মেইন ম্যেনু

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলা : সাতক্ষীরার ৬ মামলার বিচার হয়নি দশ বছরেও

সাতক্ষীরা শহরের শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্ক, জেলা জজ কোর্ট চত্বর, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল চত্বর, বাস টার্মিনাল ও খুলনা রোড মোড় প্রায় একই সময়ে বিকট শব্দে কেপে উঠেছিল। শুধু সাতক্ষীরা নয়, সারাদেশের ৬৩টি জেলায় একই সময়ে সিরিজ বোমা হামলা চালিয়ে অস্তিত্ব জানান দিয়েছিল নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণ অনুযায়ী সাতক্ষীরাতে ঘটনার দিনই প্রথম ধরা পড়েছিল জেএমবি জঙ্গি নাসিরউদ্দিন।

দেশব্যাপী সিরিজ বোমা হামলার সেই ভয়াল ১৭ আগস্ট সোমবার। এই দিনেই সাতক্ষীরাসহ দেশের ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা চালায় জেএমবি। এ ঘটনার পর আটক ও বিচারের মুখোমুখি হয়েছে শায়খ আব্দুর রহমান, বাংলা ভাইসহ জেএমবি’র শীর্ষ নেতারা। ঝুলেছে ফাঁসিতে। তবে, দশ বছর অতিবাহিত হলেও সাক্ষীর অভাবে বিচারের অপেক্ষায় ঝুলে আছে সিরিজ বোমা হামলার ঘটনায় সাতক্ষীরায় দায়েরকৃত ৬টি মামলা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জেএমবি জঙ্গি নাসিরউদ্দিনের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী একে একে গ্রেফতার হয় জঙ্গি মনিরুজ্জামান মুন্না, আনিসুর রহমান খোকন, মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল, মাহবুবুর রহমান লিটন, মো. গিয়াসউদ্দিন, বেল্লাল হোসেন, ইসমাইল হোসেন, মো. সাইফুল্লাহ, মামুনুর রশীদ, মোন্তাজ আলি, মো. আলমগীর ও নুর আলি। এদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন ভারতীয় নাগরিক।

গ্রেফতার হওয়া সব আসামিই সাতক্ষীরা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। এদের মধ্যে মনোয়ার হোসেন উজ্জ্বল ও আনিসুর রহমান খোকন ২০১১ সালের জুনে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পায়। এর কিছুদিন পর তারা পুনরায় গ্রেফতার হলেও ফের জামিন লাভ করে। তবে, এ মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের ফখরুদ্দিন রাজি, যশোরের কেশবপুরের বায়সা গ্রামের আসাদুজ্জামান হাজারি, সাতানির আবুল খায়ের, কলারোয়ার পাটুলি গ্রামের নাঈমুদ্দিন ও তলুইগাছার মমতাজউদ্দিনকে এখনও গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

মামলাগুলোর বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে সাতক্ষীরা আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজহারুল ইসলাম জানান, সিরিজ বোমা হামলা সম্পর্কিত ছয়টি মামলার ১৭৮ সাক্ষীর মধ্যে মাত্র ৬০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। অধিকাংশ সময়ই সাক্ষী পাওয়া যায় না, আবার সাক্ষী হাজির হলেও আসামিরা থাকে দেশের অন্য কোনো কারাগারে। তার ওপর সাতক্ষীরার সংশ্লিষ্ট আদালতে বিচারকও নেই প্রায় এক বছর। ফলে মামলাগুলোর ধার্যদিন বারবার পরিবর্তন হচ্ছে।

আগামী ১৯ অক্টোবরও মামলাগুলোর ধার্যদিন রয়েছে বলে জানান তিনি।