মেইন ম্যেনু

দেশে ফিরে সেই বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

গত সোমবার ঢাকায় একজন ইতালিয়ান নাগরিক খুন হওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সরকার ঘৃণ্য এই খুনের সঙ্গে জড়িত দুর্বৃত্তদের খুঁজে বের করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুঃখজনক খুনের ঘটনা সম্পর্কে বিভ্রান্তিকর বিবৃতি প্রদানকারী একজন বিএনপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা উচিৎ।

মঙ্গলবার বিকেলে (স্থানীয় সময়) নিউইয়র্কে ইউএন মিশনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফরে অর্জিত অগ্রগতি জানাতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সফরের বিষয় ছাড়াও, সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসী সাংবাদিকরা বর্তমান রাজনৈতিক ও স্থানীয় ইস্যু নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘কেবল বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের সর্বত্রই কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে। তিনি বলেন, এমনকি নিউইয়র্ক সিটিতেই প্রকাশ্য দিবালোকে আওয়ামী লীগের দুজন নেতাকে খুন করা হয়েছিল।’

তিনি বলেন, ‘সরকার সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ রোধ করার লক্ষ্যে সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। কিন্তু, বিএনপি-জামায়াত জোট নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে মানুষ হত্যার পথ বেছে নিয়েছিল।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি-জামায়াত ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে হত্যার রাজনীতি শুরু করে এবং তারা ২০১৪ সাল পর্যন্ত তা অব্যাহত রেখেছিল। তারা ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত সন্ত্রাস চালিয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ অবশ্যই পুড়িয়ে মানুষ মারার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিচার করবে। কেউ রেহাই পাবে না। তাদের অবস্থান যাই হোক না কেন, আমরা তাদের বিচারের মুখোমুখি করবো।’

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংসদীয় ব্যবস্থায় সংসদে দ্বিতীয় বৃহত্তম দল হচ্ছে বিরোধী দল। এটি হচ্ছে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা। কিন্তু আমাদের দেশে আরেকটি দল রয়েছে যারা বিগত নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং জঙ্গিবাদী ও মানুষ মারার কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়েছিল। তারা কখনও কখনও পরিবহনে অগ্নিসংযোগ, এবং শিশু ও নারীসহ মানুষ হত্যা করে তাদের অস্তিত্ব প্রকাশ করে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনি যদি গণতন্ত্র, বিশেষ করে সংসদীয় পদ্ধতিতে বিশ্বাস করেন, তবে সংসদের দ্বিতীয় বৃহত্তম দলকে বিরোধী দল হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। আমাদের দেশের ক্ষেত্রে বিএনপি-জামায়াত নিজেদের রাজনৈতিক দল হিসেবে পরিচয় দিলেও তারা মূলত জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদী সংগঠন। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে কে বিরোধী দল।’

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে এমন মানুষ আছে যারা মানুষ হত্যা করে যেকোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তবে অস্বাভাবিক অবস্থার জন্য দায়ী খুনিদের বিচার হবেই।’

ঢাকায় ইতালির একজন নাগরিকের হত্যাকান্ডে আইএসের দায় স্বীকার সম্পর্কে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শিকাগো থেকে এক বার্তায় এই হত্যাকাণ্ডে আইএস সম্পৃক্ত বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে এখনো কেউ এ দাবি করেনি।
আমাদের গোয়েন্দাদের কাছে এমন কোনো তথ্য নেই।’

এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে অবশ্যই শক্তিশালী এক চক্র রয়েছে, তারা একটা পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চায়- একথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদ ও জঙ্গিবাদ কেবল বাংলাদেশে নয়, এটা এখন বৈশ্বিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে।’

তিনি বলেন, বাংলাদেশ শান্তিতে বিশ্বাসী- জঙ্গিবাদে নয়। আমরা বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান চাই না। একজন বিদেশি নাগরিকের হত্যাকাণ্ডে আমরা খুবই ব্যথিত। এটা দুঃখজনক ঘটনা।’

