মেইন ম্যেনু

ছয় বিমানবন্দরের মেগা প্রকল্পে দুর্নীতি

দেশের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ ৬ বিমানবন্দরের মেগা প্রকল্প তদন্ত নেমেও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চুপসে গেছে। দুদক অনেকটা ”কম্ভুকর্ন”। এ সব প্রকল্পে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্বে কয়েক কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুদক দাপ্তরিক চিঠি ইস্যু ও ফাইল তলব করে ডকুমেন্ট উদ্বার করার ছয় মাস পরও দুদক কার্যকর কোন অইনি ব্যবস্থা গ্রহন করেনি। ফলে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তরা দুদককে ম্যানেজ করে অনেকটা গাঝাড়া দিয়ে উঠেছে। দুদক শুধু বলছে তদন্ত শেষ হয়নি; তদন্ত শেষ হলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্বে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ১২টি মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির অনুসন্ধান চলছে এবং ২৬টি প্রকল্পের অনুসন্ধার শুরু হবে দুদক সূত্রে জানা গেছে।

যে সব বিমানবন্দরের প্রকল্পে দুর্নীতির অীভযোগ উঠেছে সেগুলো হলো- শাহজালাল র. আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, চট্রগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জতিক বিমানবন্দর , সিলেটের ওসমানি বিমানবন্দর, রাজশাহির শাহ মখদুম বিমানবন্দর, যশোহর ও সৈয়দপুর বিমানবন্দর। সিভিল এভিয়েশনের চেয়ারম্যার বরাবর পাঠানো দুদকের দাপ্তরিক চিঠিতে ২৬ প্রকল্পের নথি, দাখিলকৃত দরপত্র, তুলনামুলক বিবরনী, কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির রিপোর্ট, কার্যাদেশ, এমবি ও বিল প্রদানের চেকসহ সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সরবরাহের জন্য বলা হয়েছে।

দুদকের চিঠি পাওয়ার সিএএবি কর্তৃপক্ষ দুদক অফিসে ওই সব প্রকল্পের নথিপত্র প্রেরণ করেছে বলে জানা গেছে। এ সব প্রকল্পের বেশ কয়েকটি কাজের সাথে সিএএবির নির্বাহি প্রকৌমলী (ই/এম) আছির উদ্দিনের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে দুদক সুত্র জানায়। কিন্ত প্রকৌশলী আছির উদ্দিন এবং ই/এম বিভাগের আরেক দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলী মুরাদকে বার বার দুদক চিঠি দিয়ে তলব করলেও এখন পর্যন্ত এদের বিরুদ্বে মামলা হয়নি। এ সব মেগা প্রকল্পের আরেকটির পিডি প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবকে কক্সবাজার চট্রগ্রাম বিমানবন্দরের প্রজেক্টের দুর্নীতির ব্যাপারে কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহন করেনি দুদক। এর আগে সিএএবির প্রধান প্রকৌশলী থেকে শুরু পাতি প্রকৌশলী পর্যন্ত বার বার তলব করলেও দুদক এক এখন পর্যন্ত কারো বিরুদ্বে আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি।

সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার, চট্রগ্রাম বিমানবন্দরের উন্নয়নমুলক কাজের প্রকল্পের পিডি প্রকৌশলী আমিনুল হাসিবের অফিস চট্রগ্রামে হলেও তিনি মাসের অধিকাংশ সময় ঢাকায় পড়ে থাকেন, সিএএবির কাড়ি কাড়ি টাকায় বিমানের টিকিট কিনে তিনি চট্রগ্রামে যাতায়াত করে থাকেন আর ঢাকায় সিএএবির গাড়ি ও জ¦ালানি তেল খরচ করেঘুরে বেড়ান। তিনি যখন সিডি-৩ এর নির্বাহি প্রকৌশলীর দায়িত্ব পালন করেন তখন সরকার দলীয় একটি গ্রুপকে ঠিকাদারি কার দেন, এতে আরেকটি গ্রুপ তাকে তার অফিসে লাঞ্চিত করেন। পরে দেন-দরবারের পর বিষয়টি মীমাংসা করা হয়।

সূত্র জানায়, সিএএবির এ সব দুর্নীতিবাজ প্রকৌশলীরা বিমানবন্দরে দুদক কর্মকর্তাদের প্রটোকল দিয়ে থাকেন। একজন প্রকৌশলীর নাম বিমানবন্দরে সবার সবার মুখে মুখে। সিএএবিতে চীফ থেকে শুরু করে প্রায় সব প্রকৌলীই দুর্নীতির অভিযোগে অবিযুক্ত। এর মধ্যে কারো কারো নিয়োগপত্রই ভুয়া বলে দুদক তদন্ত করছে। প্রকৌশলী মোকাব্বরকে মন্ত্রনালয়ের আদেশ লংঘন করে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠেছে। দুর্নীতি করেও প্রকৌশলী আছির উদ্দিন বার বার পার পেয়ে যাচ্ছেন কারন সংস্থার প্রধান প্রকৌশলীর সাথে তার বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে বলে সিএএবির একাধিক ঠিকাদার জানান।

দুর্নীতির অভিযোগে দুদকের অভিযুক্ত প্রকৌশলী আছির উদ্দিন জানান, দুর্নীতি করে উত্তরায় বহুতল বাড়ি করিনি, বাড়িটি আমার মেয়ের নামে।

দুদকের সহকারি পরিচালক সালাম আলি মোল্লা জানান, মেগা প্রকল্পের দুর্নীতির ব্যাপারে তদন্ত চলছে, তদন্ত শেষ হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সিএএবির চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শার এহছানুল গনি চৌধুরি বলেন, প্রকল্পগুলো আমার এখানে যোগদানের অনেক আগের , আগে দুদক তদন্ত করে দেখুক, তারপর দেখা যাবে।