মেইন ম্যেনু

দূষণের শহরে রোগমুক্ত থাকার উপায়

পুরো বিশ্বে পরিবেশ দূষণের মাত্রা দিন দিন তীব্র আকার ধারণ। গ্রামের চেয়ে শহরগুলোতে পরিবেশ দূষণের মাত্রা অত্যধিক বেশি। ঢাকাকে বলা হয় দূষিত পরিবেশের অন্যতম নগরী। আর শীতে আবহাওয়া আদ্র থাকায় পরিবেশ দূষণ হয় বেশি। পরিবেশ দূষণের কারণে আমরা নানাবিধ স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগি।

ভারতের ম্যাক্স সুপার বিশেষায়িত হাসপাতালের কার্ডিয়াক ক্যাথ ল্যাবের প্রধান ডা. মনোজ কুমার বলেন, পরিবেশ দূষণের কারণে বাতাসে বিষাক্ত পদার্থ থাকে। বিষাক্ত পরিবেশের কারণে শ্বাসযন্ত্রের রোগ, হৃদরোগ, স্ট্রোক ইত্যাদি রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।

মেডান্টা হাসপাতালের রেসিপিরেটরি এবং স্লিপ মেডিসিন বিভাগের ডা. বর্ণালী দত্ত বলেন, চারপাশের পরিবেশ আমাদের সার্বিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলে। স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এমন সব ক্ষতিকর পদার্থ ব্যবহারে সচেতনতা অবলম্বন করা উচিত। স্বল্পমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী দূষণরোধে মানুষদের সচেতন হতে হবে।

ব্যায়াম: পরিবেশের বিষাক্ত পদার্থ থেকে বাঁচতে শারীরিক ব্যায়াম রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়ায়। সকালে এবং বিকালে দূষণ ছড়ায় বেশি। তাই সূর্য অস্ত যাওয়ার পর ব্যায়াম করলে দূষণের ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে কম।

শ্বাস মুখোশ: বাজারের বেশির ভাগ শ্বাস মুখোশ বাতাস পরিশোধন করতে পারে না। সার্জিক্যাল মাস্ক এবং রুমালও কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে না। তাই এন৯৫ শ্বাস মুখোশ বাজারের পাওয়া মাস্কের চেয়ে বেশি কার্যকর।

দূষণ কমানো: ঘরের জানালা বন্ধ রাখুন। যখন বাইরে যাবেন গাড়ির জানালা বন্ধু রাখুন।

পানি: শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ভালো রাখার জন্য বেশি করে পানি খান। শরীর পরিশোধনে পানি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হাত ধোয়া: সাবান এবং গরম পানি দিয়ে ঘন ঘন হাত ধৌত করুন। বিশেষ করে খাবার তৈরি, খাবার গ্রহণ, ওষুধ গ্রহণ, কাশি এবং হাঁচির পর, টয়লেটের পর, ময়লা কাপড়চোপড় ধরার পর, সর্দি বা কাশিতে আক্রান্ত এমন কোনো ব্যক্তির পাশে থাকলে হাত ধোয়া উচিত।

নিচের উপসর্গগুলো দেখা যায় তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

– শ্বাসপ্রশ্বাসের ঘাটতি, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, নিঃশ্বাস নেয়ার সময় সাঁ সাঁ শব্দ হলে।

– কাশির সঙ্গে শ্লেষ্মা বৃদ্ধি পেলে।

– হলুদ বা সবুজ রঙের শ্লেষ্মা বের হলে।

– শরীরের তাপমাত্রা ১০১ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে বা হঠাৎ করে ঠাণ্ডা হয়ে গেলে।

-বিষণ্নতা বা ক্লান্তি বৃদ্ধি পেলে।

-গলা ব্যথা, গলা চুলকানো, গলাধঃকরণের সময় ব্যথা।

-নাক দিয়ে অস্বাভাবিক পানি ঝড়া, নাক বন্ধ হয়ে থাকা।