মেইন ম্যেনু

দেশে মক্কা-মদিনা স্টাইলে পশু কোরবানি

আসন্ন ঈদুল আজহায় রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন নগরীতে মক্কা-মদিনা স্টাইলে সুনির্দিষ্ট স্থানে পশু কোরবানির ব্যবস্থা করতে চায় সরকার। এজন্য পশু কোরবানি করতে ঢাকাসহ সব সিটি করপোরেশনে স্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে একাজ সম্পন্ন করতে নাগরিকদের ওপর কোনো জোর-জবরদস্তি করা হবে না।

আজ বুধবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক এ কথা জানিয়েছেন। ধর্মীয় ভাবগাম্বীর্যে আসন্ন ঈদুল আজহা উদযাপন ও স্বাস্থ্যসম্মত সুন্দর কোরবানি ব্যবস্থাপনা নিয়ে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার সঙ্গে বৈঠক শেষে সচিব এ কথা জানান।

সচিব আবদুল মালেকের সভাপতিত্বে সভায় প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের প্রতিনিধি ড. ইসমত মাহমুদা পাওয়ার প্রজেক্টের মাধ্যমে ঈদুল আজহার সুষ্ঠু কোরবানি ব্যবস্থাপনার ওপর প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের তৈরি কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরেন। এসময় বিভিন্ন সিটি করপোরেশন, পৌরসভা ও মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সচিব আবদুল মালেক বলেন, কোরবানি অনুষ্ঠানের জন্য মাওলানার তালিকা করা হয়েছে ৬৯৬ জনের। এছাড়া মাংস প্রস্তুতের জন্য ৪৮০ জন কসাইয়ের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। প্রথমিকভাবে এ তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এ সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

সচিব বলেন, সুনির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাইয়ের প্রয়োজনে আমরা মানুষের বাড়ি বাড়ি যাবো। তাদের বারবার অনুরোধ করবো। তাদের দয়া-দাক্ষিণ্য চাইবো। তারপরও যেন তারা নির্দিষ্ট স্থানে পশু জবাই দিতে নিয়ে আসেন সে চেষ্টা থাকবে আমাদের।

তিনি বলেন, আসন্ন কোরবানিতে নাগরিকদের তাৎক্ষণিক সেবা দিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হবে। অভিযোগ, সমস্যা আসা মাত্রই সমাধান করা হবে।

সচিব বলেন, পশু জবাই কেন্দ্রে নিয়ে আসতে নাগরিকরা যাতে কোনো ধরনের ভোগান্তিতে না পড়েন সেদিকে লক্ষ্য রাখা হবে। তাদের সবধরনের অসুবিধা তাৎক্ষণিক সমাধান করা হবে।

তিনি বলেন, পবিত্র মক্কা ও মদিনা যেখানে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি হয় সেটা অনুসরণ করে ত্যাগের মহিমা বজায় রেখে দেশে সুনির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি ব্যবস্থাপনা করতে চাই। যাতে পশুর রক্ত, বর্জ্য সঠিক সময়ে ঠিকভাবে অপাসরণ করতে পারি। পশু জবাইয়ের পরও যাতে শহরগুলো সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন থাকে।

সভায় বলা হয়, আসন্ন ঈদুল আজহায় সিটি, পৌর ও জেলা শহরগুলোর নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি, বর্জ্য অপসারণসহ সার্বিক বিষয়ের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়। প্রাথমিকভাবে ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনাসহ বিভিন্ন সিটি ও পৌর এলাকার নির্দিষ্ট স্পট, পশু জবেহকারী মাওলানা ও মাংস প্রক্রিয়াকারী কসাইর নামের একটি তালিকা ঠিক করা হয়।

ঢাকা সিটি করপোরেশন উত্তরে প্রাথমিকভাবে ঠিক করা হয় ২০৪টি স্থান। মাওলানার সংখ্যা ৩৩৬ জন। কসাই ২০৫ জন। এটি আরও বাড়বে।

ঢাকা সিটি দক্ষিণে সুনির্দিষ্ট কেন্দ্র হলো ৩২৪টি। মাওলানা ৩৬০ জন। কসাই সংখ্যা ২৭৫ জন। এটি আরও বাড়বে।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ৩৮৭টি কেন্দ্র। মাওলানা ৭৫০ জন, আর কসাইর তালিকা করা হচ্ছে।

খুলনা সিটিতে কেন্দ্র হলো ১৫৫টি। মাওলানা ১৭০, কসাই ১৭৫ জন। নারায়ণগঞ্জ সিটিতে ১৯০ কেন্দ্র। ইমাম ২০০।

গাজীপুর সিটিতে ৪১৪টি কেন্দ্র। প্রতি কেন্দ্রের জন্য একজন মাওলানা ও একজন কসাই।

রাজশাহী সিটিতে ১৫০ কেন্দ্র, মাওলানা ৩৭৭, কসাই ২৭৫ জন।

রংপুর সিটিতে ৩৩ কেন্দ্র, প্রতি কেন্দ্রে একজন মাওলানা ও একজন কসাই।

বরিশাল সিটিতে ১৪০ কেন্দ্র। ২৮০ জন মাওলানা ও ১৭৫ জন কসাই।

সিলেট সিটিতে ২৭টি কেন্দ্র। তবে এ সিটিতে কমপক্ষে একশটি কেন্দ্র করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

কুমিল্লা সিটিতে প্রাথমিক তালিকা তৈরি করা হচ্ছে বলে জানানো হয়। একইভাবে পৌর এলাকাগুলোতেও সুনির্দিষ্ট স্থানে কোরবানির প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।