মেইন ম্যেনু

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধর্ষনের ঘটনা

দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধর্ষনের ঘটনা। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে একের পর এক ধর্ষনের ঘটনা ও ধর্ষনের অভিযোগ উঠছে। কন্যা শিশু থেকে সাধারণ নারীর পাশাপাশি ধর্ষন থেকে রেহাই পাচ্ছে না স্বয়ং পুলিশও। প্রতিদিনই ঘটছে ধর্ষণের ঘটনা। নিজ সহকর্মীদের হাতে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে নারী সহকর্মীরা। অতি সম্প্রতি নারী পুলিশও ধর্ষনের শিকার হয়েছেন। ধর্ষনকারী লম্পটদের সাথে নাম লেখাচ্ছেন পুলিশও। বাদ যাচ্ছে না মসজিদের ইমাম, মাদরাসা শিক্ষক কিংবা গৃহ শিক্ষকও। চলন্ত গাড়িতে ধর্ষনের অভিযোগও সবার জানা।
অবশ্য প্রকাশ্যে উঠে আসা ধর্ষনের অভিযোগ গুলো ধর্ষনের ঘটনার তুলনায় নিতান্তই কম বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
অতি সম্প্রতি নারী পুলিশকে ধর্ষনের অভিযোগ উঠেছে অপর এক পুরুষ পুলিশের বিরুদ্ধে। এঘটনা যখন দেশব্যাপী তোলপাড় হচ্ছে ঠিক তখনই আবারো আরেক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষনের অভিযোগ এনেছেন তার সাবেক স্ত্রী। আর পড়াতে গিযে ৯বছরের শিশু ধর্ষনের শিকার হলো তার গৃহ শিক্ষকের কাছে।
পুলিশের বিরুদ্ধে পুলিশের ধর্ষনের অভিযোগের রেশ উঠতেই এবার আরেক পুলিশ সদস্যর বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ এনেছেন তার সাবেক স্ত্রী। অভিযোগকারী লাকি (ছদ্ম নাম) বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওসিসিতে ভর্তি আছেন।
লাকি জানান, তার স্বামী মোশাররফ হোসেন স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটোকল ব্যাটেলিয়ানের (এসপিবিএন) অধীনে বসিলা পুলিশ ফাঁড়িতে এএসআই পদে কর্মরত। তার ব্যাচ নম্বর ১২১৭৩।
গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর প্রেম করে তাদের বিয়ে হয়। বিয়েতে ৮ লাখ টাকা দেনমোহর ধার্য ছিল। কিন্তু বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তার বাদানুবাদ শুরু হয়। এরই একপর্যায়ে তারা পৃথকভাবে থাকতে শুরু করেন।
চলতি বছরের ১৫ জানুয়ারি তার স্বামী তাকে ডিভোর্সের চিঠি পাঠান। কিন্তু তিনি ওই চিঠি গ্রহণ করেননি। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি লাকি মোহাম্মদপুর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা করেন। এতে আটক হন তার স্বামী। ২২ দিন জেলে থাকার পর জামিন পান তিনি।
গত ২৭ মে তার স্বামী তাকে আপোস মিমাংসার কথা বলে মোহাম্মদপুরের চাঁদ উদ্যান এলাকায় তার স্বামীর এক বন্ধুর বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ৮ জুন পর্যন্ত তাকে আটকে রেখে তার উপর পাশবিক নির্যাতন চালায় এবং একটি সাদা কাগজে তার স্বাক্ষর নিয়ে তাকে ছেড়ে দেয়।
এ বিষয়ে নাম না প্রকাশের শর্তে ওই পুলিশ সদস্যের একাধিক সহকর্মী জানান, ওই এএসআই’র বিরুদ্ধে অনেক ধরনের অভিযোগ আছে। তিনি একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিও।
