মেইন ম্যেনু

দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের প্রায় ১৮টি দেশে ভোলার কাঁকড়া রপ্তানি হচ্ছে

ভোলা জেলার দক্ষিণঞ্চলে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় চরফ্যাশন উপজেলার চর কচ্ছপিয়া, চর মন্তাজ, চর পাতিলা, চর দাঁতভাঙ্গা, কালকিনি, চর মানিকা, চর নিজাম, চর কুকরি মুকরি, ঢালচরসহ মনপুরা উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে ৪০,০০০ হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগান রয়েছে। এসকল এলাকায় প্রাকৃতিকভাবে গড়ে উঠেছে কয়েক হাজার ছোট-বড় খাল। এলাকাগুলো সাগরের কাছাকাছি হওয়ায় লবণাক্ত পানিতে প্রাকৃতিকভাবে প্রচুর পরিমাণে কাঁকড়া উৎপাদন হচ্ছে। শুরু হয়েছে বাণিজ্যিক ভাবে কাঁকড়া চাষ
এসকল খালে প্রতিনিয়ত ধরা পড়ছে বিপুল পরিমাণ কাঁকড়া। বড় আকারের কাঁকড়া খাল থেকে ধরে বিক্রি করা হলেও ছোট কাঁকড়াগুলো পুকুর বা হ্যাচারিতে চাষ করছেন অনেক চাষী। কাঁকড়া চাষ করে সাবলম্বী হয়েছেন অনেক চাষী। কাঁকড়া চাষ, শিকার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করছে প্রায় ২৫,০০০ মানুষ।
স্থানীয় কাঁকড়া চাষীরা জানায়, এ এলাকাগুলো সাগর ও নদী প্রধান হওয়ায় খাল ও পুকুরে জাল দিয়ে হ্যাচারি তৈরি করে অনায়াসে কাঁকড়া চাষ করা হয়।
লবণাক্ত পানির কারণে কাঁকড়া চাষে অনেক সুবিধা রয়েছে। তাছাড়া রোগ বালাইও কম হয়। কাঁকড়ার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করা হয় কুইচ্চা কুচিলা, চেওয়া মাছ, চিংড়িগুড়া, শুঁটকি ও ওলুপা মাছ।
কম খরচ আর কম পরিশ্রমে অধিক লাভ হওয়ায় চাষীরাও সারাদিন কাঁকড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকেন হ্যাচারি ও পুকুরে ।
চর কুকরী এলাকার একজন কাঁকড়া চাষী জানান, তিনি ২০১৩ সালে এফডিবি সংস্থার সহযোগিতায় কাকড়া চাষের প্রশিক্ষণ নিয়ে ২৪ শতাংশ পুকুরে নেটজাল দিয়ে কাঁকড়া চাষ শুরু করেন।
মাত্র ৬ মাসে প্রায় এক লাখ ৫০,০০০ টাকা পুঁজি খাটিয়ে কাঁকড়া বিক্রি করে ৩ লাখ টাকা আয় করেন। তখন থেকে তিনি কাঁকড়া চাষকে প্রধান পেশা হিসেবে নিয়েছেন।
এদিকে, উপকূলে কাঁকড়া শিকার করে অনেক বেকার যুবক অর্থ উপার্জনের সুযোগ পেয়েছেন। এখানকার নদী ও খালগুলোতে কাঁকড়া শিকার করে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,কাকড়া চাষ ও শিকার করা কাঁকড়া বিক্রি করা হয় স্থানীয় আড়ৎতে। ১০০ গ্রাম ওজনের নিচে প্রতি পিস কাঁকড়া ২০ থেকে ৩০ টাকা হারে প্রতি কেজি ২০০ থেকে ৩০০ টাকা হারে বিক্রি করা হয় ।
Pic (2)গ্রেড সাইজে ২০০ গ্রাম (গর্দা) এর ওপরে প্রতি কেজি ৫০০/৫৫০ টাকা, ৩০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ৭০০/৭৫০ টাকা, ৫০০ গ্রাম ওজনের প্রতি কেজি ১,০০০/১১০০ টাকা হারে করে বিক্রি করা হয়। এসকল কাঁকড়া প্রতিদিন ঢাকায় চালান করা হয়।কচ্ছপিয়ায় কাঁকড়া ব্যবসায়ী আনিছ জানান, তার আড়ৎতের অধীনে প্রায় শতাধিক কাঁকড়া শিকারি রয়েছে।
কাকড়া চাষী ও শিকারিরা কাঁকড়া এনে তার আড়ৎতে বিক্রি করেন। প্রতিদিন তিনি ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করে কাঁকড়া কেনেন। এসকল কাঁকড়া প্রতিদিন লঞ্চযোগে ঢাকা পাঠান। সেখান থেকে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিশ্বের প্রায় ১৮টি দেশে এ কাঁকড়া রপ্তানি করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
এসকল চাষীদের উন্নত কারিগরি প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা করা হলে কাঁকড়া চাষে অনেকে আরো আগ্রহী হবেন বলে মনে করেন স্থানীয়রা।
এতে প্রচুর পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রাসহ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
চরফ্যাশন উপজেলা মৎস্য সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আসাদুজ্জামান বলেন, ‘উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে কাঁকড়া চাষ করে অনেক চাষী সফল হয়েছেন। কাঁকড়া চাষের উপর সরকারিভাবে প্রকল্প করা হচ্ছে।’
এ প্রকল্পে চাষীদের উন্নত প্রশিক্ষণ ও আর্থিক সহযোগিতা করা হবে বলে তিনি জানান।