মেইন ম্যেনু

দেশজুড়ে বিজয়ের উল্লাস

নানা আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে জাতি উদযাপন করছে বিজয়ের ৪৫তম বর্ষপূর্তি। এ উপলক্ষে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ঢল নেমেছে লাখো মানুষের। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় কার্যকরে স্বস্তি, সেই সঙ্গে বিজয়ের উদ্বেলিত আনন্দে লাখো মানুষের শ্রদ্ধার্ঘ আর ভালোবাসার ফুলে ফুলে ভরে ওঠেছে শহীদ বেদী।

বুধবার ভোরে সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে জাতীয় প্যারেড স্কয়ারে (পুরনো বিমানবন্দর) ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে বিজয় দিবসের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ভোরে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এরপর সর্বসাধারণের জন্য স্মৃতিসৌধ উন্মুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

বরাবরের মতো এবারও মহান বিজয় দিবস পালনের বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। বিজয় দিবস উপলক্ষে আজ সকাল ১০টায় বিজয় দিবস কুচকাওয়াজ হবে। এতে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত থাকবেন।

আজ সরকারি ছুটি। মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে গতরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভবনে করা হচ্ছে আলোকসজ্জা। হাসপাতাল, শিশুসদন ও কারাগারগুলোতে পরিবেশন করা হচ্ছে বিশেষ খাবার। বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বিজয় শোভাযাত্রাসহ নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। বিএনপি ঢাকায় বিজয় শোভাযাত্রা করবে। এ ছাড়া জাতীয় পার্টি, ওয়ার্কার্স পার্টি, সিপিবিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকেও নানা কর্মসূচি নেয়া হয়েছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি চত্বর, ধানমণ্ডির রবীন্দ্র সরোবরসহ রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো বিভিন্ন ধরনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

বিজয় দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, বিরোধী দলের নেতা রওশন এরশাদ, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, সাবেক রাষ্ট্রপতি ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।

হাজার বছরের ঐতিহ্যবাহী বাঙালি জাতির সবচেয়ে গৌরবময় অর্জনের দিন আজ। দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালি জাতি ৪৪ বছর আগে এই দিনে চূড়ান্ত স্বাধীনতা লাভ করে। এই স্বাধীনতা অর্জনে ৩০ লাখ বাঙালিকে শহীদ হতে হয়। সম্ভ্রম হারাতে হয় দুই লাখ মা-বোনকে। লাখো লাখো বাঙালি নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়। ৪৪ বছর আগে ১৬ ডিসেম্বরে বীর বাঙালি বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে জানান দেয়, ‘আমরাও পারি।’ ১৯৪৭ সাল থেকে ২৪ বছরের লড়াই সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের গৌরবময় ঘোষণা দেয়া হয় ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর। আনন্দময় বিজয়ের এ দিনটি মাথা উঁচু করে দাঁড়ানোর দিন, স্বজন হারানোর বেদনায় বিহ্বল হওয়ার দিন। বাঙালি জীবনের অনন্য একটি দিন।