মেইন ম্যেনু

দেশের ক’জন নীতি-নির্ধারকের সঙ্গে বিজেপি’র গোপন বৈঠক !

ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির জাতীয় কমিটির যুগ্ম মহাসচিব রাম লাল বাংলাদেশের কয়েকজন নীতি-নির্ধারক ব্যক্তির সঙ্গে কলকাতার একটি রিসোর্টে গোপন বৈঠক করেছেন। জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশে কয়েকজন হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এরই প্রেক্ষিতে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের প্রকৃত অবস্থা জানতেই গত সপ্তাহে গোপন এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। কলকাতা থেকে প্রকাশিত দ্যা টেলিগ্রাফ এ খবর প্রকাশ করেছে।

ওই খবরে বলা হয়, প্রায় দুই কোটি হিন্দু বাংলাদেশে বসবাস করছে। সাম্প্রতিক সময়ে হিন্দুসহ বেশ কয়েকজন সংখ্যালঘু ব্যক্তির ওপর আক্রমণের ঘটনা ঘটেছে। ফলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রকৃত অবস্থা কী, তা জানতেই এ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। কলকাতা থেকে দেড় ঘণ্টা গাড়িপথের দূরত্বের একটি রিসোর্টে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পঞ্চগড়ে হিন্দু পুরোহিত যোগেশ্বর রায় খুন হওয়ার পরদিনই শুরুহয় দুই দিনের এ বৈঠক। গোপন এ বৈঠকের কথা সরাসরি স্বীকার করেননি কেউ।

দিল্লির এক সূত্র দ্যা টেলিগ্রাফকে জানিয়েছে, ভারতের ডানপন্থি স্বেচ্ছাসেবক সংগঠন রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) যুগ্ম মহাসচিব দত্তত্রেয়া হোসাবেল এ বৈঠক আয়োজনে ভূমিকা রাখেন। বৈঠকে বাংলাদেশ থেকে অংশ নেয়া প্রতিনিধিদলে রাজনীতিবিদ ছাড়াও ছিলেন সুশীলসমাজের প্রতিনিধি, সাংবাদিক ও পেশাজীবীরা।

বিজেপির যুগ্ম মহাসচিব রাম লালের নেতৃত্বে ভারতের পক্ষে এ বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়েক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এসব কর্মকর্তা নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কারণে না কি বাংলাদেশের সংখ্যালঘু পরিস্থিতি মূল্যায়নের জন্য উপস্থিত ছিলেন, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্বয়ংসেবক সংঘের সূত্র জানায়, তারা এ বৈঠকে বিজেপির মহাসচিব রাম মাধবকে উপস্থিত রাখতে আগ্রহী ছিলেন। তবে আসামের নির্বাচনের দায়িত্বভার মাধবের ওপর থাকায় তিনি সময় করতে পারেননি। বৈঠকে যোগ দেয়া বাংলাদেশের আওয়ামী লীগের একজন নেতা বলেছেন, ‘এই বৈঠকে আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বিস্তারিত চিত্র তুলে ধরেছি। তা ছাড়া বিজেপি ও আমাদের দলের মধ্যকার সম্পর্ক কীভাবে আরও শক্তিশালী করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের দলীয় প্রধানের কাছ থেকে সবুজসংকেত পেয়েই আমি ভারতে এ বৈঠকে যোগ দিতে এসেছি।’ আওয়ামী লীগের এ নেতা জানান, ভারতের বিজেপি বা আরএসএসের সঙ্গে কাজ করতে আওয়ামী লীগের কোনো আপত্তি নেই। বাংলাদেশে যখন আওয়ামী লীগের প্রধান বিরোধী দল বিএনপির সঙ্গে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের জোট গড়ে ওঠে, ঠিক একই সময় ভারতে উত্থান ঘটে বিজেপির। গত কয়েক বছরে বিএনপি সাংগঠনিকভবে দুর্বল হয়ে পড়ায় এখন এ জোট অনেকটাই নিষ্ক্রিয়।

এদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগের সঙ্গে বরাবরই সখ্য ছিল ভারতের কংগ্রেসের। নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় এলে তা নিয়ে শুরুতে সতর্ক অবস্থানেও ছিল আওয়ামী লীগ সরকার। তবে শুরুর দিকের এ আশঙ্কা বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। এখন উভয় পক্ষের কূটনীতিকরাই মনে করেন আওয়ামী লীগ ও বিজেপির দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ‘কখনোই এত ভালো ছিল না।’ ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখার আগ্রহের বিষয়টিও স্পষ্ট হয় ভারতে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবু হাসান মাহমুদ আলীর সফরেও। এ সফরে আরএসএস প্রচারক থেকে বিজেপির জাতীয় মহাসচিব বনে যাওয়া রাম মাধব বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সৌজন্যে একটি মধ্যাহ্নভোজের নিমন্ত্রণ জানান। আরএসএসের থিংক-ট্যাংক হিসেবে পরিচিত দি ইন্ডিয়ান ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের জন্য এই মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করে।

bangla-bjp
এ সপ্তাহেরই শেষের দিকে মাধবের নেতৃত্বে ইন্ডিয়া ফাউন্ডেশনের একটি প্রতিনিধিদল ঢাকাতেও সফরে আসবেন। দিল্লির একটি সূত্র বলেছে, ‘ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে অনেক কিছুই ঘটছে। কলকাতায় অনুষ্ঠিত বৈঠকটি একটু ভিন্ন ধরনের হতে পারে, কিন্তু এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।’ গত অক্টোবরে বাংলাদেশে খ্রিষ্টান এক যাজকের ওপর হমলার ঘটনা ঘটে। পরের মসে ইতালিয়ান একজন ক্যাথলিক পাদ্রির ওপরও হামলা হয়। নভেম্বরেই বগুড়ায় একটি শিয়া মসজিদেও হামলা হয়। এর আগে ২০১৩ সাল থেকে শুরু করে বেশ কয়েকজন ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও প্রকাশক খুন হন বাংলাদেশে।

ফলে হাসিনা সরকারের আমলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের কোণঠাসা অবস্থানের বিষয়টি সামনে চলে আসে। তবে কলকাতায় অনুষ্ঠিত গোপন বৈঠকের আলোচনা সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র জানিয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশের প্রতিনিধিরা দেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার বিষয়ে শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির প্রশংসা করেছেন। তবে আওয়ামী লীগ নেতাদের দ্বারা সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমিজমা দখলের বিষয়টিও বিস্তারিতভাবে উঠে এসেছে আলোচনায়।

গোপন এই বৈঠক প্রসঙ্গে একজন অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিবিদ বলেন, ‘আমরা জানি না ঠিক কোন বিষয়গুলো এ বৈঠকে উঠে এসেছে। ফলে এটা নিয়ে কোনো মন্তব্যও করা যায় না। তবে আমি কেবল এটুকুই আশা করি যে এ বৈঠক যেন ভারতের প্রতিবেশী দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের উদাহরণ হয়ে না দাঁড়ায়।’