মেইন ম্যেনু

দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ যুগ্ম সচিবের দৃপ্ত শপথ : এটাই চাই সবার কাছে

[সরকারের একজন যুগ্ম সচিব জনাব মাহবুব কবির মিলনের এই লেখাটা হতে পারে সরকারী কর্মকর্তা, সাধারন মানুষ, উদ্যামী তরুন-তরুনীর জন্য অন্যরকম অনুপ্রেরণা]

-আপনি কি প্রশংসা পাবার বা নাম কেনার জন্য এসব করেন?

-কোন সব?

-এই যে যে সব কাজ করছেন। ফরমালিন, ক্যালসিয়াম কার্বাইড, ঘন চিনি……এইসব!

-অবশ্যই আপনার কথা সত্য। প্রশংসা কে না চায় বলেন? আপনিও করেন, আমি আপনার প্রশংসা করব।

-আমি কেন করব? যার যার কাজ সে সে করলেই তো হল!

-এখানেই আপনার আর আমার পার্থক্য। সেটা মনে করে আপনি বসে আছেন আর আমি আমার ডেস্কের বাইরে দেশের জন্য করে যাচ্ছি। আমার লিস্ট আল্লাহ্‌র ইচ্ছায় দিনদিন ভারি হচ্ছে। আমি আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে একটি সুন্দর দেশ উপহার দিতে চাই। যাতে স্বাধীনতার সুফল সবাই পায়।

-কিন্তু আমার মনে হচ্ছে, নাম কেনাই আপনার আসল উদ্দেশ্য

-একটু কিনতে দেন না। তার বিনিময়ে তো আপনাদের উপহার দিচ্ছি। ভাই এতে কি আপনার গা জ্বলে? আমি চাই আপনাদের গা জ্বলুক। এই গা জ্বালা নিয়ে আপনারও শুরু করেন। সবাই যদি শুরু করেন, তবে আমার সোনার দেশ আকাশে উড়তে সময় লাগবে না বেশি।

হ্যাঁ, আমি এটাই চাই। অনেক হয়েছে। ৪৪ বছর পার হয়েছে। এবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠুন সবাই। মাথা গুঁজে টেবিলে কাজ করার দিন শেষ হোক। সবার কর্ম ক্ষেত্র হোক সারা বাংলাদেশ। প্রত্যেক সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীর হোক দশটি মাথা, দশ জোড়া হাত ও পা। তবেই আমরা এই ১৭ কোটি মানুষের মুখে হাসি ফোঁটাতে পারব।

ডাকাত মন্তাজের কাজ ছিল ডাকাতি করা। নূর মোহাম্মাদের কাজ ছিল জমি চাষ করা। হাসেম আলির কাজ ছিল নৌকা বাওয়া। জয়ন্ত কুমারের কাজ ছিল মুদির দোকান চালানো। সাত্তারের কাজ ছিল লেখাপড়া করা। আক্কেল আলির কাজ ছিল রিকশা চালানো। এদের কারই কাজ ছিল না স্টেনগান সাবমেশিনগান রাইফেল কাঁধে নেয়া। যারযার কাজ সে করবে বলে এরা বসে থাকলে আপনি আমি অফিসার হতাম না। হতাম না কোটিপতি ব্যবসায়ী। জাহাজ প্লেন আর হেলিকপ্টারের মালিক হতে পারতাম না কেউ ।

মন্তাজ ডাকাত পায়ে ২৩ টি গুলি নিয়ে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে আবার যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে না পড়লে, নূর মোহাম্মাদ একটানা ৯ দিন পুকুরে ডুবে কচুরি পানা খেয়ে, পানির পোকা ধরা শরীর নিয়ে হানাদারদের খতম না করলে এই মাটি আর পতাকার জন্ম হত না।

এগিয়ে আসুন সবাই। আপনারা না করলে আমাকে সাহায্য করুন। ’৭১ এর স্বাধীনতার সৈনিকদের পবিত্র স্পর্শ মাখা আছে এই শরীরে। তাঁদের কাঁধে উঠে পতাকা হাতে চিৎকার করে আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করেছি, দেখেছি হায়েনার পৈশাচিকতা। আমি বেঈমান নই। যুদ্ধ ক্ষেত্রে আমি একাই সৈনিক। আমি এগিয়ে যাবই, আলোর পথে ইনশাআল্লাহ্‌। এই দেশ আমার, মাটি আমার। আমার লিস্ট ভারি হতেই থাকবে। প্রশংসা বা নিন্দা, সে দায় আপনাদের।