মেইন ম্যেনু

‘দূষণ-দখল’, মরে যাচ্ছে নদী!

নদীকে কেন্দ্র করেই পৃথিবীর যে বিরল ব-দ্বীপ ‘বাংলাদেশ’। সেই নদীকেই মরতে হচ্ছে ‘দূষণ-দখল’ এর কবলে পড়ে! প্রাকৃতিক নিয়ামক এই বাস্তু সংস্থানকে মানুষ যেভাবে ধ্বংস করছে, এর মারাত্মক প্রভাব এই অঞ্চলের সকল মানুষকেই ভোগ করতে হবে। মেনে নিতে হবে চরম পরিণতি। এমনটাই মনে করছেন পরিবেশ সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

সমগ্র বাংলাদেশে যেখানে সাড়ে ১৩ হাজার নদী ছিল তার সংখ্যা এখন একেবারেই নগণ্য। যা এখন ঠেকেছে এক থেকে দুই শতাধিক এর কোঠায়। রাজধানী ঢাকায় এর চিত্র আরো ভয়াবহ। যেগুলো আছে, তাও আবার নাব্যতা হারিয়ে মৃত প্রায়। অথচ ঢাকাকে পরিবেষ্টিত এই নদী সমূহের নাব্যতা ঠিক রেখে দূষণ যদি রোধ করা যেত তবে সুপেয় পানির সরবারহে ভূগর্ভস্থ পানির উপর যেমন চাপ কমানো যেত, তেমনিভাবে নগরীর অভ্যন্তরীণ যাতায়াত দুর্ভোগ লাঘবে নদী পথ অন্যতম মাধ্যম হতে পারতো।

দখলদার ও দূষণকারীদের অত্যাচার থেকে এখনই নদী রক্ষা করতে হবে। অন্যথায় যেগুলো বেচে আছে তাও অচিরেই হারিয়ে যাবে, যার ফলে সমুদ্র পৃষ্টের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে নিম্ন ভূমি নিমজ্জিত হবে। দেশের অনেক অঞ্চলে সমুদ্র গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। এছাড়াও প্রকৃতির নির্মম পরিণতি ভোগ করতে হবে দেশের মানুষকে। সম্প্রতি পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা এমনটাই উদ্বেগ জানিয়েছেন।

এদিকে আজ জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন’ র (পবা) এক গোলটেবিল আলোচনা সভা থেকে রাজধানীর মৃতপ্রায় নদী গুলোকে বাচানোর দাবি জানানো হয়। বৈঠকে বলা হয়, ‘ঢাকা মহানগরী ও আশপাশের এলাকার পয়:বর্জ্য এবং গৃহস্থালির বর্জ্য, শিল্পকারখানা ও হাসপাতালের কঠিন বর্জ্য, আজারীবাগ এলাকায় অবস্থিত ট্যানারির বর্জ্য, নৌযান থেকে নির্গত তেল এবং বর্জ্যে প্রতি নিয়তই নদী দূষণ হচ্ছে। একই সাথে বিভিন্ন আবাসন কোম্পানির নির্বিচার দখলে নদী হারাচ্ছে অস্তিত্ব।’ বেঁচে থাকার প্রয়োজনেই নদী গুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে সরকারের প্রতি আহবান জানায় পবা’র নেতৃবৃন্দরা।

অপরদিকে একই বৈঠকে কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ দাবি করেন, ‘নদী বাচলে, দেশ বাচবে। তাই নদীর উপর যারা প্রতিনিয়ত অত্যাচার চালাচ্ছে, তাদের হটিয়ে নদী রক্ষা করতে হবে।’ ‘তবে এই বিষয়ে সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সদিচ্ছা থাকলেও উচ্চমহলের অনেকের গাফিলতিতে নদী গুলো বাচানো যাচ্ছে না’ বলেও অভিযোগ করেন বরেণ্য এই বুদ্ধিজীবী।

উল্লেখ, নদীর অবৈধ দখল, পানি ও পরিবেশ দূষণ, শিল্প কারখানা কর্তৃক সৃষ্ট নদী দূষণ, অবৈধ কাঠামো নির্মাণ ও নানাবিধ অনিয়ম রোধকল্পে এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ পুনরুদ্ধার, নদীর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ এবং নৌ-পরিবহনযোগ্য হিসাবে গড়ে তোলাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে নদীর বহুমাত্রিক ব্যবহার নিশ্চিত করার প্রয়োজনে ২০১৩ সালের ‘নদী রক্ষা কমিশন’ গঠন করা হয়। কার্রযত ৩ বছর পরে এসেও এই কমিশন নদী রক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে বলেই দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।