মেইন ম্যেনু

এখনো শুরুই হয়নি অনুসন্ধানঃ

দেশের সমুদ্র সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা

সমুদ্রসীমা নিয়ে বিরোধ মিটলেও এখনো শুরু হয়নি তেল-গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম। বিপরীতে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত ও মায়ানমার তাদের সমুদ্র সীমায় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের কাজ পুরো দমে শুরু করেছে। এতে বাংলাদেশর সীমান্তবর্তী গ্যাস ব্লকগুলোর সম্পদ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এমনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বিষয়টি নিয়ে পর্যবক্ষণের পরামর্শ দিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে দেশের একটি প্রভাবশালী গোয়েন্দা সংস্থা।

প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর কাছে পাঠানো ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, মায়ানমার রাখাইন রাজ্যের গভীর সমুদ্রের গ্যাস উত্তোলনের কাজ শুরু করেছে। দেশটি বাংলাদেশের সীমানায় মূল্যবান খনিজ আহরণ করছে কি না তা নিয়ে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে বাংলাদেশকেও দ্রুত সমুদ্র সীমান্তবর্তী এলাকায় গ্যাস উত্তোলনে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ভূতাত্ত্বিক অধ্যাপক বদরুল ইমাম জানান, মায়নামার সমুদ্রসীমায় তিনটি বড় গ্যাস ক্ষেত্র পেয়েছে। বাংলাদেশের চারটি ব্লক একই এলাকায় অবস্থিত হওয়ায় সেগুলোও সম্ভবনাময়। যেখানে মায়ানমার তার সীমান্তবর্তী সব ব্লকে কাজ শুরু করেছে। সেখানে বাংলাদেশ মায়ানমার সীমানার চার ব্লকে এখনও অনুমন্ধান কাজ শুরুই করেনি। মাত্র একটি ব্লক ইজারা দিয়েছে। এতে একই এলাকায় অবস্থিত বলে বাংলাদেশের ক্ষতির আশঙ্কা থেকেই যায়।

মায়ানমার তার সমুদ্র ব্লক এ-১, এ-২ এবং এ-৩ এ সুফু, সু এবং মিঞা নামের তিনটি বড় গ্যাস ক্ষেত্র পেয়েছে।

২০১২ সালে বাংলাদেশ ও মায়ানমারের মধ্যে সমুদ্রসীমা নির্ধারণী সংক্রান্ত মামলার নিষ্পত্তি হয়। জার্মানির হামবুর্গে অবস্থিত ইন্টারন্যাশনাল ট্রাইব্যুনাল ফর দ্য ল অব দ্য সি (ইটলস) এর ন্যায্যতার ভিত্তিতে দেয়া রায় বাংলাদেশের পক্ষে যায়। এতে বঙ্গোপসাগরে অমীমাংসিত ২০০ নটিক্যাল মাইলের একচ্ছত্র অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং এর বাইরে মহীসোপান অঞ্চলের ন্যায্য হিস্যা লাভ করে বাংলাদেশ। এতে করে মায়ানমারের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ ১১, ১২, ১৬ এবং ২১ নম্বর ব্লকে বাংলাদেশের মালিকানা প্রতিষ্ঠিত হয়। বেশ ঘটা করে এ বিজয় উৎযাপন করা হলেও কাজের কাজ কিছু হয়নি। চার ব্লকের মধ্যে শুধু ১১ নম্বর ব্লক ইজারা দেয়া হয়েছে। যেখানেও এখনো কোন কাজ শুরু হয়নি। এমনকি ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা সংক্রান্ত মামলার বিরোধ নিষ্পত্তি হলেও তেল গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি সরকার।

পেট্রোবাংলা বলছে, আগে সাগরে দ্বিতীয়মাত্রার জরিপ করা সম্পদের একটি ধারণা নিয়ে পরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের দরপত্র ডাকা হবে। এ কথা গত একবছর ধরে বলা হলেও এখনও কোন কোম্পানিকে নিয়োগ দিতে পারেনি সরকার। যেখানে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের সমুদ্র সীমা নিয়ে রায় পাওয়ার পরপরই মায়ানমার তার সমুদ্র ব্লকে ত্রি মাত্রিক ভূকম্পন জরিপ কাজ সম্পন্ন করে চুক্তি পর্যন্ত করেছে।

চিঠিতে গোয়েন্দা সংস্থা বলছে, সম্প্রতি মায়ানমার কয়েকটি বিদেশী কোম্পানির সঙ্গে গভীর সমুদ্রের গ্যস অনুসন্ধানে চুক্তি করেছে। যুক্তরাষ্ট্রর শেল ওয়েল এবং জাপান ভিত্তিক মিটস্যুউ ওয়েল কোম্পানি সঙ্গে রাখাইন রাজ্যের গভীর সমুদ্রে এডি-৯ ও এডি-১১সহ তিনটি ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে চুক্তি সই করেছে। হয়েছে। এসব ক্ষেত্র থেকে কোম্পানি আগামী কয়েক বছরের মধ্যে গ্যাস উত্তোলন সম্ভব গবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে মায়ানমার বাংলাদেশের মূল্যবান খনিজ আহরণ করছে কি না একটি বিশেষজ্ঞ কমিটির মাধ্যমে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

জানা গেছে, ইতোমধ্যে রাখাইন রাজ্যের নিকটবর্তী গভীর সমুদ্রের তিনটি ব্লক এ-১, এ-২ এবং এ-৩ থেকে গ্যাস উত্তোলন করছে দক্ষিণ কোরিয়ার দায়িয়ু কোম্পানি। এই গ্যাস পাইপ লাইনের মাধ্যমে চীনে সরবরাহ করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, মায়ানমার ২০১৩ সালের অক্টোবরে গভীর সমুদ্রের ২০ ব্লকে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র ডেকেছিল। বর্তমানে দেশটিতে ৭ দশমিক ৮ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুদ রয়েছে বলে বলা হচ্ছে।