মেইন ম্যেনু

দেশের ১৫ লাখ মানুষ দাস জীবনে বাধ্য

১৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি দাস জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন বলে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার সংস্থাটির প্রকাশিত এক প্রতিবেদন বলছে, বিশ্বে ৪ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ দাসের মতো জীবনযাপনে বাধ্য হচ্ছেন।

সংস্থাটির চলতি বছরের বৈশ্বিক দাসত্ব সূচক অনুযায়ী, জনসংখ্যার হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থান দশম।

ওয়াক ফ্রি ফাউন্ডেশনের বরাত দিয়ে বার্তাসংস্থা রয়টার্স বলছে, কারখানা শ্রমিক, খনিতে যারা স্বল্প মজুরিতে বাধ্য হয়ে দাসের মতো শ্রম দিচ্ছেন, দালালের খপ্পরে পড়ে যৌনকর্মীর জীবন যাপনে বাধ্য হচ্ছেন, ঋণ পরিশোধ করতে না পেয়ে দাসের জীবন অথবা বাবা-মায়ের ঋণের দায় নিয়ে যারা জন্ম নিচ্ছেন কৃতদাসের মতো তাদের সংখ্যা ধরেই এ সূচক তৈরি করা হয়েছে।

এর আগে, ২০১৪ সালে সংস্থাটি জানায়, বাংলাদেশে প্রায় ৬ লাখ ৮০ হাজার মানুষ আধুনিক দাস জীবনযাপন করছেন। তবে চলতি বছর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি। এ ধরনের দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা অনুযায়ী বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ।

বাংলাদেশের ১৬ কোটির বেশি মানুষের মধ্যে ১৫ লাখ ৩১ হাজার মানুষ দাস জীবন কাটাচ্ছেন। মোট জনসংখ্যায় এ হার শূন্য দশমিক ৯৫ শতাংশ।

গ্লোবাল স্লেভারি ইনডেক্স বলছে, বিশ্বজুড়ে ৪ কোটি ৫৮ লাখ মানুষ ‘আধুনিক দাসের’ জীবন কাটাচ্ছেন। এদের মধ্যে ৫৮ শতাংশই ভারত, চীন, পাকিস্তান, বাংলাদেশ ও উজবেকিস্তানের বাসিন্দা। ১৬৭ দেশের তথ্যের ওপর ওই সূচক তৈরি করা হয়েছে।

আধুনিক এই দাসদের দুই তৃতীয়াংশই এশিয়ার। ভারতে সবচেয়ে বেশি, ১ কোটি ৮৩ লাখ। সবচেয়ে বেশি রয়েছে চীনে (দ্বিতীয়); দেশটিতে ৩৪ লাখ মানুষ দাস জীবনে বাধ্য হচ্ছেন। তালিকায় তৃতীয় স্থানে থাকা পাকিস্তানে ‘দাসের জীবনে’ বাধ্য হচ্ছেন ২১ লাখ মানুষ।

তবে মোট জনসংখ্যার হিসেবে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে উত্তর কোরিয়ায়। দেশটিতে প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন দাস জীবনে বাধ্য।