একজন ইতালীয় নাগরিকের হত্যাকাণ্ডের পর ঢাকাস্থ কয়েকটি দূতাবাস ঢাকায় অবস্থানকারী তাদের নাগরিকদের জন্য রেড অ্যালার্ট জারির ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘রেড অ্যালার্টের কোনো যৌক্তিকতা নেই। নাজমুল যখন নিউইয়র্কে নিহত হয়েছিলেন, সে সময় আমরা এ ধরনের কোনো রেড অ্যালার্ট দেখিনি।’

তিনি বলেন, ‘নিউইয়র্কে কয়েক বছর আগে দু’জন বাংলাদেশের নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্র সরকার রেড অ্যালার্ট জারি করেনি। অন্যান্য দূতাবাসগুলোও তাদের নাগরিকদের প্রতি এ ধরনের কোনো অ্যালার্ট জারি করেনি। আমি জানি না ঢাকায় দূতাবাসগুলো কেন এমনটা করলো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাদের নাগরিকদের জন্য রেড অ্যালার্ট দেয়ার কী কারণ থাকতে পারে। আমি জানি না, তবে ওই ঘটনার পরপরই বিএনপির একজন নেতার সন্দেহজনক তৎপরতা দেখেছি। আমি মনে করি, ওই বিএনপি নেতাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে এ হত্যাকাণ্ড রহস্যের উন্মোচন হতে পারে। দেশে ফিরে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেবো।’

তিনি বলেন, ‘অষ্ট্রেলিয়ার ক্রিকেট টিম কেন বাংলাদেশ সফরে আসছে না, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’

শেখ হাসিনা বলেন, অতীতে আমরা এ ধরনের ঘটনা দেখেছি। পাকিস্তান ও ভারতীয় দল বাংলাদেশে খেলেছে। এমন কি বিশ্বকাপ ক্রিকেটের আয়োজনও হয়েছিল এখানে। এটা সম্পূর্ণভাবে অষ্ট্রেলিয়ার ব্যাপার যে, কেন তারা বাংলাদেশে সফরে না আসার আকস্মিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ অতীতে পূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে অনেক ক্রীড়ানুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। এসব অনুষ্ঠানে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে অনেক দেশেই তা ঘটেছে- কিন্তু বাংলাদেশে নয়। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থার খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার মতো যথেষ্ট দক্ষতা রয়েছে। এ ব্যাপারে আমাদের জনগণও খুবই সচেতন।’

ধর্মীয় স্বাধীনতা সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করেছে। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা ভোগ করবে। ইসলামও একথা বলে।’

তিনি বলেন, কেউ ধর্মীয় রীতি-নীতি অস্বীকার করলে এটা তার নিজস্ব ব্যাপার। কিন্তু কেউ ধর্ম বিশ্বাসীদের (আস্তিক) অনুভূতিতে আঘাত দিতে পারে না। যদি কারো ধর্মে বিশ্বাস না থাকে, তবে তিনি ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করবেন না। কিন্তু অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়া অগ্রহণযোগ্য। কারো এটা করা উচিৎ নয়। আমার চোখে এটা জঘন্য কাজ।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার এ ধরনের পরিস্থিতি মোকাবিলার পথ খুঁজছে। অন্যের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার ঘটনা চলতে থাকলে তা হবে একজন মানুষের সাংবিধানিক অধিকারের লঙ্ঘন। আমাদের ধর্ম অবমাননা বন্ধে ব্যবস্থা নিতেই হবে। অন্যথায় এমন ঘটনা অব্যাহত থাকবে।

এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ও তার ছেলে তারেক রহমান দুর্নীতি ও গ্রেনেড হামলা মামলায় শাস্তি পাবেন কি না, তা নির্ধারণ করবে আদালত। তবে তিনি একথা বলেন যে, তিনি সব সময় অপরাধে দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের শাস্তির পক্ষে।

অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত, পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহিমুদ আলী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ড. আব্দুল মোমেন, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম এসময় উপস্থিত ছিলেন।