১৪ জুন কুড়িগ্রামের রৌমারিতে কথিত প্রেমিকাকে ধর্ষনের পর হত্যা করেছে বখাটে যুবক আইয়ুব আলী। হত্যার পর চলে যাওয়ার সময় হার্টএ্যাটাকে মৃত্যু হয় প্রেমিক আইয়ুব আলীর।
প্রথম শ্রেণীর শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে।
রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় প্রথম শ্রেণীর এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছে শিশুটির মা শাহীনা আক্তার। রোববার শাহীনা আক্তার থানায় গিয়ে মামলাটি করেন।
শিশুটির বাবার নাম এনামুল হক। গ্রামের বাড়ি বগুড়ার ধনুট উপজেলায়। মা-বাবা দুজনই পোশাককর্মী। শিশুটি তার মা-বাবার সঙ্গে তুরাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকে।
শাহীনা আক্তার জানায়, সোহাগ নামের এক গৃহশিক্ষক তার মেয়ে এবং ছেলেকে কিছুদিন ধরে প্রাইভেট পড়াতো। কিন্তু মা-বাবা দুজনই কর্মক্ষেত্রে চলে যাওয়ায় সোহাগ বাসায় এসে শিশুটিকে পড়ানোর নাম করে প্রায়ই ধর্ষণ করে আসছিল। বিষয়টি প্রথমে প্রতিবেশী ভাড়াটিয়াদের জানায় মেয়েটি। পরে প্রতিবেশীরা তার (মেয়েটির) মাকে জানালে শাহীনা আক্তার তুরাগ থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।
বর্তমানে শিশুটিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্ত সোহাগ পলাতক আছে।
এদিকে, গত ১০ জুন সাবেক স্বামী কর্তৃক গণধর্ষণের শিকার হন তুরাগ থানার নারী পুলিশ কনস্টেবল। পরে ধর্ষণ মামলায় প্রধান আসামি করা হয় ধর্ষিতার সাবেক স্বামী খিলগাঁও থানার এএসআই কলিমুর রহমানকে। শনিবার রাতে ভিকটিমের বোন বাদী হয়ে খিলগাঁও থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলাটি করেন। কলিমুর রহমান ছাড়াও অজ্ঞাত আরো তিনজনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
তবে ঘটনার পরই ধর্ষিতার বড় বোন খিলগাঁও থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ তা নিতে অস্বীকৃতি জানায়। এদিকে মামলা হওয়ার পর থেকে এএসআই কলিমুর পলাতক আছেন।
১৩ জুন রাজধানী রামপুরা থানায় এক গৃহবধূ ধর্ষিতা হয়েছে।
এছাড়াও সম্প্রতি বিভিন্ন এলাকায় ধর্ষনের ঘটনা ও অভিযোগ শোনা যাচ্ছে হরহামেশাই। চলন্ত গাড়িতে ধর্ষনের ঘটনা দেশের ভাবমূর্তিকে যেমন জলাঞ্জলি দিচ্ছে তেমনি মানুষের বিবেক-মনুষ্যত্বের সলিল সমধিতে রূপ নিচ্ছে।
এক বেসরকারি জরিপে দেখা গেছে, গত ৪ মাসে সারাদেশে ১৫৮ নারী ধর্ষিতা হয়েছে এবং যৌন হয়রানির শিকার হয়েছে ৫৩ নারী।
সামাজিক মূল্যবোধ ও যথাযথ আইন প্রয়োগের অভাব, স্থানীয় প্রশাসন ও প্রভাবশালী মহলের ব্যাপক ভিত্তিক দূর্ণীতি এবং ধর্ষিতা ও তার পরিবারের মিডিয়ার আলোয় না থাকতে চাইবার প্রবনতা ধর্ষনকে আরো উৎসাহিত করছে।
মানুষের বিবেককে জাগ্রত করে মনুষ্যত্বকে উপরে তুলে ধরতে পারলে হয়তো ধর্ষনহ্রাস করা যেতে পারে। ধর্ষনকারীকে কঠোর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি বাস্তবায়নও জরুরী- এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।



« (পূর্বের সংবাদ)