মেইন ম্যেনু

দেশে শিল্পায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা শীর্ষক মতবিনিময় সভা

এফবিসিসিআই-এর উদ্যোগে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের সাথে এফবিসিসিআই-এর “দেশে শিল্পায়নে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ভূমিকা” শীর্ষক একটি মতবিনিময় সভা সোমবার, ১০ আগস্ট ২০১৫ তারিখ এফবিসিসিআই সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এফবিসিসিআই-এর সভাপতি জনাব আব্দুল মাতলুব আহমাদ উক্ত মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন।

সভায় এফবিসিসিআই-এর প্রথম সহ-সভাপতি জনাব মোঃ সফিউল ইসলাম (মহিউদ্দিন), পরিচালক জনাব সাফকাত হায়দার, জনাব আবু নাসের, মিসেস হাসিনা নেওয়াজ, জনাব ইসমাইল হোসেন, জনাব মাসুদ পারভেজ ইমরান, আলহাজ্ব হারুন-অর রশিদ, জনাব মনসুর আহমেদ কালাম বাংলাদেশ লিজিং এন্ড ফাইন্যান্স কোম্পানীজ এসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান জনাব আসাদ খান, এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান জনাব আলী রেজা ইফতেখার, সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মি. প্রদীপ কুমার দত্ত, এফএএস ফাইন্যান্স এন্ড ইনভেষ্টমেন্ট লিঃ-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক জনাব রাশেদ শাহরিয়ারসহ বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসমূহের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

এফবিসিসিআই সভাপতি জনাব আব্দুল মাতলুব আহমাদ বলেন, সকলের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় দেশের অর্থনীতি বর্তমানে একটি শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছেছে। গত কয়েক বছর ধরে আমাদের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশের উপর স্থিতিশীল রয়েছে। মুডি’স সহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রেটিং-এ দেশের অর্থনীতিক সক্ষমতা তুলে ধরা হচ্ছে। বাংলাদেশ বর্তমানে ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চায়না এবং সাউথ আফ্রিকা (ব্রিকস) এর পরবর্তী নেক্সট ইলেভেন-এর অন্যতম সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভৌগোলিক অবস্থান, প্রতিযোগিতামূলক শ্রমমূল্য, শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার প্রভৃতি কারনে বাংলাদেশ শিল্পায়নের জন্য একটি অন্যতম সম্ভাবনাময় দেশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে আর্থিক খাতের ব্যাপ্তি বেড়েছে বহুগুন। বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাত ক্রমেই সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। বৈশ্বিক মন্দা পরবর্তী অবস্থা, দেশীয় বাস্তবতা এবং যুগের চাহিদার প্রেক্ষাপটে সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজড করার মাধ্যমে বিশেষ করে অনলাইন ব্যাংকিং, অটোমেটেড পেমেন্ট সিষ্টেম, মোবাইল ব্যাংকিং প্রভৃতির মাধ্যমে ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে পেপারলেস ব্যাংকিং জগতে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়েছে। এছাড়াও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও আভ্যন্তরীন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাপনাসহ সামগ্রিক কর্পোরেট সুশাসনের বিষয়ে নজর দেয়ার ফলে ব্যাংকিং খাতে শৃংখলা জোরদার হয়েছে। সেসাথে দেশের আর্থিক ও বানিজ্যিক কার্যক্রমের সঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থার সম্পৃক্ততা আরও বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বাস্তবতার প্রেক্ষিতে যেহেতু দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম বিশেষ করে বিনিয়োগ ও উৎপাদনের সাথে ব্যাংকিং খাত সরাসরি সম্পৃক্ত সেজন্য অর্থনৈতিক কার্যক্রমকে আরও জোরদার করার জন্য ব্যাংকিং সুযোগ-সুবিধা ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করা জরুরী। বিশেষ করে উৎপাদন ব্যবস্থাকে গতিশীল করার জন্য ব্যাংকের সুদের হার সহনীয় বা সামঞ্জস্যপূর্ন থাকা বাঞ্চনীয়।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিযোগী বেশির ভাগ দেশের ঋণের সুদের হার বাংলাদেশের চেয়ে কম। ফলে কম সুদে ঋণ নিয়ে সেসব দেশের ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছেন। সুদের হার বেশি হলে বিনিয়োগ কম হবে। ফলে জনবহুল এ দেশে কাঙ্খিত কর্মসংস্থান ও দারিদ্র বিমোচন হবে না। প্রবৃদ্ধির ধারাও ব্যাহত হবে। বর্তমানে দেশে উচ্চ সুদের কারনে ঈড়ংঃ ড়ভ ফড়রহম নঁংরহবংং বেড়ে যাচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিনিয়োগের স্বার্থে তিনি সকল খাতের ব্যাংক ঋণের সুদের হার ঈড়ংঃ ড়ভ ঋঁহফ + ২.৫% (তবে সুদের হার সর্বোচ্চ ৯ শতাংশ)-এ নামিয়ে আনতে উদ্যোগ নেয়ার জন্য অনুরোধ জানান।

সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন যে, উৎপাদনশীল খাতকে কার্যকর করার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠাসমূহের ভূমিকা অনস্বীকার্য। উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করার স্বার্থে ব্যাংক সুদের স্প্রেড ও সুদের হার কমিয়ে আনার ক্ষেত্রে বিরাজমান বাধাগুলি চিহ্নিত করে তা সমাধান করা খুবই জরুরী। ব্যাংকিং খাতে নন-পারফরমিং লোন কমিয়ে আনতে না পারলে সুদের হার হ্রাস করা কঠিন হবে। দেশের ৬৪টি জেলায় শিল্প স্থাপন ও এসএমই খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে ঋণের খরচ (কস্ট অব ফান্ড) কমানোর উপর সভায় গুরুত্ব আরোপ করা হয়। এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের বর্তমান ব্যাংক রেট ৫ শতাংশ থেকে হ্রাস করার বিষয়ে প্রস্তাব করা হয়। এছাড়া ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ব্যালেন্সশীটের মান উন্নয়নের উপর সভায় গুরুত্ব প্রদান করা হয়।