, এইভাবে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। পরবর্তীতে আমাদের সন্তানদের একাজ করতে দেওয়া যাবে না। কারণ হলো বর্তমান যে যুগ, জিনিস পত্রের দাম বেশী। কিন্তু আমরা সেভাবে মূল্য পাচ্ছি না।

তার অভিযোগ বর্তমানে কাচাঁমালের দাম বেড়ে যাওয়ায় প্রতিমা তৈরি করে খুব একটা লাভবান হতে পারছেন না মৃৎ শিল্পীরা।

এদিকে নির্বিঘে পূজা সম্পন্ন করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে জানালেন জেলা পুলিশ সুপার শ্যামল কুমার নাথ।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক বাবুল শর্মা জানান, এবার জেলায় মোট ২৭৬টি মন্ডপে অনুষ্ঠিত হবে শারদীয় দুর্গোৎসব। এরমধ্যে কক্সবাজার পৌরসভা-সদর উপজেলায় ৪০টি প্রতিমা ও ৩২টি ঘট, রামু উপজেলায় ১৮টি প্রতিমা ও ৯টি ঘট, চকরিয়া পৌরসভা-উপজেলায় ৪১টি প্রতিমা ও ৩৫টি ঘট, পেকুয়া উপজেলায় ১১টি প্রতিমা ও ৬টি ঘট, কুতুবদিয়া উপজেলায় ১২টি প্রতিমা ও ২৭টি ঘট, মহেশখালী উপজেলায় ১টি প্রতিমা ও ৩১টি ঘট, উখিয়া উপজেলায় ৫টি প্রতিমা ও ৮টি ঘট এবং টেকনাফ উপজেলায় ৫টি প্রতিমা পূজার মন্ডপ স্থাপিত হয়েছে। গত বছরের চেয়ে এ বছর ১৬টি পূজা মন্ডপ বৃদ্ধি পেয়েছে।

এ উৎসব জাতি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের। এ উৎসবে সকলকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে অংশ গ্রহন করার জন্য আহবান জানান তিনি।