মেইন ম্যেনু

দেবহাটার সীমান্ত নদী ইছামতির বাঁধে ভাঙ্গন, আতংকে কয়েক গ্রামের মানুষ

দেবহাটার সীমান্ত নদী ইছামতির ভয়াবহ ভাঙ্গনের মুখে আটটি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ বিপদের ঝুঁকিতে রয়েছেন। সহায় সম্পদ রক্ষার চিন্তায় তারা দিনানিপাত করছেন। ইছামতি নদীর পানির চাপে ৭/৮ টি গ্রাম তলিয়ে ফসলী জমির ধান, মৎস্য ঘের সহ ব্যাপক প্রানহানির আশঙ্কা দেয়া দিয়েছে। গত কয়েক দিনের অবিরাম বর্ষনে সেই আতঙ্ক আরো প্রকট আকার ধারন করেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড এখন পর্যন্ত যে ব্যবস্থা গ্রহন করেছে সেটা প্রয়োজনের তুলনায় যৎসামান্য বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন। গ্রামবাসীরা জানান, অপরিকল্পিতভাবে চিংড়ি চাষ এবং গুটিকয়েক মানুষের ঠেলা জাল নদীতে ফেলার কারণে দেবহাটার সুশীলগাতির সীমান্ত নদীর বাঁধ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। সুশীলগাতির এই বাঁধই বাংলাদেশ ও ভারতের আন্তর্জাতিক নদী সীমা বিভাজন করেছে।

ঐ এলাকার আব্দুস সালেকের ঘেরের পাশের ১৮ ফুট চওড়া বাঁধটি ক্ষয়ে ক্ষয়ে মাত্র এক/দুই ফুটে চলে এসেছে। সাম্প্রতিক অতিবর্ষন বাঁধটিকে আরও দুর্বল করে ফেলেছে।

গ্রামবাসী আরও জানান, চিংড়ি চাষীরা খেয়াল খুশী মতো ছোট বাঁধ দিয়ে মুল বাঁধগুলোর সর্বনাশ ডেকে আনছে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এ বিষয়টি প্রশাসনের সুনজরে আনা হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো কার্য্যকরী ব্যবস্থা বা ঘেরের মালিকদের বিরুদ্ধে কোনো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়নি।

গতকাল সরেজমিনে ঐ এলাকায় দেখা যায় বাধটির খুবই ঝুকির্পনূ অবস্থায় আছে। গত তিন বছর আগেও একই বাঁধটি ভেঙ্গে যেয়ে ডুবে যায় ৬/৭ টি গ্রামের মানুষ। বহু ফসলী জমি, মৎস্য ঘের ক্ষতিপ্রস্থ হয় এবং গবাদী পশুর প্রানহানী ঘটে।

দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তহমিনা খাতুন জানিয়েছেন, তিনি ইতিমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের নিয়ে ভেড়ীবাধগুলো পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, আজই (গতকাল রবিবার) তিনি এ ব্যাপারে আবারো পানি উন্নয়ন বোর্ডকে চিঠি দেবেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসডি আহসান হাবিব জানান, তিনি ক্ষতিগ্রস্থ ভেড়ীবাধগুলো পরিদর্শন করেছেন। বাধগুলো মেরামতে কাজ শুরু করা হয়েছে। সালেকের ঘেরের পাশের ক্ষতিগ্রস্থ ভেড়ীবাধ সম্পর্কে অবহিত করা হলে তিনি উক্ত বাধটি ঝুকিপূর্ন স্বীকার করে জানান, ঠিকাদারের মাধ্যমে উক্ত বাধটি মেরামতে কাজ শুরু করা হয়েছে এবং অতি দ্রুত উক্ত স্থানে ব্লকের মাধ্যমে সংষ্কার করা হবে। এলাকাবাসী দ্রুত উক্ত ক্ষতিগ্রস্থ বাধগুলো মেরামতের জন্য আবেদন জানিয়েছেন।